ঢাকা শুক্রবার , ৩ অক্টোবর ২০২৫
আজকের সর্বশেষ সবখবর

ঢাকা-আরিচা ও ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক যেন ময়লার ভাগাড়

আইএম নিউজ ডেস্ক
অক্টোবর ৩, ২০২৫ ৩:৫৯ অপরাহ্ণ
Link Copied!

রীতিমতো ময়লার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে ঢাকা-আরিচা ও ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক। প্রতিদিন ৪ হাজার টনের বেশি বর্জ্য ফেলা হচ্ছে এই দুই মহাসড়কে। ফলে যানজটের দুর্বিষহ ভোগান্তির মধ্যেই দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ যাত্রীরা। অন্যদিকে আশঙ্কাজনকভাবে কমছে সড়কের স্থায়িত্ব।

পরিবেশ সংরক্ষণ আইনের কঠিন বর্জ্য বিধিমালা ২০২১ অনুযায়ী, জনবসতি বা মহাসড়কের পাশে বর্জ্য ফেলা আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। তবুও গাবতলী থেকে ধামরাই পর্যন্ত ২৮ কিলোমিটারের অন্তত ৪৬ কিলোমিটারজুড়ে ফেলা হচ্ছে বর্জ্য। অর্থাৎ, প্রতি আধা কিলোমিটার পরপর ময়লার স্তূপ রয়েছে। আর নবীনগর থেকে চন্দ্রা পর্যন্ত ২০ কিলোমিটার সড়কের অন্তত ১৯ জায়গায় সড়কের পাশে ফেলা হচ্ছে বর্জ্য।

সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, বাজার থেকে গৃহস্থালি কিংবা হাসপাতাল থেকে শিল্পবর্জ্য সবই ফেলা হচ্ছে ঢাকা-আরিচা ও চন্দ্রা মহাসড়কের অন্তত ৫০ কিলোমিটার অংশজুড়ে। যানবাহন চালকদের ভাষ্য, সড়কের পাশে ময়লার ভাগাড় থাকা আমাদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। অনেক সময় ব্রেক করলেও ঠিকমতো গাড়ি কন্ট্রোল করা সম্ভব হয় না।

অন্যদিকে সাধারণ যাত্রী ও স্থানীয়দের ভাষ্য, সড়কের পাশেই ময়লার ভাগাড়ের কারণে পুরো এলাকা দুর্গন্ধে ভরে থাকে। ঠিকমতো নিশ্বাস নিতেও অনেকের কষ্ট হয়, কেউ কেউ অসুস্থ হয়ে বমিও করে ফেলেন।

আশপাশের কয়েকটি স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের তথ্য অনুযায়ী, শুধু সাভার পৌর এলাকায় দৈনিক প্রায় সাড়ে ৩শ’ টন বর্জ্য তৈরি হয়। এছাড়াও আশুলিয়া, ধামরাই, মানিকগঞ্জ ও গাজীপুর সিটিতে আবর্জনা জমে ৮ হাজার টনের বেশি।

মহাসড়কের পাশে ময়লা ফেলা পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের ভাষ্য, আগে যারা কাজ করেছেন তারাও এখানে ময়লা ফেলেছেন। আর এখানে আগে থেকেই ময়লা ফেলা রয়েছে বলে আমরাও ফেলি। ময়লা যদি আগে থেকেই ফেলা না থাকত তাহলে আমরাও ফেলতাম না।

স্থানীয় প্রশাসনের দাবি, ঢাকা সিটি করপোরেশনের বাইরের এলাকাগুলোর জন্য নির্দিষ্ট ল্যান্ডফিল না থাকায়, বর্জ্য ব্যবসায়ীদের সহযোগিতায় সড়কের পাশেই ময়লা ফেলতে হচ্ছে। সাভার পৌরসভার প্রশাসক আবু বকর সরকার বলেন, সড়কের পাশের জায়গা মূলত রোডস্‌ অ্যান্ড হাইওয়ের (সড়ক ও জনপথ বিভাগ)। তারা যদি জমিগুলোর দেখভাল করে, ভিজিলেন্স বাড়ায় তবে সড়কের পাশে ময়লা ফেলা বন্ধ সম্ভব। আমরাও বিভিন্ন সময়ে ম্যাজিস্ট্রেটের মাধ্যমে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে আমরা সড়কের পাশে ময়লা ফেলা নিবৃত করার চেষ্টা করে আসছি।

তবে দূরপাল্লার গাড়ি চলাচলের রাস্তায় বর্জ্যের পাহাড় জমলেও যেন মাথাব্যথাই নেই সড়ক ও জনপথ বিভাগের। কেবল উপজেলা প্রশাসনকে মাঝেমধ্যে চিঠি দিয়েই দায় সারছে তারা। অবশ্য এ নিয়ে অধিদপ্তরের কোনো কর্মকর্তাই কথা বলতে রাজি নন।

অন্যদিকে বিশেষজ্ঞের মতে, মহাসড়কে বর্জ্যের স্তূপ কেবল পরিবেশই দূষণ করে না, রাস্তার স্থায়িত্বও নষ্ট করে। যার আর্থিক ক্ষতি অনেক। যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ সামশুল হক বলেন, সড়কের পাশে ময়লা-আবর্জনা ফেলায় সড়ক ধীরে ধীরে ভেঙে ও দেবে যাওয়ার পাশাপাশি পাশে সরে যাচ্ছে। অর্থাৎ, সড়কে ময়লা-আবর্জনা ফেলার প্রভাব মাটির নিচের স্তর পর্যন্ত গিয়ে সড়কের ধারণক্ষমতা কমিয়ে দিচ্ছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন....