দুবাইয়ে স্বর্ণের দাম আবারও ঊর্ধ্বমুখী হয়ে ৩০ দিনের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। বৃহস্পতিবার (২৮ আগস্ট) ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম দাঁড়ায় প্রতি গ্রাম ৩৭৯.২৫ দিরহাম। ফলে যারা অনম উৎসবকে সামনে রেখে স্বর্ণ কেনার পরিকল্পনা করেছিলেন, তারা পড়েছেন দুশ্চিন্তায়। খবর গালফ নিউজ
খুচরা বিক্রেতারা বলছেন, দাম এভাবে বেড়ে গেলে অনম উপলক্ষে বিক্রি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
এক জুয়েলারি ব্যবসায়ী জানান, ‘অনম বিক্রি আমাদের বড় মৌসুম নয়, তবে এ বছর কিছুটা ক্রয়ের আশা করেছিলাম। ইতোমধ্যে সব বড় ব্র্যান্ড অনম কালেকশন প্রস্তুত করেছে। কিন্তু যদি স্বর্ণের দাম রেকর্ড ছোঁয়ার শঙ্কা তৈরি হয়, ক্রেতারা পিছিয়ে যাবেন।’
জুন মাসে স্বর্ণের সর্বোচ্চ দর রেকর্ড হয়েছিল ৩৮৩.৭৫ দিরহাম। এবার অনমের আগে দাম সেই রেকর্ডের কাছাকাছি পৌঁছানোয় বিক্রেতা ও ক্রেতা উভয়ের মাঝেই তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা।
২৬ আগস্টের সমন্বয় করা দামে বিক্রি হচ্ছে স্বর্ণ
দেশের বাজারে সবশেষ গত ২৬ আগস্ট স্বর্ণের দাম সমন্বয় করেছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ওইদিন ভরিতে এক লাফে ১ হাজার ৫০ টাকা বাড়ানো হয়। বৃহস্পতিবার (২৮ আগস্ট) সবশেষ সমন্বয় করা দামেই দেশের বাজারে স্বর্ণ ক্রয়-বিক্রয় চলছে।
এর আগে ২ দফায় বাড়ানোর পর গত ২৪ জুলাই ভরিতে ১ হাজার ৫৭৪ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৭১ হাজার ৬০১ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল।
তারও আগে জুলাইতেই টানা ২ দফায় মোট ২ হাজার ৬২৪ টাকা বাড়ানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম। এরমধ্যে গত ২২ জুলাই ভরিতে ১ হাজার ৫০ টাকা ও ২৩ জুলাই ভরিতে ১ হাজার ৫৭৪ টাকা বাড়ানো হয়েছিল।
নতুন দর অনুযায়ী, বর্তমানে ২২ ক্যারেটের এক ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭২ হাজার ৬৫১ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণ ১ লাখ ৬৪ হাজার ৮০১ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ১ লাখ ৪১ হাজার ২৬৩ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির এক ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ১৬ হাজার ৮৫০ টাকা।
সবমিলিয়ে চলতি বছর এখন পর্যন্ত মোট ৪৬ বার দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম সমন্বয় করেছে বাজুস। যেখানে ৩০ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১৬ বার। অন্যদিকে গত বছর দেশের বাজারে মোট ৬২ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। এরমধ্যে ৩৫ বার দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া গতবছর ২৭ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।
