গত এক বছরে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কতটা কার্যকর ভূমিকা রাখতে পেরেছে এ প্রশ্ন সামনে এসেছে বারবার। বিশেষ করে ড. ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে পররাষ্ট্রনীতি কতটা বাস্তবায়নযোগ্য ছিল, তা নিয়ে উঠেছে নানা আলোচনা-সমালোচনা।
পেশাদার কূটনীতিক ও সাবেক পররাষ্ট্র সচিব তৌহিদ হোসেনেকে সরকারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেয়া হয় ঠিকই, তবে শুরু থেকে প্রশ্ন ছিল, কতটা ক্ষমতায়ন করা হয়েছে তাকে!
চরম চাপের মুখে চলে যেতে হয় পররাষ্ট্র সচিব জসীমউদ্দিনকে। আওয়ামী লীগের পছন্দসই রাষ্ট্রদূতদের ফিরতে বলা হলেও ফিরেন নাই অনেকে। যেখানে আছেন পুলিশের সাবেক আইজিপি জাভেদ পাটোয়ারিও।
অভ্যন্তরীণ অস্থিরতায় যখন টালমাটাল পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, তখন রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেয়ার সময়েও দেখা যায়নি তৌহিদ হোসেনকে। বিশেষ করে মানবিক করিডর, জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশনারের অফিস, মার্কিন শুল্কের বিষয়গুলোতে কতটা উপস্থিতি ছিল পররাষ্ট্রের, এমন প্রশ্ন অনেকেরই। সাবেক কূটনীতিক হুমায়ূন কবিরের মতে, যেকোন দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় চলে রাষ্ট্র প্রধানের নৈতিক সমর্থনে। বর্তমান সরকারের সময় এমনটি দেখা যায়নি।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের মতো একটি দেশ যখন রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিকভাবে যুগসন্ধিক্ষণে, তখন কূটনীতিকে সক্রিয়ভাবে কাজে লাগানোর সুযোগ ছিল। কিন্তু সেই সুযোগ যথাযথভাবে নেয়া হয়নি।
এর সঙ্গে যোগ হয়েছে নিয়োগ সংকট। আন্তর্জাতিক সর্ম্পকের বিশ্লেষকরা মনে করেন, পেশাগত কূটনীতিকদের বাইরে কাউকে নিয়োগ সবসময়ই প্রশ্নবিদ্ধ।
আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষক সাহাব এনাম খান বলেন, জাতীয় স্বার্থ ও চেতনার প্রতিফলন কৌশলগতভাবে দৃশ্যমান হলেও পররাষ্ট্রনীতির প্রয়োগে বড় ধরনের দুর্বলতা রয়েছে। নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতার অভাব এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ক্ষমতায়নের ঘাটতি এই দুর্বলতার মূল কারণ।
তিনি আরও বলেন, প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় থেকে পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে যেসব বক্তব্য আসে, তা অনেক সময় অস্পষ্ট ও অসম্পূর্ণ। এতে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আমাদের অবস্থান আরও দুর্বল হয়।
উভয় বিশ্লেষকই মনে করছেন, দেশে এতগুলো সংস্কার কমিশন তৈরী হলেও সেখানে পররাষ্ট্রনীতির বিষয়টি গুরুত্ব না পাওয়া দুঃখজনক।
