ঢাকা বৃহস্পতিবার , ৯ মার্চ ২০২৩
আজকের সর্বশেষ সবখবর

ক্যানসার চিকিৎসার পর মার্কিন রোগী কথা বলছেন ‘আইরিশ ভাষায়’

অনলাইন ডেস্ক
মার্চ ৯, ২০২৩ ২:৩৩ অপরাহ্ণ
Link Copied!

যুক্তরাষ্ট্রে প্রোস্টেট ক্যানসারের চিকিৎসা নিয়েছিলেন পঞ্চাশোর্ধ এক রোগী। এরপর দেখা যায়, তিনি অনবরত আইরিশ ভাষায় কথা বলে যাচ্ছেন!। তবে আয়ারল্যান্ডের সঙ্গে ওই রোগীর কোনো সংশ্লিষ্টতা খুঁজে পাওয়া যায়নি। চিকিৎসকগণ ধারণা করছেন, এটি ফরেন অ্যাকসেন্ট সিনড্রোমের (এফএএস) প্রবণতা।

সম্প্রতি ব্রিটিশ মেডিকেল জার্নালে এই খবর প্রকাশিত হয়েছে।

এই রোগীর যাবতীয় তথ্য বিশ্লেষণ করে চিকিৎকগণ বলছেন, ওই রোগীর মধ্যে প্যারানিওপ্লাস্টিক নিউরোলজিক্যাল ডিসঅর্ডার বা পিএনডির প্রবণতা রয়েছে। ব্রিটিশ মেডিকেল জার্নালে বলা হয়েছে, ক্যানসার রোগীরা যেসব অস্বাভাবিক ডিসঅর্ডারে ভোগেন, পিএনডি হচ্ছে তাদের একটি।

পঞ্চাশোর্ধ এই রোগী অ্যান্ড্রোজেন ডিপ্রাইভেশন থেরাপি নিচ্ছিলেন। ন্যাশনাল লাইব্রেরি অব মেডিসিনের তথ্য মতে, মেটাস্ট্যাটিক হরমোন (সংবেদনশীল প্রোস্টেট ক্যানসারের ক্ষেত্রে যে চিকিৎসা সেবা অনুমোদিত) দেওয়া হচ্ছিল ওই রোগীকে।

ব্রিটিশ মেডিকেল জার্নালের প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, পরীক্ষায় ওই রোগীর ব্রেনের কোনো অস্বাভাবিকতা ধরা পড়েনি, তবে কেমোথেরাপি দেওয়া সত্বেও ক্যানসার আরও ছড়িয়ে পড়ছে এবং তিনি ক্যানসারের শেষ ধাপে পৌঁছেছেন, যা তাকে মৃত্যুর দিকে ধাবিত করছে।

ফরেন অ্যাকসেন্ট সিনড্রোম কী?
ফরেন অ্যাকসেন্ট সিনড্রোম বা এফএএস হচ্ছে এক ধরনের ডিসঅর্ডার, যাতে এই রোগে আক্রান্ত ব্যক্তির মাতৃভাষায় রাতারাতি বিদেশী কোনো ভাষার টান চলে আসে।  ব্রিটিশ মেডিকেল জার্নালে এফএএসকে ‘স্ট্রাকচারাল নিউরোলজিক্যাল ড্যামেজ’ এর একটি ফলাফল হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে।

এর আগে ২০১৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে মুখের চোয়াল অপারেশনের পর এক নারী অনর্গল ব্রিটিশ উচ্চারণে কথা বলতে শুরু করেন।

কেন হয় এই সিনড্রোম?

এখন পর্যন্ত সঠিক কারণ নিরূপণ করা যায়নি। হাতে গোনা যে ক’জন এমন রোগী পাওয়া গেছে, তাদের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়- শতকরা ৮৬ ভাগের ক্ষেত্রেই স্নায়ুতন্ত্রের রোগ ছিল। এই রোগ তাদের মস্তিষ্কের ভাষা সৃষ্টি ও উচ্চারণের অংশকে ব্যহত করে বলে গবেষকেরা ধারণা করেন।

যুক্তরাজ্য, উত্তর আমেরিকা ও অস্ট্রেলিয়ার ৪৯ জন ফরেন অ্যাকসেন্ট সিনড্রোম রোগীকে বিশ্লেষণ করে চিকিৎসকরা এর মূল কারণ অনুসন্ধান করে জানতে পেরেছেন যে. স্ট্রোক, মাইগ্রেন বা তীব্র মাথাব্যাথা, মুখমণ্ডলে কোনো বড় আঘাত বা অপারেশন, সিজার ইত্যাদির কারণে সাধারণত এই রোগ হয়।  স্পিচ থেরাপি, কাউন্সেলিং ইত্যাদি প্রক্রিয়ায় রোগীকে সমর্থন ও সাহস যোগানোই মূল চিকিৎসা। এক্ষেত্রে পরিবার ও বন্ধুবান্ধবের সহায়তা অত্যন্ত জরুরি।

সূত্র: স্কাই নিউজ, বিবিসি

সংবাদটি শেয়ার করুন....