নিজস্ব প্রতিবেদক :: পর্ষদের সঙ্গে দূরত্ব ও নানা অনিয়মের দায়ে পদত্যাগ করলেন ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) ব্যবস্থাপনা পরিচালক তারিক আমিন ভূঁইয়া।
মঙ্গলবার রাতে প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান ইউনূসুর রহমানের কাছে ই-মেইলে পদত্যাগপত্র পাঠান তিনি। ইউনূসুর রহমান গনমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
এর আগে আইন লঙ্ঘন করে পছন্দের লোকদের ভুতুরে পদোন্নতি, স্বেচ্ছাচারিতা এবং ক্ষমতার অপব্যবহার নিয়ে মঙ্গলবার প্রতিবেদন প্রকাশ করে যুগান্তর। বিষয়টি দিনভর আলোচনায় ছিল।
জানা গেছে, এমডি ও পরিচালনা পর্ষদের দূরত্বে দেশের বৃহত্তম শেয়ারবাজার ডিএসইতে অচলাবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। সম্প্রতি প্রতিষ্ঠানে পছন্দের কর্মকর্তাদের গণপদোন্নতি দেওয়া হলে জরুরি বৈঠক করে সোমবার তা আটকে দেয় পরিচালনা পর্ষদ। কিন্তু পর্ষদের সিদ্ধান্তকে পাত্তা না দিয়ে মঙ্গলবার সকালে পদোন্নতির ঘোষণা দেন তারিক আমিন।
বোর্ড সূত্র বলছে, এমডিকে নিয়ে চরম বিপাকে ছিলেন তারা। কোনো এক অদৃশ্য কারণে কাউকে তোয়াক্কা করছেন না এ কর্মকর্তা। ফলে চাকরিতে যোগদানের এক বছর পার হলেও তার কনফারমেশন (চুক্তি চূড়ান্তকরণ) দিচ্ছে না পর্ষদ।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, শেয়ারবাজারে প্রাথমিক নিয়ন্ত্রক সংস্থা ডিএসই। বর্তমানে এখানে তিন শতাধিক কোম্পানি তালিকাভুক্ত। ফলে এ প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনায় এ ধরনের সংকট তৈরি হলে পুরো বাজারে এর প্রভাব পড়বে।
এ ব্যাপারে ডিএসইর চেয়ারম্যান ইউনূসুর রহমান মঙ্গলবার যুগান্তরকে বলেন, প্রতিষ্ঠানে পদোন্নতির ব্যাপারে এমডির সিদ্ধান্ত যথাযথ হয়নি। এ কারণে আমরা জিএম ও এর উপরের পদোন্নতি বন্ধ রাখতে বলেছিলাম। এরপর তিনি কী করেছেন তা আমরা জানি না। আগামী বৈঠকে তার কাছে বোর্ডের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের অগ্রগতি জানতে চাইব। সেক্ষেত্রে আইন লঙ্ঘন বা অনিয়ম পেলে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে এর আগেই পদত্যাগ করলেন এমডি।
এ বিষয়ে তারিক আমিন ভুঁইয়ার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনো মন্তব্য করবেন না বলে জানান।
জানা গেছে, এ নিয়ে পরপর ৫ জন এমডি পদত্যাগ করলেন। এর আগে পর্ষদের আচরণে ক্ষুদ্ধ হয়ে গত বছরের ২১ অক্টোবর পদত্যাগ করেন কাজী ছানাউল হক। এর ২০১২ সালের ২৮ মে পদত্যাগ করেন তৎকালীন ডিএসইর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ড. মোশাররফ হোসেন।
তবে বাজারে খারাপ সংবাদ যাবে এই বিবেচনায় ওই সময়ে পদত্যাগপত্র গ্রহণ না করে বিষয়টির নিষ্পত্তি করা হয়। এছাড়াও শেয়ারবাজার নিয়ে খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদের রিপোর্টে সহায়তা করায় ২০১১ সালে তৎকালীন সিইও সতীপতি মৈত্রকে পদত্যাগে বাধ্য করা হয়। এর নিয়োগের ৫ মাসের ব্যবধানে ২০০৯ সালে তৎকালীন সিইও শরীফুল ইসলামকেও পদত্যাগ করতে হয়।
জানা গেছে, ডিএসইর ৯৫জন কর্মকর্তাকে পদোন্নতি দেওয়ার জন্য সোমবার চিঠি ইস্যু করা হয়। এরমধ্যে ডিজিএম থেকে সিনিয়র জিএম পর্যায়ের কর্মকর্তা রয়েছেন। কিন্তু নিয়ম অনুসারে জিএম এবং এর উপরে পদোন্নতির জন্য এনআরসির (নমিনেশন অ্যান্ড রিমিউনারেশন কমিটি) অনুমোদন লাগে। এই অনুমোদন না থাকায় সোমবার রাতে অনুষ্ঠিত পর্ষদের সভায় জিএম ও সিনিয়র জিএমদের পদোন্নতি বাতিল করতে বলা হয়। কিন্তু তা বাতিল না করে মঙ্গলবার সকালেই জিএম পদোন্নতির ঘোষণা দেওয়া হয়। বিষয়টি ভালোভাবে নেয়নি পর্ষদ।
