নিজস্ব মালিকানাধীন অন্তত পাঁচটি গ্যাসচালিত বিদ্যুৎ কেন্দ্র বিক্রির পরিকল্পনা করছে বিশ্বের সবচেয়ে লাভজনক কোম্পানি ও সৌদি তেল জায়ান্ট আরামকো। সংশ্লিষ্ট তিনটি সূত্রের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। রাজস্ব বাড়াতে ও সরকারের অর্থপ্রাপ্তি নিশ্চিত করতে এই পদক্ষেপ নিচ্ছে কোম্পানিটি।
আরামকোর বিদ্যুৎ কেন্দ্র বিক্রি থেকে প্রাথমিকভাবে প্রায় ৪ বিলিয়ন ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৪৮ হাজার কোটি টাকা) তোলার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছে রয়টার্সকে ঘনিষ্ঠ তিনটি সূত্র। এই বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো মূলত রিফাইনারিগুলোতে গ্যাস সরবরাহে ব্যবহৃত হচ্ছে।
সূত্রগুলো জানিয়েছে, সৌদি সরকার আরামকোর উপর চাপ দিচ্ছে, খরচ কমিয়ে মুনাফা ও রাষ্ট্রীয় ডিভিডেন্ড বাড়াতে। এর অংশ হিসেবেই সম্পদ বিক্রির এই উদ্যোগ।
আরামকো ইতিমধ্যে ঘোষণা দিয়েছে, এ বছর ডিভিডেন্ড বা লাভের অংশীদারি প্রায় এক-তৃতীয়াংশ কমিয়ে দেয়া হবে। বিশ্ববাজারে তেলের দাম পড়ে যাওয়ায় কোম্পানির আয় হ্রাস পেয়েছে। অথচ এই ডিভিডেন্ড, কর ও রয়্যালটির উপরই সৌদি সরকারের ৮১.৫ শতাংশ প্রত্যক্ষ মালিকানা রয়েছে।
বিদ্যুৎ কেন্দ্র ছাড়াও আবাসিক প্রকল্প, পাইপলাইন এবং বন্দর সংক্রান্ত অবকাঠামোও বিক্রির পরিকল্পনায় রয়েছে বলে জানিয়েছে রয়টার্স। সৌদি আরবের স্থানীয় বিদ্যুৎ কোম্পানিগুলো এসব সম্পদের সম্ভাব্য ক্রেতা হতে পারে।
আরামকো বর্তমানে ১৮টি বিদ্যুৎ কেন্দ্র ও সংশ্লিষ্ট অবকাঠামোর মালিক, যেগুলো গ্যাস প্লান্ট ও রিফাইনারিগুলোকে বিদ্যুৎ সরবরাহ করে। এর মধ্যে নতুন আরও কয়েকটি প্রকল্প, বিশেষ করে তানাজিব গ্যাস প্লান্ট, চলতি বছরেই চালু হওয়ার কথা রয়েছে।
সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান তেলনির্ভরতা কমিয়ে অর্থনীতিকে বহুমুখীকরণে যে উচ্চাভিলাষী প্রকল্প নিয়েছেন, এই সম্পদ বিক্রির উদ্যোগ তারই অংশ। যদিও ২০২৪ সালেই দেশটির বাজেটে ৩০ বিলিয়ন ডলারের ঘাটতি দেখা গেছে, যা আরামকোর ১৯৯ বিলিয়ন ডলারের আয়ের পরও রোধ করা যায়নি।
চলতি বছরেই আরামকো ৫ বিলিয়ন ডলারের বন্ড ছেড়েছে এবং আরও ঋণ নেয়ার পরিকল্পনা করছে। এদিকে, সৌদি সরকার এক্সপো ২০৩০ ও ফিফা বিশ্বকাপ ২০৩৪ সহ নানা মেগা প্রকল্পে বিনিয়োগ করছে শত শত বিলিয়ন ডলার।
এই অর্থের যোগান দিতেই আরামকো অবকাঠামো বিক্রি ও নতুন বিনিয়োগ সংগ্রহের মাধ্যমে তহবিল বাড়ানোর পথ খুঁজছে বলে জানিয়েছে রয়টার্স।
