ক্যারিবীয় সাগরে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর একটি হামলার কথা নিশ্চিত করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। হামলায় একটি সন্দেহভাজন ‘ড্রাগ সাবমেরিন’ লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছিল বলে দাবি করেন তিনি। এতে দুইজন নিহত এবং অন্তত দুইজন বেঁচে গেছে বলে জানা গেছে। ফলে উত্তেজনা আরও বেড়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও প্রতিবেশী দেশ ভেনেজুয়েলার মধ্যে।
শুক্রবার (১৭ অক্টোবর) হোয়াইট হাউসে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে বৈঠকের সময় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা একটি সাবমেরিনে আক্রমণ করেছি, এটি বিপুল পরিমাণ মাদক পরিবহনের উদ্দেশ্যে বানানো হয়েছিল।’
তিনি আরও বলেন, ‘এতে কোনো নিরীহ লোক ছিল না। আমি খুব বেশি মানুষকে চিনি না যাদের সাবমেরিন আছে।’ এর আগে একটি নতুন হামলার খবর প্রথম প্রকাশ করে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
২ সেপ্টেম্বর ক্যারিবীয় অঞ্চলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বোমা হামলা শুরু হওয়ার পর থেকে প্রথমবারের মতো বেঁচে যাওয়া ব্যক্তিদের বিষয়ে খবর পাওয়া গেছে। মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরের এক কর্মকর্তা গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, দুই জীবিত ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে। তবে তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হবে কিনা বা তাদের অবস্থা কেমন সে বিষয়ে কিছু জানা যায়নি। হামলায় আরও দুইজন নিহত হয়েছে বলেও জানা গেছে।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেন, ‘আমরা নার্কো-টেররিস্টদের (মাদক-সন্ত্রাসী) বিরুদ্ধে অভিযান চালাচ্ছি। তারা সন্ত্রাসী, এটা পরিষ্কার।’ ট্রাম্প প্রশাসন এখন পর্যন্ত এ ধরনের মোট ছয়টি হামলার তথ্য নিশ্চিত করেছে। এসব হামলায় নিহত হয়েছে ২৮ জন।
যুক্তরাষ্ট্র দাবি করছে, ভেনেজুয়েলা হয়ে যুক্তরাষ্ট্রে মাদক পাচার বন্ধ করতেই চালানো হচ্ছে এসব হামলা। তবে নিহতদের পরিচয় সম্পর্কে কোনো প্রমাণ দেয়নি ওয়াশিংটন।
এদিকে কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রো জানিয়েছেন, হামলায় নিহতদের মধ্যে তার দেশের নাগরিকও থাকতে পারে। ত্রিনিনাদ ও টোবাগোর একটি পরিবারও দাবি করেছে, তাদের এক স্বজন সম্প্রতি এসব হামলায় নিহত হয়েছেন।
এদিকে ভেনেজুয়েলাকে কেন্দ্র করে চালানো এসব হামলার নিন্দা জানিয়ে দেশটি জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে অভিযোগ দিয়েছে। ভেনেজুয়েলার অভিযোগ, এ ধরনের হামলা আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন।
ট্রাম্প দাবি করেছেন, ভেনেজুয়েলা থেকে ‘সহিংস গ্যাং’ ট্রেন ডি আরাগুয়ার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে ‘আক্রমণ’ চালানো হচ্ছে এবং এর পেছনে মাদুরোর হাত রয়েছে। যদিও মার্কিন জাতীয় গোয়েন্দা কাউন্সিলের এপ্রিল মাসের এক প্রতিবেদনে এই দাবির বিপরীত মত দেয়া হয়। তারা এই দুই পক্ষের মধ্যে কোনো সমন্বয়ের প্রমাণ পায়নি।
এদিকে ট্রাম্প সম্প্রতি মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএকে ভেনেজুয়েলায় গোপন অভিযান চালানোর অনুমতি দিয়েছেন বলে মার্কিন গণমাধ্যমে খবর প্রকাশ হয়েছে। এতে করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে যে ওয়াশিংটন হয়তো মাদুরো সরকারকে সামরিকভাবে উৎখাতের পথ প্রস্তুত করছে।
সূত্র: আল জাজিরা
