ঢাকা বুধবার , ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২২
আজকের সর্বশেষ সবখবর

বান্ধবীর সহযোগিতায় ছাত্রীকে ধর্ষণ

আইএম নিউজ
সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২২ ২:২৪ অপরাহ্ণ
Link Copied!

নাটোর প্রতিনিধি :: নাটোরের বাগাতিপাড়া উপজেলার এক শিক্ষার্থীকে গণধর্ষনের ঘটনায় তার এক বান্ধবীসহ ৪ সহপাঠীকে ১০ বছর করে আটক আদেশ দিয়ে যশোর সেফ হোমে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

বুধবার দুপুরে নাটোরের শিশু আদালতের বিচারক মোহাম্মদ আব্দুর রহিম এই আদেশ দেন।

সেফ হোমে পাঠানোর নির্দেশ প্রাপ্তরা হলো- নাটোরের লালপুর উপজেলার দাংগাপাড়া এলাকার মহরম আলীর ছেলে তুষার আলী (২২), নলডাঙ্গা উপজেলার পূর্ব মাধনগর এলাকার আব্দুস সালামের ছেলে তুষার ইমরান, রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার শ্রীবতীপাড়া এলাকার ওবায়দুর রহমানের ছেলে ইমন হোসেন ওরফে রকিবুল ও এক ছাত্রী।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, একাদশ শ্রেণির এক ছাত্রীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলার জন্য বিভিন্নভাবে প্রস্তাব দিয়ে আসছিল একই কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র লালপুর উপজেলার দাংগাপাড়া এলাকার মহরম আলীর ছেলে তুষার আলী। কিন্তু মেয়েটি তার প্রেমের প্রস্তাবে সাড়া দেয়নি।

২০১৭ সালের ১২ জুলাই কলেজ ছুটির পর তার বান্ধবীর সহযোগিতায় পানির সঙ্গে চেতনানাশক খাইয়ে মেয়েটিকে কলেজের সামনে থেকে সিএনজি গাড়িতে করে অপহরণ করে তুষার আলী ও তার তিন বন্ধু। সিএসনজি যোগে অজ্ঞাতস্থানে নিয়ে গিয়ে ওই কলেজ শিক্ষার্থীকে তিন বন্ধু মিলে গণধর্ষন করে।

এ সময় তার বান্ধবী ধর্ষণের ভিডিও ধারণ করে ও অনেকগুলো নগ্ন ছবি তুলে রাখে। পরে ভিডিও ও ছবি ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে বিভিন্ন সময় মেয়েটিকে ধর্ষণ করে তারা। ধর্ষণের কথা প্রকাশ করলে তার ছোট ভাইকেও হত্যার হুমকি দেয়। এসব ভয়ে ছাত্রীটি চুপ থাকলে দিন দিন ধর্ষণের মাত্রা বেড়ে যাওয়ার কারণে মেয়েটি হারপিক পান করে আত্মহত্যার চেষ্টা চালায় এবং মানসিক ভাবে কিছুটা ভারসাম্যহীন হয়ে পড়ে।

এ সময় মেয়েটির অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ বন্ধ না হওয়ায় কাদিরাবাদ ও বগুড়া সেনা বাহিনীর হাসপাতালে (সিএমএইচ) মেয়েটির দীর্ঘ চিকিৎসা করা হয়। চিকিৎসা শেষে তার মা বাদী হয়ে বাগাতিপাড়া মডেল থানায় ৪ জনের নাম উল্লেখ করে ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন। তদন্ত শেষে থানার পরিদর্শক (তদন্ত) স্বপন কুমার চৌধুরী অভিযুক্তদেরকে মামলার দায় থেকে অব্যাহতি দেওয়ার সুপারিশ করে একই বছরের ৩১ ডিসেম্বর আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন।

বাদিনী এই প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে আদালতে নারাজি দরখাস্ত দেন। শুনানি শেষে আদালত পুলিশের প্রতিবেদন অগ্রাহ্য করে অভিযোগ আমলে গ্রহণ করেন। পরে বাদীপক্ষ থেকে ঘটনার সমর্থনে আদালতে সাক্ষ্য প্রদান করা হয়। সাক্ষ্যে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় বুধবার ৪ জনকে সেফ হোমে পাঠানোর নির্দেশ দেন। রায় ঘোষণার সময় দণ্ডপ্রাপ্তরা আদালতের কাঠগড়ায় উপস্থিত ছিলেন।

বাদীর ব্যক্তিগত আইনজীবী মুক্তার হোসেন জানান, পুলিশের ত্রুটিপূর্ণ তদন্তের কারণে বাদী ন্যায় বিচার থেকে বঞ্চিত হতে বসেছিলেন। পরবর্তীতে নারাজি দরখাস্ত দাখিলের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনাটি আদালতের নজরে আনা হয়। আদালত সাক্ষ্য তলব করে অভিযোগের সত্যতা পেয়েছেন।

রাষ্ট্রপক্ষের বিশেষ কৌঁসুলি (এসপিপি) আনিছুর রহমান বলেছেন, শিশু আইনে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের সর্বোচ্চ শাস্তি ১০ বছর আটকাদেশ। আদালত সর্বোচ্চ সাজা দেওয়ায় বাদী সন্তুষ্ট হয়েছেন।

তবে আসামিদের আইনজীবী লোকমান হোসেন বাদল জানান, তার মক্কেল রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করবেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন....