ঢাকা শনিবার , ২৫ মার্চ ২০২৩
আজকের সর্বশেষ সবখবর

চিলমারী কমিউটার ট্রেনের যাত্রীসংখ্যা বাড়লেও বাড়েনি আসন

মোঃ ফরহাদ মিয়া , বেরোবি থেকে
মার্চ ২৫, ২০২৩ ১১:৫১ অপরাহ্ণ
Link Copied!

চিলমারী কমিউটার নামের এই মেইল ট্রেনটি রমনা বাজার স্টেশন থেকে ছেড়ে কাউনিয়া হয়ে রংপুর পর্যন্ত যাতায়াত করে । ফেরার সময় রংপুর-লালমনিরহাট-কাউনিয়া হয়ে রমনা বাজার নিয়মিত চলাচল করে।   বলতে গেলে বাড়িতে যাওয়া আসার ক্ষেত্রে  আমিও এই ট্রেনে নিয়মিত চলাচল করি।  সম্প্রতি এই মেইল ট্রেনের যাত্রীসংখ্যা চোখে পড়ার মতো।কারণ  নিরাপদ যাতায়াত ও যাতায়াত খরচ কম হওয়ায় যাত্রী সংখ্যা বেড়েছে পূর্বের  চেয়ে কয়েকগুণ। এদিকে ট্রেনের ধারণ ক্ষমতা পূর্বের সাতটি বগি থেকে কমে  পাঁচটিতে দাড়িয়েছে। ১৯৬৭ সালে কুড়িগ্রাম থেকে চিলমারী পর্যন্ত নতুন ২৮.৫৫ কিলোমিটার মিটারগেজ রেললাইন তৈরি হয়। ২০২০ সালের পূর্বে নিয়মিত রমনা-পার্বতীপুর নিয়মিত চলাচল করতো। করোনার সময় দীর্ঘদিন এই ট্রেনটি বন্ধ থাকার পর ২০২২ সালের মার্চ মাসের ট্রেনটি পুনরায় উদ্বোধন করেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী মো. জাকির হোসেন এমপি।

গত সপ্তাহে আমি রমনা রেলস্টেশন থেকে রংপুর আসার উদ্দেশ্যে বাসা থেকে বের হয়ে স্টেশনে এসে যেসব যাত্রী দেখতে পেলাম তাদের অধিকাংশই রংপুরের যাত্রী। আর যাত্রী সংখ্যা বাড়ার অন্যতম কারণ হচ্ছে যাতায়াত খরচ তুলনামূলক কম এবং নিরাপদ যাত্রা।  আপনি যদি লোকাল বাসে রংপুর আসতে চান তাহলে আপনাকে ট্রেনের তুলনায় চার গুন টাকা গুনতে হবে।  রমনা এবং বালাবাড়ি স্টেশনেই ট্রেনের আসন সংখ্যা পূর্ণ হয়ে যায়।

উলিপুর, পাঁচপির, কুড়িগ্রাম, রাজারহাট, সিঙ্গেরডাবরিসহ অন্যান্য স্টেশনের যাত্রীরা দাড়িয়ে, ইঞ্জিনে বসে যাতায়াত করে যা নিত্যদিনের ঘটনা  । তাছাড়াও অনেকে ছাদে বসে যাতায়াত করে যা ঝুকিপূর্ণ । রংপুরগামী রফিকুল ইসলাম নামে একজন ব্যবসায়ীর সাথে কথা হলো। তিনি বললেন, প্রায় সময়ে ব্যবসায়ী পণ্য আনার জন্য রংপুর যেতে হয়। আগের চেয়ে মানুষ এখন বেশি যাতায়াত করে ট্রেনে। উলিপুর পার হলে দাঁড়ানোর জাগাও পাওয়া যায় না। আগে চেয়ে ট্রেনের বগি  এখন কম। যে কয়েকটা বগি আছে তারও কিছু সিট ভাঙ্গা। এই হলো  চিলমারী কমিউটার ট্রেনের অবস্থা।  ২০২২ সালে যখন  ট্রেনটি চালু হয়েছিল সে সময়  ট্রেনের বগি সংখ্যা ছিল সাতটি। বর্তমানে এর সংখ্যা কমে পাঁচটিতে দাঁড়িয়েছে। যেখানে যাত্রী সংখ্যা ঊর্ধ্বমুখী সেখানে ট্রেনের বগি সংখ্যা কমানোর বিষয়টি বোধগম্য না।

কিছুদিন আগে চিলমারী নৌবন্দরটি সরকার পুনরায় চালু করেছে।  চিলমারী বন্দর থেকে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, আসাম, মেঘালয় খুব কাছে। ভারতের উত্তর–পূর্বাঞ্চলীয় সাতটি রাজ্য এই বন্দর ব্যবহার করতে পারে । এক্ষেত্রে এই ট্রেন বিশেষ ভুমিকা পালন করতে পারে মালামাল বহনে  ।

উন্নয়নের প্রতীক হিসেবেই সারা বিশ্বে রেলকে বিবেচনা করা হয়। যে দেশ যত উন্নত, তার রেল যোগাযোগ ব্যবস্থা ও ব্যবস্থাপনা তত উন্নত। সরকারও চেষ্টা করছে দেশের যোগাযোগ অবকাঠামো উন্নত করতে।  প্রতি বছর এর উন্নয়নে বিপুল বরাদ্দ দেয়া হচ্ছে। এসব উন্নয়ন বরাদ্দে বৈষম্যের শিকার চিলমারী কমিউটার ও রেল স্টেশন গুলো।

১৯৬৭ সালের পর কুড়িগ্রাম-রমনা রেল লাইনের অবকাঠামো উন্নয়নে কর্তৃপক্ষ কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি। তবে আশার কথা হলো সাম্প্রতি কুড়িগ্রাম হতে উলিপুর পর্যন্ত রেল লাইন আধুনিকরণের কাজ চলমান। এটি বাস্তবায়িত হলে কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেস উলিপুর রেল স্টেশন পর্যন্ত চলাচল করবে। এখানেও বৈষম্যের শিকার চিলমারী। রমনা স্টেশন থেকে উলিপুর স্টেশনের দূরত্ব ১১ কিলোমিটার । এই  টুকু পথ অতিক্রম করতে ট্রেনের সময় লাগে ৩০-৩৫ মিনিট এবং উলিপুর স্টেশন থেকে কুড়িগ্রাম স্টেশন পৌঁছাতে সময় লাগে ১ ঘন্টা ২০ মিনিট প্রায়। ২৭ কি.মি. পথ পাড়ি দিতে সময় লাগে ১ ঘন্টা ৪৫-৫০ মিনিট। যেখানে সিএনজি, অটোরিকশার মাধ্যমে ১ ঘন্টায় অনায়াসে এই পথ পাড়ি দেওয়া যায়। এর জন্য অনুন্নত অবকাঠামোই দায়ী। কুড়িগ্রাম হতে উলিপুর পর্যন্ত রেল লাইন আধুনিকরণের কাজ শেষ হলে এর দুর্ভোগ কিছুটা লাঘব হবে। এতে করে দারিদ্রপীড়িত কুড়িগ্রামবাসীর সাধারণ মানুষের স্বল্প খরচে রাজধানীর সাথে যোগাযোগে ভূমিকা রাখবে।

অন্যদিকে ট্রেনের সময়সূচি নিয়ে স্থানীয় মানুষের মধ্যে অসন্তোষ আছে। কারণ, পূর্বে লোকাল ট্রেন হিসেবেই চলত। বর্তমানে এটি রংপুর এক্সপ্রেসের সংযোগকারী কমিউটার ট্রেন নামে চালানো হচ্ছে। সকাল ৮ টায় রমনা স্টেশন ছেড়ে চলে যায় রংপুর-লালমনিরহাট-কাউনিয়া-কুড়িগ্রাম-কাউনিয়া থেকে রাত পৌনে বারোটার সময় রমনা স্টেশন পৌছায়। কাউনিয়া থেকে কুড়িগ্রাম স্টেশন পর্যন্ত যাত্রী থাকলেও কুড়িগ্রাম স্টেশন থেকে রাত ১০ টার যখন  রমনা স্টেশন আসার জন্য রওনা হয় অনেক ক্ষেত্রে ট্রেন যাত্রী বিহীন  ফাঁকা থাক। করোনার প্রাদুর্ভাবের পূর্বে ট্রেন দিনে ৪ বার আসতো এখন দিনে ২ বার আসে।

ট্রেনের সময়সূচি যাত্রী বান্ধব না হওয়ায় স্বাধারণ মানুষের দাবি যাত্রী বান্ধব ট্রেনের শিডিউল করা। রমনা থেকে উলিপুর স্টেশন পর্যন্ত রেল লাইনের অবকাঠামো আধুনিকরণ করা এবং ট্রেনের বগি সংখ্যা বৃদ্ধি করা।

প্রতিবেদক:

মোঃ ফরহাদ মিয়া

শিক্ষার্থী,গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, রংপুর। 

সংবাদটি শেয়ার করুন....