পারমাণবিক অস্ত্র বহনে সক্ষম ক্ষেপণাস্ত্রের ‘সফল পরীক্ষা’ চালিয়েছে ভারত। দেশটি জানিয়েছে, তারা সফলভাবে একটি মধ্যম-পাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণ করেছে, যা কার্যকর হলে পুরো চীনের যেকোনো স্থানে পারমাণবিক ওয়ারহেড বহন করতে সক্ষম হবে।
বিশ্বের দুই সর্বাধিক জনবহুল দেশ ভারত ও চীন দীর্ঘদিন ধরেই দক্ষিণ এশিয়ায় প্রভাব বিস্তারের প্রতিদ্বন্দ্বিতায় লিপ্ত। ২০২০ সালে সীমান্তে সংঘর্ষে সেনা নিহত হওয়ার পর দুই দেশের সম্পর্ক তলানিতে গিয়ে ঠেকে। পরে সময়ের ব্যবধানে সম্পর্ক কিছুটা উন্নত হয়।
এদিকে ভারত যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া ও জাপানকে সঙ্গে নিয়ে গঠিত কোয়াড নিরাপত্তা জোটের সদস্য, যা সাধারণভাবে চীনের মোকাবিলার কৌশল হিসেবে দেখা হয়।
ভারতের আরেক প্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তানেরও পারমাণবিক অস্ত্র রয়েছে। চলতি বছরের মে মাসে ভারত-শাসিত কাশ্মীরে বন্দুক হামলায় ২৬ জন নিহত হওয়ার পর পরিস্থিতি যুদ্ধাবস্থার কাছাকাছি চলে যায়। নয়াদিল্লি ওই হামলার দায় ইসলামাবাদের ওপর চাপায়, যদিও পাকিস্তান কোনো সংশ্লিষ্টতা অস্বীকার করে।
এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্কযুদ্ধের কারণে বৈশ্বিক বাণিজ্য ও ভূরাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে ভারত ও চীন সম্পর্ক স্বাভাবিক করার চেষ্টা করছে। গত বছরের অক্টোবরে রাশিয়ায় অনুষ্ঠিত এক সম্মেলনে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও চীনা নেতা শি জিনপিং পাঁচ বছর পর প্রথমবারের মতো বৈঠক করেন।
চলতি মাসেই সাংহাই কোঅপারেশন অর্গানাইজেশন (এসসিও) শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে মোদি ২০১৮ সালের পর প্রথমবারের মতো চীন সফরে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
অন্যদিকে, ওয়াশিংটনের সঙ্গে নয়াদিল্লির সম্পর্কে টানাপোড়েন চলছে। কারণ, ট্রাম্প সরকার ভারতের প্রতি চূড়ান্ত আল্টিমেটাম দিয়েছে, রাশিয়ার তেল কেনা বন্ধ করতে হবে। ইউক্রেনে সামরিক অভিযান চালিয়ে যাওয়ার মধ্যে মস্কোর জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ আয়ের উৎস। যুক্তরাষ্ট্র হুঁশিয়ারি দিয়েছে, ভারত যদি সরবরাহকারী পরিবর্তন না করে তবে আগামী ২৭ আগস্ট থেকে ভারতীয় পণ্যের ওপর আমদানি শুল্ক দ্বিগুণ করে ৫০ শতাংশ করা হবে।
অগ্নি-৫ ক্ষেপণাস্ত্রটি ভারতের নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি বেশ কয়েকটি স্বল্প ও মধ্যম-পাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের মধ্যে অন্যতম। এই পরীক্ষা পাকিস্তান ও চীনের বিরুদ্ধে ভারতের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা জোরদারের কৌশলের অংশ।
সূত্র : দ্য গার্ডিয়ান
