ঢাকা রবিবার , ৬ জুলাই ২০২৫
আজকের সর্বশেষ সবখবর

যাদের নামাজ রোজা এমনকি তওবাও কবুল হয় না

আইএম নিউজ ডেস্ক
জুলাই ৬, ২০২৫ ৬:৪৩ অপরাহ্ণ
Link Copied!

নামাজ অন্যতম ফরজ ইবাদত। পবিত্র কুরআনে ৮২ বার নামাজের কথা এসেছে। ইরশাদ হয়েছে, ‘যখন তোমরা সালাত (নামাজ) পূর্ণ করবে তখন দাঁড়ানো, বসা ও শোয়া অবস্থায় আল্লাহকে স্মরণ করবে। অতঃপর যখন নিশ্চিন্ত হবে, তখন সালাত (পূর্বের নিয়মে) কায়েম করবে। নিশ্চয়ই সালাত মুমিনদের ওপর নির্দিষ্ট সময়ে ফরজ। (সুরা নিসা, আয়াত: ১০৩)।

হাদিসেও একাধিকবার নামাজ আদায়ের কথা এসেছে। সেই সঙ্গে গুরুত্ব দেয়া হয়েছে ওয়াক্তমতো নামাজ আদায়ের ওপরও। এমনকি খোদ মহান আল্লাহর কাছেও যথাসময়ে সালাত আদায় করা অধিক প্রিয় আমল।

আবদুল্লাহ ইবনু মাসঊদ (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে এসেছে, আমি রাসুল (সা.) কে জিজ্ঞাসা করলাম, কোন আমল আল্লাহর নিকট অধিক প্রিয়? জবাবে নবীজি (সা.) বললেন, যথাসময়ে সালাত আদায় করা। ইবনু মাসঊদ (রা.) পুনরায় জিজ্ঞাসা করলেন, এরপর কোনটি? তিনি বললেন, এরপর পিতা-মাতার প্রতি সদ্ব্যবহার। ইবনু মাসঊদ (রা.) আবার জিজ্ঞাসা করলেন, এরপর কোনটি? রাসুল (সা.) বললেন, এরপর আল্লাহর পথে জিহাদ বা জিহাদ ফী সাবিলিল্লাহ্। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৫০২)

এজন্য পরকালে সফল হতে মহান রবের হুকুম পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায়ের পাশাপাশি অন্যান্য সব নির্দেশ এবং রাসুল (সা.) এর দেখানো তরিকা অনুযায়ী আমল করতে হবে। তাহলেই পরকালে মিলবে কাঙ্ক্ষিত জান্নাত।

তবে ৬ ধরনের ব্যক্তি আছে, যাদের নামাজ রোজা মহান বাব্বুল আলামিনের দরবারে কবুল হয় না। এরমধ্যে এক শ্রেণির মানুষ আছে, যাদের তওবাও কবুল হয় না।

পলাতক গোলাম ও স্বামীর অসন্তুষ্টি নিয়ে রাতযাপন করা নারী

আবূ উমামা (রা.) আনহু থেকে বর্ণিত হাদিসে এসেছে, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন- ৩ ব্যক্তি এমন যাদের সালাত বা নামাজ তাদের কানও অতিক্রম করে না (কবুল হয় না)। ১. পলাতক গোলাম, যতক্ষণ না ফিরে আসে (মালিকের কাছে)। ২. এমন নারী যে তার স্বামীর অসন্তুষ্টিতে রাত্রিযাপন করে। ৩. এমন ইমাম যাকে মুসল্লিরা অপছন্দ করে। (মেশকাত, হাদিস: ১১২২; তিরমিজি, হাদিস: ৩৬০)

মিথ্যা বলা ব্যক্তি

আবূ হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে এসেছে, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন- যে ব্যক্তি মিথ্যা বলা ও সে অনুযায়ী আমল বর্জন করেনি, তার এ পানাহার (রোজা) পরিত্যাগ করায় আল্লাহর কোনো প্রয়োজন নেই। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ১৭৮২)

মদ পান

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন- মদ পানকারী ব্যক্তির ৪০ দিনের নামাজ কবুল করা হয় না। তবে সে তওবা করলে আল্লাহ তা’য়ালা তার তওবা কবুল করেন। এরপর যদি দ্বিতীয়বার সে মদ পান করে তাহলে আল্লাহ তা’য়ালা তার ৪০ দিনের নামাজ কবুল করেন না। যদি সে আবারও তওবা করে তাহলে আল্লাহ তা’য়ালা তার তওবা গ্রহণ করেন। পরবর্তীতে তৃতীয়বার যদি সে মদপানে লিপ্ত হয়, তাহলে তার ৪০ দিনের নামাজ আল্লাহ তা’য়ালা কবুল করেন না। তবে যদি সে তওবা করে আল্লাহ তা’আলা তার তওবা কবুল করেন।

তবে চতুর্থবারের মতো যদি ওই ব্যক্তি মদপানে লিপ্ত হয় আল্লাহ তা’য়ালা তার ৪০ দিনের নামাজ গ্রহণ করেন না। আর এরপর যদি সে তওবাও করে আল্লাহ তা’য়ালা তার তওবা ককুল করবেন না এবং তাকে ‘নাহরুল খাবাল’ থেকে পান করাবেন। এ সময় সাহাবীরা জিজ্ঞেস করেন, ইয়া রাসুলাল্লাহ! (সা.) ‘রাদগাতুল খাবাল’ কি? জবাবে নবীজি (সা.) বলেন, জাহান্নামীদের দেহ থেকে নির্গত পুঁজ ও রক্ত। (ইবনু মাজাহ, হাদিস: ৩৩৭৭; তিরমিজি, হাদিস: ১৮৬২)

গণক ও জ্যোতিষীর কাছে যাওয়া ব্যক্তি

মুহাম্মদ ইবনু মুসান্না আনাযী (রহ.) থেকে বর্ণিত একটি হাদিসে এসেছে, রাসুল (সা.) বলেছেন- যে ব্যক্তি আররাফ (গণকের) কাছে গেল এবং তাকে কোনো বিষয়ে জিজ্ঞাসা করল, ৪০ রাত তার কোনো সালাত (নামাজ) কবুল করা হয় না। (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ৫৬২৭)

সংবাদটি শেয়ার করুন....