ঢাকা শনিবার , ১৯ জুলাই ২০২৫
আজকের সর্বশেষ সবখবর

যুক্তরাষ্ট্রে বৈধতা পেল ডলার-পেগড ক্রিপ্টো, বাজারে রেকর্ড উত্থান

আইএম নিউজ ডেস্ক
জুলাই ১৯, ২০২৫ ১০:৫৮ অপরাহ্ণ
Link Copied!

বিশ্বের অর্থনৈতিক মানচিত্রে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিলো ক্রিপ্টোকারেন্সি খাত। শুক্রবার (১৮ জুলাই) প্রথমবারের মতো এই খাতের সম্মিলিত বাজারমূল্য ৪ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার ছাড়িয়ে গেছে, যা ক্রিপ্টোকে একটি প্রান্তিক প্রযুক্তি থেকে মূলধারার সম্পদশ্রেণিতে রূপান্তরের প্রতীক হিসেবে দেখা হচ্ছে। খবর রয়টার্স

এই মাইলফলকের পেছনে রয়েছে- যুক্তরাষ্ট্রে নীতিগত অগ্রগতি, আইন প্রণয়ন, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগের জোয়ার এবং বিশ্বব্যাপী ক্রমবর্ধমান গ্রহণযোগ্যতা।

বৃহস্পতিবার (১৭ জুলাই) মার্কিন কংগ্রেসের প্রতিনিধি পরিষদে পাস হওয়া এবং শুক্রবার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কর্তৃক স্বাক্ষরিত ‘জিনিয়াস অ্যাক্ট’ এই খাতে নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিয়েছে।

‘জিনিয়াস অ্যাক্ট’ আইন অনুযায়ী, ডলার-পেগড ক্রিপ্টোকারেন্সি স্টেবলকয়েনগুলোর জন্য যুক্তরাষ্ট্রে একটি সুনির্দিষ্ট নিয়ন্ত্রক কাঠামো তৈরি করা হয়েছে।

প্রতিনিধি পরিষদে বিলটি পাস হয় ৩০৮-১২২ ভোটে, যেখানে ডেমোক্র্যাটদের প্রায় অর্ধেক এবং অধিকাংশ রিপাবলিকান সদস্য সমর্থন দেন। বিলটি এর আগেই সিনেটে অনুমোদিত হয়েছিল।

শুক্রবার হোয়াইট হাউজে এক জমকালো আয়োজনে আইনটিতে স্বাক্ষর করেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। সেখানে উপস্থিত ছিলেন কংগ্রেস সদস্য, ক্রিপ্টো কোম্পানির নির্বাহী ও ট্রেজারি কর্মকর্তারা।

ট্রাম্প বলেন, ‘এই স্বাক্ষর আপনাদের কষ্টের স্বীকৃতি। এটা ডলারের জন্য ভালো, দেশের জন্য ভালো। আমেরিকাকে আমরা আবার স্বাধীনতার পথে ও নেতৃত্বের পথে ফিরিয়ে এনেছি এবং এটি এখন বিশ্বের ক্রিপ্টো রাজধানী।’

নতুন আইনে বলা হয়েছে- স্টেবলকয়েন ইস্যুকারীদের তাদের টোকেন সম্পূর্ণভাবে সমর্থিত রাখতে হবে মার্কিন ডলার বা স্বল্পমেয়াদি ট্রেজারি বিল দিয়ে। এছাড়া তাদের মাসে একবার তাদের রিজার্ভের বিবরণ জনসমক্ষে প্রকাশ করতে হবে।

ক্রিপ্টো খাতের নেতারা বলছেন, এই বিধানগুলো স্টেবলকয়েনের গ্রহণযোগ্যতা ও ব্যবহারিকতা বাড়াবে। বিশেষ করে ব্যাংক, খুচরা ব্যবসায়ী ও সাধারণ ব্যবহারকারীদের মধ্যে এই মুদ্রা দিয়ে তাৎক্ষণিক অর্থ স্থানান্তর সহজ হবে।

ক্রিপ্টো কোম্পানি কয়েনফান্ড’র প্রেসিডেন্ট ক্রিস পারকিন্স বলেন, ‘জিনিয়াস অ্যাক্ট ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। এটি ক্রিপ্টোকে একটি বৈধ ও মূলধারার সম্পদশ্রেণিতে পরিণত করার ভিত্তি তৈরি করেছে।’

বর্তমানে স্টেবলকয়েন বাজারের মূল্য প্রায় ২৬০ বিলিয়ন ডলার। স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকের পূর্বাভাস, ২০২৮ সালের মধ্যে এই বাজার ২ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে।

শুক্রবার ক্রিপ্টো খাতের সম্মিলিত বাজারমূল্য ছিল ৩.৯২ ট্রিলিয়ন ডলার। বিটকয়েন, যেটি খাতটির শীর্ষ মুদ্রা, এ সপ্তাহের শুরুতে ১ লাখ ২০ হাজার ডলার ছাড়িয়ে রেকর্ড গড়ে। এরপর এটি ১.৮ শতাংশ হ্রাস পেয়ে কিছুটা পিছিয়েছে।

বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান বার্নস্টেইন পূর্বাভাস দিয়েছে, ‘২০২৫ সালের মধ্যে বিটকয়েনের দাম ২ লাখ ডলারে পৌঁছাতে পারে।

ইথার, দ্বিতীয় বৃহত্তম ক্রিপ্টো মুদ্রা, শুক্রবার ৪.৫ শতাংশ বেড়েছে এবং গত তিন মাসে এটি দ্বিগুণ হয়েছে।

ক্রিপ্টো সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলোর শেয়ারও রেকর্ড গড়েছে। কয়েনবেস এবং রবিনহুড তাদের সর্বোচ্চ শেয়ারের দাম ছুঁয়েছে। কয়েনবেস’র শেয়ার ১ শতাংশ এবং রবিনহুড’র শেয়ার ৩ শতাংশ বেড়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের বড় বড় ব্যাংকগুলো এখন ধীরে ধীরে ক্রিপ্টো খাতে প্রবেশের প্রস্তুতি নিচ্ছে। শুরুতে তারা পাইলট প্রকল্প বা সীমিত ট্রেডিংয়ের মাধ্যমে অংশ নিতে পারে।

আরও পড়ুন: ‘চকরিয়ায় এনসিপির মঞ্চ ভাঙচুর করে বিএনপিও ফ্যাসিবাদের অনুসরণ করল’

ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট এক বিবৃতিতে বলেন, ‘নতুন প্রযুক্তি ডলারকে বৈশ্বিক রিজার্ভ মুদ্রা হিসেবে আরও শক্তিশালী করবে, ডলার ইকোনমিতে প্রবেশের সুযোগ বাড়াবে এবং ইউএস ট্রেজারির চাহিদা বাড়াবে।’

বিশ্লেষকেরা বলছেন, যেহেতু স্টেবলকয়েন সম্পূর্ণরূপে রিজার্ভে সমর্থিত থাকবে, তাই ইস্যুকারীরা আরও বেশি ট্রেজারি বিল কিনবে। ফলে সরকারের স্বল্পমেয়াদি ঋণ গ্রহণ আরও সহজ হবে।

যদিও আইনটি সমর্থন পেয়েছে বৃহৎ শিল্পপতি ও বিনিয়োগকারীদের, তবে কিছু সমালোচক এতে দুর্বলতা দেখছেন।

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল ইউএস’র উপনির্বাহী পরিচালক স্কট গ্রেটাক বলেন, ‘এই আইনে বড় প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর প্রভাব নিয়ন্ত্রণে কোনো ব্যবস্থা রাখা হয়নি। এছাড়া মানি লন্ডারিং ও বিদেশি হস্তক্ষেপ ঠেকানোর ব্যবস্থাও দুর্বল। এতে করে আমেরিকার আর্থিক ব্যবস্থা হয়ে পড়বে দুর্বল ও ঝুঁকিপূর্ণ।’

চলতি বছরের জানুয়ারিতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নিজেই চালু করেছেন একটি মেম কয়েন ট্রাম্প ডলার। মার্চে তিনি স্বাক্ষর করেন একটি নির্বাহী আদেশ, যাতে ‘স্ট্র্যাটেজিক বিটকয়েন রিজার্ভ’ গঠনের ঘোষণা দেয়া হয়।

আরও পড়ুন: অনেকে সংস্কারের কথা বলে, কিন্তু বাস্তবে মানে না: আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের

২০২৪ সালের নির্বাচনে ক্রিপ্টো খাতের পক্ষ থেকে ট্রাম্পসহ প্রো-ক্রিপ্টো প্রার্থীদের অনুদান দেয়া হয় ২৪৫ মিলিয়ন ডলার, যা ছিল ইতিহাসের অন্যতম বৃহৎ লবিং কার্যক্রম।

সংবাদটি শেয়ার করুন....