ঢাকা রবিবার , ২৭ জুলাই ২০২৫
আজকের সর্বশেষ সবখবর

গুলশানে চাঁদাবাজি: গ্রেপ্তারকৃত রাজ্জাক পুলিশ সংস্কার কমিশনের সদস্য

আইএম নিউজ
জুলাই ২৭, ২০২৫ ৪:৩৯ অপরাহ্ণ
Link Copied!

রাজধানীর গুলশান এলাকায় আওয়ামী লীগ নেত্রী ও সাবেক সংসদ সদস্য শাম্মী আহমেদের বাসায় চাঁদাবাজির অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া আবদুর রাজ্জাক বিন সুলাইমান পুলিশ সংস্কার কমিশনের সদস্য বলে জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম সদস্যসচিব মাহিন সরকার। রোববার (২৭ জুলাই) সকালে তার ভেরিফাইড ফেসবুক আইডি থেকে দেয়া এক পোস্টে তিনি এ তথ্য জানান

শনিবার (২৬ জুলাই) রাতে গুলশানের ৩৬ নম্বর রোড থেকে আবদুর রাজ্জাকসহ পাঁচজনকে আটক করে পুলিশ। আটক ব্যক্তিদের সবাই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সঙ্গে সম্পৃক্ত বলে জানা গেছে।

পুলিশ জানায়, অভিযুক্তরা শাম্মী আহমেদের বাসায় গিয়ে নিজেদের পরিচয় তুলে ধরে চাঁদা দাবি করেন। ঘটনাস্থলে উপস্থিত পুলিশের সদস্যরা তাদের আটক করেন।

ঘটনার পর রাতেই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ঢাকা মহানগর শাখার আহ্বায়ক ইব্রাহিম হোসেন মুন্না, সদস্য সাকাদাউন সিয়াম ও সাদাবকে সাংগঠনিক নীতিমালা ও শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়। একই সঙ্গে গণতান্ত্রিক ছাত্রসংসদের জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে কেন্দ্রীয় যুগ্ম আহ্বায়ক জানে আলম অপু ও সদস্য আবদুর রাজ্জাক বিন সুলাইমানকেও স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়।

আবদুর রাজ্জাকের ফেসবুক প্রোফাইলে তার নামের পাশে ‘রিয়াদ’ লেখা রয়েছে। পুলিশের প্রাথমিক তালিকায় আটক পাঁচজনের মধ্যে একজনের নামও ‘রিয়াদ’ ছিল।

উল্লেখ্য, গণতান্ত্রিক ছাত্রসংসদ গঠিত হয় চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক নেতাদের উদ্যোগে।

এ ঘটনায় ফেসবুকে একটি দীর্ঘ স্ট্যাটাস দেন এনসিপির যুগ্ম সদস্যসচিব মাহিন সরকার। চ্যানেল 24 এর পাঠকদের জন্য তার পোস্টটি হুবহু তুলে ধরা হলো-

আবদুর রাজ্জাক নামের যে ছেলেটা গ্রেপ্তার হয়েছে চাঁদাবাজি করতে গিয়ে, সে পুলিশ সংস্কার কমিশনের মেম্বার। অর্থাৎ গুরুত্বের বিচারে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ একটি মন্ত্রণালয়ের সে লিস্টেড ছাত্র প্রতিনিধি। বাংলাদেশে যে কালচার চলে, তাতে সে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাথে কোনোভাবে যুক্ত, এই পরিচয়েই কেউ অর্থ উপার্জন করতে পারে বলে মনে করি। এখানে তার মতো ব্যক্তিকে কীভাবে স্বরাষ্ট্র বিভাগের পুলিশ সংস্কার কমিশনের মতো অতি গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় সুপারিশ করল, এটা সামনে আনা প্রয়োজন। এটা খুব করে চাওয়া আমার।

জানে আলম অপু নামক ছেলেটা আগে থেকেই দুর্নীতির বিরুদ্ধে অনেক উচ্চবাচ্য করত, অনেকটা ঔদ্ধত্যের পর্যায়ে। তার বিরুদ্ধে নিজ জেলা জয়পুরহাটে অসংখ্য অভিযোগ ইতিপূর্বে কানে এসেছে, যেহেতু রাজশাহী বিভাগীয় দায়িত্বে আমি ছিলাম। প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে সেসহ আরও কয়েকজন সেই হত্যাকাণ্ডের কারণ তাদের দাবির সাথে না মেলা সত্ত্বেও তারা আন্দোলন করে এবং স্বরাষ্ট্র দপ্তরে যাতায়াত বৃদ্ধি করে। এখানে জানে আলম অপু শুধু নয়, ওর আশপাশে থাকা আরও দু–একজনের নামে এমন অভিযোগ আসলে অবাক হওয়ার কিছু নেই।

সর্বশেষ ইব্রাহিম হোসেন মুন্না নামক ছেলেটা এই চাঁদাবাজিতে অন্যতম অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছে। এই নাম আসায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ব্যানারটির যৌক্তিকতা শতভাগ ফুরিয়ে এসেছে। ইতিপূর্বে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সে ঢাকা মহানগর কমিটি গোছানোতে ভূমিকা রেখেছে। সবচেয়ে বড় কথা, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের গত কয়েক দিন আগে হওয়া নির্বাচনে সে টপ অর্গানোগ্রামের একটি পদে ইলেকশন করে এবং পরে তার জায়গায় সে নাকি অন্য কাউকে সিলেক্ট করেছে, এই অজুহাত দিয়ে সে আর দায়িত্ব নেয়নি। এ রকম অদ্ভুতুড়ে ঘটনা ইতিপূর্বে জীবনেও প্রত্যক্ষ করিনি আমি।

সংবাদটি শেয়ার করুন....