মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মুদ্রাস্ফীতির তথ্য প্রকাশ ও সম্ভাব্য নতুন শুল্ক নীতির ঘোষণা ঘিরে আবারও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে বৈশ্বিক আর্থিক বাজার। এমন এক সময়ে, বিনিয়োগকারীদের চোখ এখন স্বর্ণের দামের দিকে। নিরাপদ সম্পদ হিসেবে পরিচিত এই মূল্যবান ধাতুর দাম ধীরে ধীরে ঊর্ধ্বমুখী, যা স্পষ্ট ইঙ্গিত দিচ্ছে- বিশ্ব অর্থনীতির বাতাসে এখন অনিশ্চয়তার গন্ধ। রয়টার্স ও গালফ নিউজ
আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সামান্য বেড়েছে। কারণ, বিনিয়োগকারীরা যুক্তরাষ্ট্রের জুন মাসের ভোক্তা মূল্যসুচকের (সিপিআই) তথ্যের দিকে তাকিয়ে আছেন, যা ফেডারেল রিজার্ভের ভবিষ্যৎ সুদের হার নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখতে পারে।
গ্রিনিচ সময় রাত ১টা ৫১ মিনিটে স্পট গোল্ডের দাম দাঁড়ায় প্রতি আউন্সে ৩ হাজার ৩৪৬.৯৪ মার্কিন ডলার, যা ০.১ শতাংশ বেশি। ইউএস গোল্ড ফিউচারের দাম স্থির রয়েছে ৩ হাজার ৩৫৫.৬০ ডলারে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, শুল্ক উত্তেজনার সময় স্বর্ণের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বাড়ে। কেসিএম ট্রেডের প্রধান বিশ্লেষক টিম ওয়াটারার বলেন, ৩ হাজার ৩৫০ ডলারের দিকে স্বর্ণের অগ্রগতি প্রমাণ করে যে এটি এখনও নিরাপদ সম্পদ হিসেবে দেখা হয়।’
তবে মার্কিন ট্রেজারি বন্ডের উচ্চ রিটার্ন ও ডলারের শক্তিশালী অবস্থান স্বর্ণের জন্য বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ওয়াটারার মনে করেন, ‘যদি কোনো বড় রাজনৈতিক অস্থিরতা না দেখা যায়, তবে ডলার বা ট্রেজারি ইল্ডে পতন না হলে স্বর্ণের ৩ হাজার ৪০০ ছোঁয়ার সম্ভাবনা কম।’
মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে যুক্তরাষ্ট্রের জুন মাসের সিপিআই তথ্য প্রকাশ পাবে। রয়টার্সের জরিপ বলছে, মোট মুদ্রাস্ফীতি বেড়ে ২.৭ শতাংশ হতে পারে এবং মূল মুদ্রাস্ফীতি ৩.০ শতাংশে পৌঁছাতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, মুদ্রাস্ফীতি বাড়লে ফেডের ওপর সুদ কমানোর চাপ বাড়বে, যা স্বর্ণের জন্য ইতিবাচক।
সোমবার (১৩ জুলাই) ২০১১ সালের পর সর্বোচ্চ দামে পৌঁছানোর পর মঙ্গলবার স্পট সিলভারের দাম বেড়ে দাঁড়ায় ৩৮.২৪ ডলার (০.৩ শতাংশ বৃদ্ধি)। প্লাটিনাম বেড়ে ১ হাজার ৩৬৮.৩০ ডলার এবং প্যালাডিয়াম ১ হাজার ১৯৪.৫২ ডলার হয়েছে।
দুবাইয়ে প্রতি গ্রাম স্বর্ণের দাম ৩৭৫ দিরহাম, কেনাকাটায় ভাটা
দুবাইয়ে ২২ ক্যারেট বর্তমানে স্বর্ণের দাম প্রতি গ্রাম ৩৭৪.৫ দিরহাম, যা সপ্তাহান্তের দামের সমান। এই উচ্চ মূল্যস্তরে পৌঁছানোর পর বেশিরভাগ গহনা দোকানেই ক্রেতার সংখ্যা ৩০ শতাংশ থেকে ৫০ শতাংশ কমেছে বলে জানিয়েছেন খুচরা বিক্রেতারা।
ব্যবসায়ীরা বলেন, ‘প্রতি বার যখন দাম ৩৭৫ দিরহামের কাছাকাছি যায়, মানুষ কেনাকাটা থামিয়ে দেয়। তারা আরও দাম বাড়ার পূর্বাভাসকে গুরুত্ব দেয় না, বরং অপেক্ষা করাকেই বেছে নেয়।’
গত এক মাসে সর্বোচ্চ দাম ছিল ৩৮৩ দিরহাম। আজকের বৈশ্বিক বাজার প্রবণতা দেখে ধারণা করা হচ্ছে, স্বর্ণের দাম ১ বা ২ দিরহাম পর্যন্ত বাড়তে পারে।
আরও পড়ুন: রাজধানী ছাড়িয়ে গ্রামীণ এলাকায় ছড়াচ্ছে ভয়াবহ ডেঙ্গু
বিশ্লেষকরা বলছেন, ট্রাম্পের নতুন ৩০ শতাংশ শুল্ক হুমকি এবং ইউরোপের সম্ভাব্য পাল্টা পদক্ষেপের আশঙ্কা বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামকে আরও চাঙ্গা করতে পারে।
দুবাইয়ের খুচরা ব্যবসায়ীরা বলছেন, এখন মৌসুম শেষ, তাই মূলত কিছু তাৎক্ষণিক (ইম্পালস) কেনাকাটা এবং ডিএসএস গোল্ড র্যাফেলের কারণে সামান্য বিক্রি হচ্ছে।
