ঢাকা বুধবার , ৭ জুন ২০২৩
আজকের সর্বশেষ সবখবর

শিশু রিফাতের কাছে জাতীয় মাছ কেন পাঙাশ?

অনলাইন ডেস্ক
জুন ৭, ২০২৩ ১২:৫৪ অপরাহ্ণ
Link Copied!

গ্রামের নিতান্ত সাধারণ শিশু রিফাতের সরলতায় অনেকেই মুগ্ধ হয়েছেন, কারও চোখে পানি এসেছে! দেশের সাড়ে সাত লাখ কোটি টাকার বাজেটে তার মতো মাদ্রাসাপড়ুয়া প্রায় ১৪ লাখ কওমি, হাফেজি, নুরানি ইত্যাদি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য মোট বরাদ্দকৃত অর্থ শূন্য টাকা। কওমি শিক্ষার উচ্চ স্তরের ‘নামমাত্র’ স্বীকৃতি সেখানে রাজনীতির উপস্থিতিকে জানান দিলেও মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনার দিক থেকে বিষয়টি লাখ লাখ শিশুর ভাগ্য নির্ধারণে সরকার ও রাষ্ট্রের অনুপস্থিতিকেও নির্দেশ করে।

ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে শিশু রিফাতকে ক্লাসে শিক্ষক প্রশ্ন করছেন, আমাদের জাতীয় মাছ কী? রিফাত আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে চিৎকার করে উত্তর দিচ্ছে, জাতীয় মাছ পাঙাশ! ছোট্ট হয়েও শিশুটি সবচেয়ে যৌক্তিক উত্তরই দিয়েছে। দেশের ধনবৈষম্য আমাদের গরিবদের এমন প্রান্তিক অবস্থানে ঠেলে দিয়েছে, যাদের কাছে ইলিশ, গরু, মুরগিসহ প্রাণিজ প্রোটিন আজ সোনার হরিণ অর্থাৎ ‘ফার বিয়োন্ড লাক্সারি’। রিফাতদের আমিষের একমাত্র উৎস পাঙাশই, ফলে তাঁর চোখে যৌক্তিকভাবেই পাঙাশ জাতীয় মাছ হওয়ার দাবিদার!

জাতিসংঘের চরম দারিদ্র্য ও মানবাধিকারবিষয়ক স্পেশাল র‌্যাপোর্টিয়ার অলিভিয়ার ডি শুটার বলেছেন, ‘বাংলাদেশে দারিদ্র্য বিমোচনে সাফল্যের সূচকগুলো সমাজের পুরো চিত্রকে তুলে ধরছে না। এখানে আয়বৈষম্য বাড়ছে। সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে নতুন দরিদ্র।

সামাজিক নিরাপত্তা খাতের বাজেটের একটা বড় অংশ সরকারি কর্মচারীদের পেনশনে ব্যয় করা হয়। সাম্প্রতিক বছরগুলোয় চরম দারিদ্র্য থেকে বেরিয়ে আসা অনেক মানুষ এখন দারিদ্র্যসীমার সামান্য ওপরে উঠেছে। হঠাৎ কোনো বিপদ এলে সেটা মোকাবিলা করার মতো অবস্থা তাদের নেই। অনেক পরিবার, দারিদ্র্যসীমার ঠিক ওপরে উঠে এলেও তাদের টিকে থাকার সামর্থ্য নেই। তাদের অর্থ সঞ্চয় করা বা পুঁজি জমানোর সক্ষমতা নেই। ধাক্কা সামলানোর মতো কোনো সম্পদ তাদের নেই। তাদের আমিষ কেনার সামর্থ্য নেই। ফলে, দারিদ্র্য বিমোচনে বাংলাদেশের অগ্রগতি ভঙ্গুর।’ মি. শুটার মনে করেন, স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উঠে আসার ধাক্কা সামলাতে বাংলাদেশের উন্নয়নের মডেল পরিবর্তন করা উচিত। (বিবিসি বাংলা, ৩০ মে ২০২৩)।

সংবাদটি শেয়ার করুন....