কুমিল্লা প্রতিবেদক :: কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে গোয়ালঘর থেকে মাজারের খাদেম রেজাউল করিমের অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
বুধবার সকালে উপজেলার চিওড়া ইউনিয়নের লতিফ শিকদার গ্রামের পীরবাড়ি থেকে তার লাশ করা হয়।
স্থানীয়রা জানান, লতিফ শিকদার মাজারের খাদেম রেজাউল করিম (৬০) গত রোববার সকাল ৬টার দিকে মাজারের লাইট বন্ধ করার জন্য ঘর থেকে বের হন। তার পর থেকেই নিখোঁজ ছিলেন তিনি।
এর পর আত্মীয়স্বজনসহ সম্ভাব্য সব স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান পাননি। মঙ্গলবার বিকালে পাশের বাড়ির লতিফা বেগম নামে এক নারী ঘোয়ালঘরের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় গন্ধ পেয়ে পরিবারের লোকজনকে বিষয়টি জানান।
পরে পরিবারের সদস্যরা ঘোয়ালঘরের তালা খুলে খড়ের গাদার নিচে রেজাউল করিমের অর্ধগলিত লাশ পড়ে থাকতে দেখেন। পরে খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে লাশ উদ্ধার করে।
প্রতিবেশী ইকবাল হোসেন বলেন, স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে প্রায় ঝগড়া লেগে থাকত। আমরা বিষয়টি কয়েকবার মীমাংসা করে দিলেও তাদের মধ্যে কোনো মিল হতো না। গত রোববার থেকে শুনেছি রেজাউল করিম নিখোঁজ। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় জানতে পারি, গোয়ালঘরের ভেতরে তার অর্ধগলিত মরদেহটি পড়ে আছে।
নিহত রেজাউল করিমের বোন রোকেয়া বেগম বলেন, আমার ভাই অনেক ভালো মানুষ ছিলেন। তিনি মাজারের খাদেম ছিলেন। তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে পুলিশ মূল রহস্য বের করবে এটি আমি বিশ্বাস করি।
রেজাউল করিমের স্ত্রী রাশেদা বেগম বলেন, তিনি একজন মানসিক রোগী। সবসময় আমাকে মারধর করতেন। শুক্রবার রাত ১২টার দিকে রান্না করা মসুরের ডালের মধ্যে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে আমাকে ও আমার মেয়েকে খাওয়ায়। পরে আমি দেখি আমার গলায় রশি পেঁচিয়ে আমাকে হত্যার উদ্দেশ্যে চেপে ধরেছে। আমি চিৎকার দিলে আশপাশের লোকেরা এসে আমাকে উদ্ধার হাসপাতালে নিয়ে যায়।
এ বিষয়ে চৌদ্দগ্রাম থানার ওসি শুভ রঞ্জন চাকমা বলেন, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে পেলে জানা যাবে এটি হত্যা না আত্মহত্যা। এ ছাড়া আমরা তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছি।
