‘আমার ভোট আমি দেব, যাকে খুশি তাকে দেব।’ গত ১৫ বছরে ভোটারদের এই অধিকার খর্ব হয়েছে। সেই কালো অতীত থেকে বের হয়ে এবার পেশীশক্তিহীন ভোটকেন্দ্রে যেতে চান সাধারণ মানুষ। এ জন্য সব দলের জন্য সমান সুযোগ ও ভোটারের নিরাপত্তা চান তারা।
পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে না পারার যে আক্ষেপ, আগামীর নির্বাচনে তা ঘুচবে সাধারণ মানুষের? নাকি আবার ভোটের নাটক মঞ্চস্থ হবে, এখনো তাদের সেই প্রশ্নের ঘোর কাটেনি।
এছাড়া বিগত সময়ের নির্বাচনে জালভোট, কেন্দ্র দখল আর খুনের ঘটনাও ছিল। গত তিনটি জাতীয় নির্বাচনের যে চিত্র ভোটারদের মনে গেঁথে গেছে, তা আগামী নির্বাচনে যে পুরোপুরি বদলাবে, এখনো সেই আস্থা রাখতে পারছেন না সাধারণ মানুষ।
এ ব্যাপারে একজন বলেন, নির্বাচন যদি সুষ্ঠুভাবে অনুষ্ঠিত হয়, তাহলে অবশ্যই ভোটকেন্দ্রে যাব এবং ভোট দেব।
দীর্ঘ বিরতির পর নির্বাচনী ডামাডোলে আবারও চায়ের কাপে ঝড় উঠছে। আড্ডায়-আলাপে প্রত্যাশা আর বাস্তবতার ব্যবচ্ছেদ চলছে। তাই এবার রাজনৈতিকগুলোর জবাবদিহিতা আর প্রার্থীদের স্বচ্ছতা কাঁচ দিয়ে দেখতে চান ভোটাররা।
এক ব্যক্তি বলেন, সেই ১৯৭১ সালের পর থেকে, রাষ্ট্রের নির্বাচিত যে জনপ্রতিনিধি, সরকার, তাদের কাছ থেকে জনগণ কিছুই পায়নি। বরং জনগণের কাছ থেকে তারা লুটপাট করেছে। নির্বাচনের মতো যদি নির্বাচন হয়, ভালো মানুষ যদি জনপ্রতিনিধি হয়, তাহলে পুরো সিস্টেমই ভেঙে পড়বে। দেশের মানুষ, সাধারণ মানুষ যেভাবে একটি দেশকে চায়, তারা সেভাবে এ দেশকে গড়ে তুলতে পারবে।
নির্বাচনকে সত্যিকার অর্থে প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক করতে হলে সব দলের অংশগ্রহণ আর লেভেল প্লেইং ফিল্ডের কথা বলছেন ভোটাররা। একইসঙ্গে ভোট দিয়ে নিরাপদে বাড়ি ফেরার নিশ্চয়তাও চান তারা।
ভোটকে নোট বানানোর মেশিন আর ক্ষমতাকে শোষণের হাতিয়ার―এই মন্ত্র থেকে বেরিয়ে নতুন ভাবনায় দেশ গড়বে নতুন কোনো সরকার, নতুন বাংলাদেশে সেই প্রত্যাশাটুকুই রাখছে সাধারণ মানুষ।
