কিশোরগঞ্জ শহরের প্রাণকেন্দ্র বাণিজ্যিক এলাকাগুলোতে সড়কের দুই পাশ দীর্ঘদিন
যাবত ছিল হকারের দখলে। এসব দখলে থাকা ফুটপাত ও লেকপাড়সহ ব্রীজের দুই পাশে উচ্ছেদ
অভিযান চালিয়েছে কিশোরগঞ্জ মডেল থানা পুলিশ। এ অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে
জানান পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রাসেল শেখ।
সম্প্রতি কিশোরগঞ্জ শহরের কাচারী বাজার, পুরান থানা, গৌরাঙ্গবাজার ব্রীজ, মাছমহল
ব্রীজ, রথখলা, তেরিপট্টি এলাকায় উচ্ছেদ অভিযান শুরু হয়।
উচ্ছেদ অভিযানের পর চলা ফেরায় সস্তি প্রকাশ করেছেন পৌরবাসীসহ বিভিন্ন উপজেলা
থেকে আগত সাধারণ মানুষ। তবে একদিকে যেমন শহর যানজটমুক্ত ও পথচারীদের চলাচলে
সুবিধা হয়েছে। অন্যদিকে অনেক ভ্রাম্যমাণ ফুটপাত হকার্স ব্যবসায়ীরা বেকার হয়ে
পড়েছে। তবে পূর্বে কোন প্রকার নোটিশ ছাড়াই তাদের উচ্ছেদ করায় ক্ষোভ প্রকাশ
করেছেন অনেকেই।
কিশোরগঞ্জ নরসুন্দা হকার্স কল্যাণ সমবায় সমিতি লি: এর সভাপতি মো: সাদ্দাম হোসেন
বলেন, ‘আমাদের সমিতিতে প্রায় ৫০জন হকার্স ব্যবসায়ীরা আছেন। আমরা মেইন রাস্তার উপরে
ব্যবসা করি না। আমাদের ব্যবসায় পথচারীদের কোন অসুবিধা হয় না। আমাদেরকে বিনা
নোটিশে উচ্ছেদ করা হয়েছে। প্রত্যেক ব্যবসায়ীর দুই থেকে তিন লাখ ঋণ নিয়ে ব্যবসা শুরু
করেছি। অনেক টাকার মাল আটকা পড়েছে। এখন আমাদের পরিবার পরিজন নিয়ে দুশ্চিন্তায়
আছি। আমাদেরকে যেন বিকল্প কোন ব্যবস্থা করে দেয়; প্রসাশন ও মেয়রের কাছে আমাদের এটাই
দাবী।
এ বিষয়ে একাধিক পথচারীরা বলেন, ‘দীর্ঘদিন গৌরাংগবাজার ব্রীজের দ’ুপাশ তথা ফুটপাত
অবৈধ হকারদের দখলে ছিল। যার ফলে আমাদের চলাফেরা করতে খুবই অসুবিধা হতো। পুলিশের
ভ‚মিকার ফলে ফুটপাত অবৈধ হকারদের কাছ থেকে দখলমুক্ত হওয়ায় তাদেরকে ধন্যবাদ জানাই।
কিশোরগঞ্জে মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ গোলাম মোস্তুফা বলেন, ’জেলার পুলিশ সুপার
মোহাম্মদ রাসেল শেখ স্যারের দিক নির্দেশে ও সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মনতোষ
বিশ্বাস স্যারের নেতৃত্বে আমরা গৌরাংগবাজার ব্রিজের দু’পাশের ফুটপাত হকারদের কাছ
থেকে দখল মুক্ত করেছি। ফুটপাতে ও রাস্তার দু পাশে অবৈধ পার্কিং দ‚র করেছি। কিশোরগঞ্জ শহরকে
নিরাপদ ও বাসযোগ্য করতে আমাদের এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে’।
পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রাসেল শেখ বলেন, ‘শুধু পুলিশের পক্ষে উচ্ছেদ অভিযান চালিয়ে ফুটপাথ
দখলমুক্ত রাখা সম্ভব নয়। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা যদি সচেতন না হয় তাহলে এ অভিযান ফলপ্রস‚
হবে না। কারণ আজকে উচ্ছেদ করব, আগামীকাল আবার দখল হয়ে যাবে। জনস্বার্থে আমাদের এমন
অভিযান অব্যাহত থাকবে।’
পৌর মেয়র মাহমুদ পারভেজ মিয়া বলেন, ‘এবার যারাই ফুটপাথ দখল করে দোকান বসাবে তাদের
বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ফুটপাথ দখলমুক্ত করতে নিয়মিত উচ্ছেদ অভিযান
চালানো হবে।’
