সম্প্রতি শুল্ক বাণিজ্য নিয়ে নরওয়ের অর্থমন্ত্রী জেন্স স্টলটেনবার্গকে ফোন করেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এ সময় তার কাছে নোবেল শান্তি পুরস্কার চান তিনি। বৃহস্পতিবার (১৪ আগস্ট) নরওয়ের দৈনিক ‘দাগেনস নায়ারিংস্লিভ’ পত্রিকার প্রতিবেদনের বরাতে এ খবর জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
এর আগে ইসরাইল, পাকিস্তান, কম্বোডিয়াসহ বেশ কয়েকটি দেশ শান্তি চুক্তি বা যুদ্ধবিরতিতে মধ্যস্থতা করার জন্য ট্রাম্পকে নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য মনোনীত করেছে। ট্রাম্প নিজেও জানিয়েছেন তিনি নোবেল পুরস্কারের যোগ্য। হোয়াইট হাউসের চারজন পূর্বসূরি এই পুরস্কার পেয়েছিলেন বলেও স্মরণ করিয়ে দেন তিনি।
গত মে মাসে ট্রাম্পের একটি আকস্মিক যুদ্ধবিরতির ঘোষণার ফলে পারমাণবিক অস্ত্রধারী শত্রু ভারত এবং পাকিস্তানের মধ্যে চার দিনের সংঘর্ষের অবসান ঘটে। ট্রাম্প তখন থেকে বারবার বলে আসছেন তিনি পারমাণবিক যুদ্ধ এড়াতে সক্ষম হয়েছেন এবং লাখ লাখ জীবন বাঁচিয়েছেন। এ জন্য কোনো কৃতিত্ব পাননি বলেও অভিযোগ করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সূত্রের বরাত দিয়ে নরওয়ের প্রত্রিকাটি জানিয়েছে, ‘অর্থমন্ত্রী জেন্স স্টলটেনবার্গ যখন অসলোর রাস্তায় হাঁটছিলেন তখনই হঠাৎ করে ডোনাল্ড ট্রাম্প তাকে ফোন করেন। তিনি নরওয়ের অর্থমন্ত্রীর কাছে নোবেল পুরস্কার দাবি করেন এবং শুল্ক নিয়েও আলোচনা করেন।’
মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট এবং মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ারসহ হোয়াইট হাউসের বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা এই ফোন কলে যুক্ত ছিলেন বলেও জানা গেছে। তবে এ বিষয়ে হোয়াইট হাউস এবং নরওয়েজিয়ান নোবেল কমিটি রয়টার্সকে কোনো মন্তব্য করেনি।
নরওয়ের পত্রিকাটি জানিয়েছে, ন্যাটোর সাবেক মহাসচিব স্টলটেনবার্গের সঙ্গে আলাপে ট্রাম্প এবারই প্রথম নোবেল পুরস্কারের প্রসঙ্গ তোলেননি। আগেও এ কাজ করেছেন তিনি।
শুক্রবার একটি সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে, ট্রাম্প ভারত-পাকিস্তান, ইসরায়েল এবং কিছু মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশের মধ্যে তার প্রথম মেয়াদে আব্রাহাম চুক্তিসহ বেশ কয়েকটি দ্বন্দ্বের সমাধানের কথা বলেছেন। তিনি আরও বলেন, ‘আমি যাই করি না কেন, নোবেল শান্তি পুরস্কার আমি পাব না।’
সূত্র: রয়টার্স
