বান্দরবানের লামায় পাহাড়ি এক নারীকে ধর্ষণের প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়েছে। বুধবার সকালে বান্দরবান প্রেস ক্লাবের সামনে সচেতন ছাত্র সমাজ ও উইমেন এক্টিভিস্ট ফোরামের উদ্যোগে লামা উপজেলায় ফাসিয়াখালী ইউনিয়নে মারমা নারী ধর্ষণকারীদের গ্রেফতারের দাবিতে এ মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়েছে।
ঘণ্টাব্যাপী মানববন্ধনে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী এবং উইমেন এক্টিভিস্ট ফোরামের কর্মীরা অংশ নেন। এর আগে নারী ধর্ষণের প্রতিবাদে রাজবাড়ী মাঠ থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো প্রদক্ষিণ করে।
কর্মসূচিতে বক্তব্য রাখেন- জেলা জজকোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মাধবী মারমা, অ্যাডভোকেট উবাথোয়াই মারমা, বাংলাদেশ মারমা স্টুডেন্টস কাউন্সিল সভাপতি উহ্লাচিং মারমা, উইমেন এক্টিভিস্ট ফোরামের উসিংম্যা মারমা,বান্দরবান উইমেন এক্টিভিস্ট ফোরামের সাংগঠনিক সম্পাদক পাউসিং ম্রো, বাংলাদেশ তঞ্চঙ্গ্যা স্টুডেন্ট ফোরামের সাধারণ সম্পাদক বিটন তঞ্চঙ্গ্যা, ম্রো স্টুডেন্ট ফোরামের সভাপতি চ্যংলক ম্রো প্রমুখ।
কর্মসূচিতে জেলা জজকোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মাধবী মারমা বলেন, মামলার এজাহার, ভুক্তভোগী নারী এবং এলাকাবাসীর বক্তব্যের মাধ্যমে স্পষ্ট প্রমাণিত হয় যে, ঘটনার পরপরই ধর্ষককে নিজের হেফাজতে নিয়ে বিচারের নামে আসামিকে পালানোর সুযোগ করে দেওয়ায় ৩নং ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. নূরুল হোসাইন চৌধুরী ও ১, ২, ৩নং ওয়ার্ডে সংরক্ষিত মহিলা আসনের সদস্য জোসনা আক্তার দায় কোনোভাবেই এড়াতে পারেন না। এই দুই জনপ্রতিনিধিও সমান অপরাধে অপরাধী।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে ফাসিয়াখালী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নূরুল হোসাইন চৌধুরী ও সংরক্ষিত আসনের মহিলা সদস্যা জোসনা আক্তার বলেন, ধর্ষণের ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা ও সময়ক্ষেপণের অভিযোগটি সত্য নয়। ধর্ষণকারীর শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানাচ্ছি আমরাও।
লামা থানার ওসি শহিদুল ইসলাম চৌধুরী জানান, ২৪ ফেব্রুয়ারি লামার ফাসিয়াখালী এলাকার এক বিধবা পাহাড়ি নারী জুমে কাজ করতে গেলে কায়সার নামে স্থানীয় এক যুবক তাকে মারধর ও ধর্ষণ করে পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় ২৫ ফেব্রুয়ারি লামা থানায় ধর্ষিতা বাদী হয়ে কায়সারের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। আসামিকে ধরতে অভিযান অব্যাহত আছে।
