সেতুর নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার পরও দুপাশে সংযোগ সড়ক তৈরিতে দেরি হওয়ার বিষয়টি বহুল আলোচিত। জানা গেছে, মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার কুলাউড়া-শরীফপুর সড়কে মনু নদের উপর শতকোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত সেতুর সংযোগ সড়ক তৈরি না হওয়ায় স্থানীয় জনগণের দুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করেছে।
বাধ্য হয়ে এলাকাবাসী সেতুর দুপাশে বাঁশের মই স্থাপন করেছে। বছরখানেক আগে সেতুটির নির্মাণকাজ শেষ হলেও জমি অধিগ্রহণজনিত জটিলতায় সংযোগ সড়ক তৈরির কাজ শুরুই হয়নি। এ অবস্থায় উঁচু সেতুর দুপাশে মই স্থাপন করে প্রতিদিন চরম ঝুঁকি নিয়েই সেতু পার হচ্ছে সেখানকার হাজার হাজার মানুষ।
উল্লেখ্য, এলাকাবাসীর দাবির প্রেক্ষাপটে এ সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেয় সওজ অধিদপ্তর। কিন্তু সেতুর দুই পাশের সংযোগ সড়ক নির্মাণে দেরি হওয়ার সেতুটি এলাকাবাসীর কোনো কাজে আসছে না। এর আগেও দেশের বিভিন্ন স্থানে সংযোগ সড়কহীন সেতু তৈরির নজির রয়েছে। দীর্ঘ সময় অব্যবহৃত থেকে সেগুলো নষ্ট ও পরিত্যক্ত হওয়ার ঘটনাও ঘটেছে।
জনগণের করের অর্থের এমন অপচয় কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। সড়কের সেতু নিয়ে অন্যরকম ঘটনাও আছে। সড়কের অস্তিত্ব নেই এমন স্থানেও সেতু নির্মাণ করা হয়েছে। প্রশ্ন হচ্ছে, এসব সেতু নির্মাণ করা হয়েছে কার স্বার্থে? উন্নয়নের নামে মূলত স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও অসাধু কিছু কর্মকর্তার পকেট ভারি করার জন্যই এমন প্রকল্প গ্রহণ করা হয়ে থাকে। সরকারি অর্থে স্থানীয় প্রভাবশালীদের সেতু বিলাসের বিষয়টিও উদ্বেগজনক।
যে কোনো সেতু নির্মাণের প্রকল্প হাতে নেওয়ার আগে তা জনগণের কতটা উপকারে আসবে এবং সংশ্লিষ্ট এলাকার সার্বিক উন্নয়নে কতটা ভূমিকা রাখবে, সেসব বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া দরকার। বস্তুত সব সরকারের আমলেই একশ্রেণির কর্মকর্তা ঘাপটি মেরে থাকে বিভিন্ন প্রকল্প বের করে কমিশন আদায় করার জন্য।
এরাই স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও ঠিকাদারদের সঙ্গে আঁতাত করে অর্থ ভাগাভাগি করে নেয়। সেতু, কালভার্ট বা সড়ক এ ধরনের যে কোনো প্রকল্প পাশ করানোর আগে সেটা কতটা জনকল্যাণে আসবে, তা নিরূপণ করতে হবে। এছাড়া প্রকল্প পাশ হওয়ার পর তা নিয়মমাফিক নির্মিত হচ্ছে কিনা, তা-ও দেখভালের দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের। এ ধরনের প্রকল্পে কোনোরকম অনিয়ম বা দুর্নীতির ঘটনা ঘটলে দ্রুত তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে।
