অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার কয়েক দিন পরই নতুন এক গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা দিয়েছে ভূখণ্ডটির শাসকগোষ্ঠী হামাসের একটি সূত্র। সশস্ত্র সংগঠনটির আলোচনাকারী কমিটির ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র রোববার (১২ অক্টোবর) বার্তা সংস্থা এএফপি-কে জানিয়েছে, যুদ্ধ-পরবর্তী গাজা প্রশাসনের অংশ হবে না হামাস।
সূত্রটি জানায়, ‘হামাসের জন্য গাজা শাসন এখন একটি বন্ধ অধ্যায়। সংগঠনটি রূপান্তরকালীন প্রশাসনে কোনোভাবেই অংশ নেবে না। এর মানে, তারা গাজার নিয়ন্ত্রণ ছাড়ছে, তবে ফিলিস্তিনি সমাজের মৌলিক অংশ হিসেবেই থাকবে।’
এই মন্তব্য এসেছে এমন এক সময়ে, যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবিত ২০ দফা মধ্যপ্রাচ্য শান্তি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন নিয়ে আলোচনা চলছে। এই পরিকল্পনায় গাজাকে একটি ‘উগ্রবাদমুক্ত ও সন্ত্রাসমুক্ত অঞ্চল’ হিসেবে গড়ে তোলার পাশাপাশি শাসকগোষ্ঠী হামাসকে প্রশাসন ও অস্ত্রধারণ থেকে সম্পূর্ণ বিরত থাকার শর্ত জুড়ে দেয়া হয়েছে।
ট্রাম্পের ২০ দফা পরিকল্পনার প্রথম ধারা অনুযায়ী, গাজা ভূখণ্ডকে এমন একটি ‘নিরস্ত্র ও শান্তিপূর্ণ অঞ্চল’ হিসেবে পুনর্গঠন করা হবে, যা প্রতিবেশীদের জন্য কোনো ধরনের হুমকি সৃষ্টি করবে না। পরিকল্পনায় স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, হামাস ভবিষ্যতে গাজার নতুন প্রশাসনে কোনো ভূমিকা রাখবে না। সংগঠনটির সামরিক অবকাঠামো ও অস্ত্র সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস করতে হবে এবং পুনর্গঠন করা যাবে না। একটি অস্থায়ী, প্রযুক্তিনির্ভর ও অরাজনৈতিক ফিলিস্তিনি কমিটি গাজার দৈনন্দিন প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনা করবে।
সূত্রটি আরও জানায়, হামাস ও অন্যান্য ফিলিস্তিনি গোষ্ঠী মিলে ওই অস্থায়ী কমিটির জন্য ৪০ জনের নাম প্রস্তাব করেছে। এদের মধ্যে কেউই হামাসের সদস্য নন। তিনি বলেন, ‘এই তালিকায় কোনো ভেটো নেই। নামগুলো প্রায় চূড়ান্ত। আমরা চাই, আগামী সপ্তাহের মধ্যে মধ্যস্থতাকারী মিশর এই কমিটির গঠন চূড়ান্ত করতে বৈঠক ডেকে দিক।’
অন্যদিকে, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক হামাসের আরেক কর্মকর্তা বলেন, হামাসের নিরস্ত্রীকরণ ‘একেবারেই অসম্ভব’। তবে সংগঠনের আলোচনাকারী সূত্র বলেছে, ‘হামাস দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধবিরতিতে সম্মত। এই সময়ের মধ্যে গাজার ওপর ইসরায়েলি হামলা না হলে অস্ত্র ব্যবহৃত হবে না।’
মধ্যপ্রাচ্যের শান্তি প্রক্রিয়াকে এগিয়ে নিতে সোমবার মিশরের শারম আল-শেখে আন্তর্জাতিক শান্তি সম্মেলনে বিশ্বনেতারা একত্র হচ্ছেন। এই সম্মেলনের সভাপতিত্ব করতে পারেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আর সহ-সভাপতিত্ব মিশরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি।
