ঢাকা বুধবার , ৩১ আগস্ট ২০২২
আজকের সর্বশেষ সবখবর

‘খেলাপি ঋণ আদায়ে কঠোর অবস্থানে আছি’

আইএম নিউজ
আগস্ট ৩১, ২০২২ ২:৩৪ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

নিজস্ব প্রতিবেদক :: স্বভাবজাত বা ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত জনতা ব্যাংক। এরই অংশ হিসেবে স¤প্রতি পাঁচজন ঋণখেলাপিকে গ্রেফতার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

এছাড়া যে কোনো সময় গ্রেফতার হতে পারেন আরও কয়েকজন খেলাপি। অনেকে গ্রেফতার এড়াতে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন, আছেন আত্মগোপনেও। এক প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের (এমডি) পাসপোর্ট জব্দসহ দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন অর্থঋণ আদালত। এ বিষয়ে জনতা ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ‘মো. আব্দুছ ছালাম আজাদ বলেন, খেলাপি ঋণ আদায়ে কঠোর অবস্থানে আছি।

এজন্য যেসব খেলাপি গ্রাহক দীর্ঘ সময় ধরে ঋণ পরিশোধে সময়ক্ষেপণ করছেন, তাদের বিরুদ্ধে আইনি তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে। ইতোমধ্যে বেশ কিছু দৃষ্টান্ত সবাই দেখতে পেয়েছেন। আরও দেখতে পাবেন। ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে যারা ফেরত দিচ্ছেন না। আরাম-আয়েশে দিন কাটাচ্ছেন।

তাদের কোনো কিছুর কমতি নেই। এরা ইচ্ছাকৃত বা স্বভাবজাত ঋণখেলাপি। এসব ঋণখেলাপিকে আর ছাড় দেওয়ার সুযোগ নেই।’ তিনি বলেন, ‘যে কোনো মূল্যে খেলাপি ঋণের হার সিঙ্গেল ডিজিটে নামিয়ে আনতে চাই। সেজন্য ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপিদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান অব্যাহত থাকবে।’

আদালত ও ব্যাংক সূত্র জানায়, জনতা ব্যাংকের লোকাল অফিসের গ্রাহক ইউসুফ ট্যানারির কাছে ৪৭ কোটি ২৩ লাখ ৭৮ হাজার টাকা দীর্ঘদিন ধরে অনাদায়ী ছিল। ব্যাংকের শাখা থেকে ঋণ আদায়ে বারবার যোগাযোগ করেও গ্রাহকের কাছ থেকে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। পরে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ ঋণ আদায়ে অর্থ ঋণ আদালতে মামলা (নম্বর ৪৩৮/২০২০) দায়ের করে।

আদালত মামলার নথি পর্যালোচনা করে ইউসুফ ট্যানারির ৮ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে। এ পরিপ্রেক্ষিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী গত রোববার অভিযান চালিয়ে ৫ জনকে গ্রেফতার করে আদালতে সোপর্দ করে।

আদালত তাদের জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। গ্রেফতারকৃতরা হলেন-ইউসুফ ট্যানারির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. বশির উল­াহ, পরিচালক মো. অজিউল­াহ, বন্ধকদাতা ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. বশির উল­াহর ৩ ছেলে মো. ইউসুফ আলী, মো. হারুন অর রশিদ ও মো. আবু সুফিয়ান।

ঋণের নথি ঘেঁটে জানা যায়, ১৯৮৪ সালে জনতা ব্যাংক থেকে ১৭ কোটি ৮৯ লাখ টাকার ঋণ নেয় ইউসুফ ট্যানারি। কয়েক দফা পুনঃতফশিলের পরও ঋণটি প্রথম খেলাপি হয়ে যায় ২০০৭ সালে। এরপর ২০০৯ সালের শেষের দিকে আরোপিত সুদের ৮৫% এবং অনারোপিত সুদের ১০০% মওকুফ করা হয়। অবশিষ্ট সুদে-আসলে সাড়ে ১১ কোটি টাকা পরিশোধে দেওয়া হয় ১২ বছর সময়।

কিন্তু সুদ মওকুফের শর্তানুযায়ী নিয়মিত কিস্তি পরিশোধে ব্যর্থ হওয়ায় সুদ মওকুফ সুবিধা বাতিল ও গ্রাহকের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। এরপর সুদে-আসলে ঋণটি আরও বেড়ে যায়। ২০১৪ সালে ১৪ কোটি ৭৮ লাখ টাকা অবলোপন করা হয়। আংশিক সুদ মাফ ও কিছু টাকা পরিশোধের পর বর্তমানে অবলোপন স্থিতি ১২ কোটি ৭৬ লাখ টাকা। এভাবে নানা সুযোগ-সুবিধা নিয়েও ঋণটি পরিশোধ করেনি ইউসুফ ট্যানারি।

এর আগে ব্যাংকের ৩২৫ কোটি ৮৪ লাখ টাকা পরিশোধ না করে আত্মগোপনে চলে যাওয়ায় নুরজাহান গ্র“পের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জহির আহমেদ রতন এবং পরিচালক টিপু সুলতান ও ফরহাদ মনোয়ারকে ৫ মাসের কারাদণ্ডের নির্দেশ দেন অর্থঋণ আদালত। পাশাপাশি রতনপুর স্টিল রি-রোলিং মিলস লিমিটেডের (আরএসআরএম) ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাকসুদুর রহমানকে ৩১২ কোটি ৮২ লাখ টাকা ঋণখেলাপির দায়ে পাসপোর্ট জব্দসহ দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দেন চট্টগ্রাম অর্থঋণ আদালত। এছাড়া মতিঝিল করপোরেট শাখায় গোল্ডেন রি-রোলিং মিলস লিমিটেডের সাড়ে ছয় কোটি টাকা অনাদায়ে (মামলা নম্বর ১৮০/১৭) খেলাপি গ্রাহক মো. আবুল হোসেনকে গ্রেফতার করা হয়।

বৈদেশিক বাণিজ্য করপোরেট শাখার আব্দুস সামাদ প্যাকেজিংয়ের আড়াই কোটি টাকা অনাদায়ে প্রতিষ্ঠানটির ৩ কর্মকর্তাকে গ্রেফতার করা হয়। গাজীপুর করপোরেট শাখার খেলাপি গ্রাহক মেসার্স হাসান স’মিলের এক কোটি এক লাখ টাকা অনাদায়ে মিলটির মালিক খন্দকার জাকির হোসেনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়।

ব্যাংক সূত্র জানায়, ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে যেসব গ্রাহক দিনের পর দিন ঋণের কিস্তি পরিশোধ করছেন না, নানা ছুতোয়, ছলচাতুরী করে সময়ক্ষেপণ করছিলেন; সেসব গ্রাহকের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে জনতা ব্যাংক। জনতা ব্যাংক কর্মকর্তারা বলছেন, ব্যাংক থেকে বারবার তাগাদা দেওয়ার পরও কিস্তি না দিয়ে খেলাপিরা এতদিন ধরে নিয়েছিলেন ব্যাংকের টাকা হয়তো আর ফেরত দিতে হবে না। এসব ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপিদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নিচ্ছে জনতা ব্যাংক।

সংবাদটি শেয়ার করুন....