নীলফামারীর কিশোরীগঞ্জ উপজেলার রণচণ্ডী ইউনিয়নের বাফলা গ্রামে নিজ বসতভিটায় বিভিন্ন প্রজাতির ফুল চাষ করে স্বাবলম্বী হয়েছেন গোপীনাথ বর্মন নামে এক ফুল চাষী। গেল কয়েক বছর ধরে বিভিন্ন প্রজাতির ফুল ও চারা বিক্রি করে তার বাৎসরিক আয় করছেন প্রায় ২ লক্ষ টাকা। শুধু তাই নয়, আসন্ন ১৪ ফেব্রুয়ারী ভালবাসা দিবস ও ২১ ফেব্রুয়ারী উপলক্ষ্যে দুইলক্ষ টাকার বিভিন্ন প্রজাতির ফুল বিক্রি করেছেন তিনি।
সম্প্রতি সরেজমিনে জেলার কিশোরীগঞ্জ উপজেলার রণচণ্ডী ইউনিয়নের বাফলা গ্রামে গোপীনাথ বর্ম্মনের ফুলের বাগানে গিয়ে দেখা গেছে, গাঁদা, রজনীগন্ধা, অটিস্টিক, জেরবেরা, গোলাপ, গ্লোরিয়া, ক্যালেন্ডুলাসহ প্রায় ৫০ প্রজাতির দেশী ও বিদেশি চারা দিয়ে ফুলের বাগান করেছেন কৃষক গাপীনাথ।
প্রতিদিন শত শত ফুলপ্রেমী নারী-পুরুষ দর্শনার্থী ভিড় জমাচ্ছেন গোপীনাথের বাগানে। বিভিন্ন প্রজাতির ফুলের সৌন্দর্য আর সুগন্ধে বিমোহিত হচ্ছেন দর্শনার্থীরা। কথা হলে, ফুল চাষী গোপীনাথ বর্ম্মন জানান, আমি আমার পরিবারের দারিদ্র্যতা বিমোচনের জন্য ২০০১ সালে বসতবাড়ির বিভিন্ন স্থানে বাণিজ্যিকভাবে ফুল চাষ শুরু করে প্রথম থেকেই ব্যাপক সাফল্য পাই।
পরে ধীরে ধীরে ফুল চাষ বাড়িয়েছি। বর্তমানে আমার পাঁচ বিঘা বাগানে এখন বিদেশিসহ প্রায় ৫০ প্রজাতির ফুল রয়েছে। গত দুই সপ্তাহ ধরে ভালোবাসা দিবস ও ২১ ফেব্রুয়ারী উপলক্ষে আমি প্রায় ২ লক্ষাধিক টাকার বিভিন্ন প্রজাতির ফুল পাইকারি বিক্রি করেছি। এই পাঁচ বিঘা বাগান থেকে বছরে গড়ে ২ লক্ষ টাকা আয় হচ্ছে।
জানতে চাইলে, নীলফামারী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ডাঃ এস এম আবু বকর সাইফুল ইসলাম জানান, আমি এ জেলায় যোগদান করার পর শুনেছি গোপীনাথ উপজেলায় প্রথম ফুল চাষি। শুরুর দিকে তার বাগান নিয়ে এলাকার অনেকেই তাকে বকাঝকা করলেও হাল ছাড়েননি তিনি।
কিশোরীগঞ্জ উপজেলা কৃষি দপ্তর থেকে ফুলচাষী গোপীনাথকে ফুল চাষের জন্য যথেষ্ট প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ দিয়েছে। ফুল চাষ করে তিনি আজ স্বাবলম্বীর কাতারে। এদিকে, জেলার কয়েকটি ফুলের দোকান ঘুরে দেখা গেছে, প্রায় প্রতিটি ফুলের দোকানের সামনে ছোট-বড় ক্রেতাদের উপচে পড়া ভির। ২১ ফেব্রুয়ারীকে কেন্দ্র করে বাহারী ফুল দিয়ে বিভিন্ন ধরণের মালা ও তোরা তৈরীতে ব্যস্ত সময় পার করছেন ফুল বিক্রেতারা।
