মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি:: মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলার সিরাজদিখান বাজার-গোয়ালবাড়ি মোড়, রাজদিয়া মালখানগর সড়কটি ছোট-বড় গর্তে বেহাল দশায় দুর্ভোগের শেষ নেই। এতে ভোগান্তিতে পড়ছেন স্থানীয় এলাকার লক্ষাধিক মানুষ।
উপজেলার প্রশাসনিক কার্যালয়ের সঙ্গে ইছাপুরা, লতব্দী, বালুচর, বয়রাগাদী, মালখানগর, মধ্যপাড়া ও রশুনিয়া সদর ইউনিয়নের যোগাযোগের সড়কটি উপজেলা সদরের মোড় থেকে মালখনগর ইউনিয়ন পরিষদ থেকে ১১ কিলোমিটার। প্রতিদিন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী, কৃষক, ব্যবসায়ীসহ সর্বস্তরের মানুষ উপজেলা সদরের সঙ্গে একমাত্র যোগাযোগের সড়কটি। দীর্ঘদিন থেকে সড়কটি সংস্থার না করায় কার্পেটিং উঠে গিয়ে বড় বড় খানাখন্দে পরিণত হয়েছে।
বর্তমানে চলাচলে সড়কটি অযোগ্য। প্রতিদিন গড়ে পাঁচ থেকে ছয় শতাধিক ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাসহ শত শত বাস ট্রাক ছোট-বড় বিভিন্ন যানবাহন চরম ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে। এতে প্রতিনিয়তই ঘটছে দুঘর্টনা।
সড়কের বিভিন্ন জায়গায় পিচ-খোয়া উঠে গেছে অনেক আগেই। এখন সেখানে সৃষ্টি হয়েছে ছোট-বড় খানাখন্দের। ফলে সড়কে প্রায়ই ঘটছে দুর্ঘটনা। বৃষ্টি হলে পানি জমে দুর্ভোগ চরমে পৌঁছায়। এই দশা পাঁচ বছর ধরে। সংস্কারের অভাবে সড়কের পুরোটাই খানাখন্দে ভরে গেছে। ছোট-বড় গর্ত এড়িয়ে যানবাহন চলছে এঁকেবেঁকে।
গর্তের অনেক জায়গায় পানি জমে আছে। আবার অনেক জায়গায় গাড়ি চলার সময় আশপাশ ধুলাময় কোথাও কাদাময় হয়ে যাচ্ছে। হোসনে আরা হাসপাতালের বিপরীতে বিশাল গর্তে গাড়ি আটকে গিয়ে যানজটের সৃষ্টি হতে দেখা যায়।
সন্তোষপাড়া হাসপাতাল এলাকার কয়েকজন বলেন, অ্যাম্বুলেন্স, শত শত ইজিবাইক এবং ঢাকাগামী পরিবহণ এই সড়ক দিয়ে যাওয়া-আসা করে। এখন সড়কে বিপজ্জনক অবস্থা। সড়কের উপজেলা ভূমি অফিস, থানার মোড়, রাজদিয়া অভয় পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়, রাজদিয়া আব্দুল জব্বার বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় মোড়, রাজদিয়া মডেল কিন্ডারগার্টেন স্কুলের সামনে ও রাজদিয়া বেইলি ব্রিজ মোড়ে রাস্তা চলাচলের একেবারে অনুপযুক্ত হয়ে পড়েছে।
রাজদিয়া আব্দুল জব্বার বালিকা বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষিকা জিনিয়া সরকার বলেন, সিরাজদিখান বাজারের পর থেকে রাজদিয়া আব্দুল জব্বার বালিকা বিদ্যালয় পর্যন্ত রাস্তা খুবই খারাপ হয়ে পড়েছে। তারপরও প্রতিদিন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা এ রাস্তা দিয়েই বাধ্য হয়ে চলাচল করছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ করব দ্রুত রাস্তাটির সংস্কারের ব্যবস্থা নেওয়ার।
গাড়িচালক সোহেল ফেরদৌস বাচ্চু বলেন, যাত্রীদের গালমন্দ আর গাড়ির ক্ষতি মেনে ওই পথ দিয়েই গাড়ি চালাতাম। তবে মাস দুই ধরে এতটা খারাপ হয়েছে, ওই পথে আর পরিবহণের গাড়ি চলছে না।
সিরাজদিখান উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বলেন, খুব শীঘ্রই সিরাজদিখান থেকে মালখানগর পর্যন্ত রাস্তাটির মেরামতের ব্যবস্থা নেওযা হবে।
এ বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী রেজাউল ইসলাম বলেন, আশা করছি সামনের ২০২২-২৩ অর্থবছরের মধ্যেই সড়কটির মেরামতের কাজ সমাপ্ত হলে জনদুর্ভোগ কেটে যাবে।
