নিজস্ব প্রতিবেদক :: রাজধানীর তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় সরকারি বিজ্ঞান স্কুল অ্যান্ড কলেজের এক ছাত্রের মৃত্যুর ঘটনায় মাইক্রোবাস চালককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তার নাম জিয়াউল হক (৫০)।
সোমবার সকালে আশুলিয়ার বিশমাইল এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। একইসঙ্গে মাইক্রোবাসটিও জব্দ করা হয়েছে।
রোববার তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানাধীন বিজিপ্রেস এলাকায় রাস্তা পারাপারের সময় গাড়ির ধাক্কায় মারা যান সরকারি বিজ্ঞান কলেজের দশম শ্রেনীর ছাত্র মো. আলী হোসেন (১৭)।
ডিএমপির তেজগাও বিভাগের ডিসি আজিমুল হক নিজ কার্যালয়ে সোমবার বিকালে এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, ঘটনার পর থেকে আশপাশের ৩৭টি সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে পর্যালোচনা করা হয়। এরপর মাইক্রোবাসটি(ঢাকা মেট্রো গ ১৪-৫৮২৮) শনাক্ত করা হয়। এরপর সকালে আশুলিয়া থেকে চালক জিয়াউল হককে(৫০) গ্রেফতার করা হয় এবং মাইক্রোবাসটি জব্দ করা হয়।
তিনি বলেন, মাইক্রোবাসটির মালিক ঢাকায় একটি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন। তিনি সাভার থেকে প্রতি সপ্তাহের রোববার উক্ত মাইক্রোবাসযোগে ঢাকায় আসেন। বৃহস্পতিবার বিকালে সাভারে ফিরেন। বাকি সময় গাড়িটি সাভারে তার পারিবারিক প্রয়োজনে ব্যবহৃত হয়।
ডিসি বলেন, এ বিষয়ে নিহতের বাবা আজমীর হোসেন বাদি হয়ে তেজগাও শিল্পাঞ্চল থানায় একটি মামলা করেছেন।
এদিকে সহপাঠির মৃত্যুর ঘটনায় সোমবার দুপুরে নিরাপদ সড়কের দাবিতে ফার্মগেটে রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ দেখিয়েছে ওই কলেজের শিক্ষার্থীরা। প্রথমে ফার্মগেট এলাকায় সড়ক অবরোধ ও পরে বিজয় স্মরণী মোড়ে গিয়ে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ দেখায়। বৃষ্টি আর বিক্ষোভে চরম ভোগান্তি চরমে উঠলেও সাধারণ মানুষ তা-ইতিবাচক হিসাবেই দেখছেন। তাদের মত-তবুও যদি বন্ধ হয় সড়কে মৃত্যু ।
অবরোধ কর্মসূচিতে যোগ দেয়া শিক্ষার্থীরা বৃষ্টিতে ভিজে ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস; আমার ভাই মরল কেন? প্রশাসন জবাব চাই; নিরাপদ সড়কের দাবি মানতে হবে, মানতে হবে’ সড়ক সড়ক সড়ক চাই, নিরাপদ সড়ক চাই, আমার ভাই কবরে, খুনি কেন বাহিরে? প্রশাসন জবাব দে। ৭১-এর হাতিয়ার গর্জে উঠুক আরেকবার- এ রকম নানা স্লোগান দিতে থাকেন। তাদের সঙ্গে আশপাশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরাও যোগ দেন।
পরে শিক্ষার্থীরা দুপুর পৌনে ১টার দিকে ফার্মগেট থেকে মিছিল নিয়ে বিজয় স্মরণির দিকে যাত্রা করে। বিজয় স্মরণীতে তারা অবস্থান নিয়ে বৃষ্টিতে ভিজে বিক্ষোভ চালিয়ে যেতে থাকে।
