গাজায় ইসরায়েলি হামলা এবং নাগরিকদের ওপর অত্যাচারের প্রতিবাদে ভারতের সিপিআইএম-সিপিআই, আরএসপি, ফরোয়ার্ড ব্লকসহ অন্যান্য বামপন্থী দলগুলো কলকাতা শহরে মিছিল করেছে। শনিবার (৪ অক্টোবর) কলকাতার রবীন্দ্রসদন থেকে ধর্মতলার লেনিন মূর্তি পর্যন্ত বামপন্থীদের এই মহামিছিলে যোগ দেন হাজার হাজার জনতা।
এক প্রেস বিবৃতিতে সিপিআইএম জানায়, গাজার উদ্দেশে ত্রাণবাহী নৌবহর ফ্লোটিলার ওপর ইসরায়েলি আক্রমণ ও মানবাধিকার কর্মীদের আটকের বিরুদ্ধে এবং থুনবার্গসহ আন্তর্জাতিক পরিবেশবিদ, রাজনৈতিক কর্মী, সামাজিক কর্মীদের মুক্তির দাবিতে সড়কে নামেন তারা। পাশাপাশি মার্কিন মদদপুষ্ট যুদ্ধাপরাধী ইসরায়েলকে তীব্র ধিক্কার জানাতে তাদের এই আন্দোলন।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, এই নৌবহরে ছিল খাদ্য, বস্ত্র, পানি, ওষুধ ও বাচ্চাদের খাবার। সেগুলোকে লাখ-লাখ অসহায় মানুষ সৈকতে স্বাগত জানাতে অপেক্ষা করছিলেন। কিন্তু, চরম মানবতা বিরোধী ইসরায়েল আন্তর্জাতিক আইনের তোয়াক্কা না-করেই সেগুলোও আটকে দেয়।
এদিন মিছিলে ভারতের জাতীয় পতাকার পাশাপাশি প্যালেস্তাইনের পতাকাও দেখা যায়। মিছিলে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ছবি বক্সিং পঞ্চিং ব্যাগে ঘুষি মেরে লাগিয়ে ক্রোধের বহিঃপ্রকাশ করার ব্যবস্থা করেনে আয়োজকরা। একই সঙ্গে হাজার হাজার বেলুনেও দুই রাষ্ট্রপ্রধানের ছবি লাগিয়ে পায়ের তলায় সেই বেলুন ফাটিয়েও উল্লাস প্রকাশ করেন তারা।
এদিন বাম দলগুলোর মিছিলে উপস্থিত ছিলেন প্রবীন সিপিআই(এম) নেতা এবং বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসু। তিনি বলেন, ‘যেভাবে ফ্লোটিলা আটকানো হয়েছে এবং কর্মীদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে তা ভয়ঙ্কর। আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করা হচ্ছে, জাতিসংঘ সঠিক ভূমিকা পালন করছে না। খাদ্য এবং ওষুধ নিয়ে যাওয়া কোনো জাহাজকে আটকানো যায় না।’
কেন্দ্রীয় সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘এই ভারত ১৯৫৪ সালে বান্দুং সম্মেলন থেকে বলেছিল কোনো দেশে কোনো দেশের বিষয়ে নাক গলাতে পারবে না। এখন দক্ষিণপন্থী রাজনীতির কারণে ভারত সেই অবস্থা থেকে সড়ে এসেছে।’ বিমান বসুর কথায়, দক্ষিণপন্থী রাজনীতি মানুষের মুক্তি সংগ্রামকে পছন্দ করে না, সমর্থনও করে না।
গেল দু’বছর ধরে গাজায় ধ্বংসলীলা চালাচ্ছে জায়নবাদী ইসরায়েল। এতে সম্পূর্ণ গাজার জনপদ ধ্বংসের মুখে। একদিকে মহামারি, অপুষ্টি অন্যদিকে মুহুর্মুহ বোমাবর্ষণ। এমন পরিস্থিতিতে প্রতিবাদ হচ্ছে সর্বত্র। শহর কলকাতায় এর আগেও প্রতিবাদ জানিয়ে একাধিক বার পথে নেমেছে সিপিআই(এম)-সহ বিভিন্ন বামপন্থী দল ও গণসংগঠনগুলো।
তবে ফিলিস্তিনের প্রতি সহমর্মিতা ও সংহতি জানিয়েই আয়োজিত এই মহামিছিলে ছিল না বামপন্থী দল এসইউসিআই। দলটির তরফে অবশ্য প্রেস বিবৃতি জারি করে ইসরায়েলের ফ্লোটিলা আটকানোর ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়ে সাধারণ মানুষকে সোচ্চার হওয়ার ডাক দিয়েছে তারা। গণহত্যা, যুদ্ধ বন্ধ ও ত্রাণ নিয়ে যাওয়ার জন্য ইসরায়েল সেনার হাতে আটক সমস্ত মানবাধিকার কর্মীদের মুক্তির দাবিও জানায় এসইউসিআই।
