ঢাকা রবিবার , ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২২
আজকের সর্বশেষ সবখবর

সীমান্তে ঘুমধুম গুলির শব্দ, আতঙ্কে স্থানীয়রা

আইএম নিউজ
সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২২ ৯:১৫ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

কক্সবাজার প্রতিবেদক :: বান্দরবানের ঘুমধুম সীমান্তে এখনো গুলির শব্দ শোনা যাচ্ছে। রোববার দুপুর ১২টার দিকেও দুবার গুলির শব্দ শোনা যায়। এতে চরম আতঙ্কে আছেন স্থানীয়রা। অনেকে স্বজনদের কাছে আশ্রয় নিয়েছেন। আবার অনেক পরিবার ঘরবন্দি হয়ে জীবনযাপন করছেন।

সব কিছু বিবেচনায় এনে এর মধ্যে এসএসসি পরীক্ষার্থীদের নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে পরিবর্তন করা হয়েছে পরীক্ষার কেন্দ্রও। ঘুমধুম উচ্চ বিদ্যালয়কেন্দ্রে চলমান পরীক্ষা হল নিয়ে যাওয়া হয়েছে কুতুপালং উচ্চ বিদ্যালয়ে। তবে সব কিছু মাথায় রেখে কঠোর সতর্কাবস্থানে রয়েছে বিজিবি।

সীমান্ত এলাকা ঘুরে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, মিয়ানমারের অভ্যন্তরে রোববার সকাল ও দুপুরে কয়েকটি গোলার বিকট শব্দ শোনা গেছে। পাশাপাশি একই পরিবেশ ছিল শনিবার সকালেও। এ ছাড়া শুক্রবার রাতে বাংলাদেশের কোনারপাড়ায় এসে পড়া অবিস্ফোরিত মর্টারশেলটি শনিবার দুপুরে নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে।

ঘুমধুম ইউনিয়নের তুমব্রুর কোনারপাড়ার বাসিন্দা খালেদা বেগ জানান, তার পার্শ্ববর্তী নুর হাসিনার বাড়িতে শুক্রবার রাতে এসে পড়ে একটি মর্টারশেল, যা বিস্ফোরিত হয়নি। তবে তার বাড়ির কিছু দূরে আরও ১টি মর্টারশেল পড়ে বিস্ফোরিত হয়। যার শব্দে কেঁদে ওঠে এলাকার লোকজন। এই আতঙ্কে তার পুরো পরিবার এখন আশ্রয় নিয়েছে তুমব্রু মাঝেরপাড়ায় এক আত্মীয়ের বাড়িতে।

তবে শুক্রবার রাতে ৩টি মর্টারশেল বিস্ফোরণে হতাহত হওয়ার পর থেকে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।

ঘুমধুম ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য (মেম্বার) দিল মোহাম্মদ ভুট্টো জানিয়েছেন, শুক্রবার রাতের ঘটনার পর থেকে আতঙ্কের মাত্রা বেড়েছে। রোববারও শোনা গেছে গোলাগুলির বিকড় শব্দ, যা গত কয়েক দিন ধরে ধারাবাহিকভাবে চলছে।

তিনি আরও জানান, এ পরিস্থিতিতে তুমব্রু কোনারপাড়ার ৩৫টি পরিবার অন্যত্র নিরাপদে আশ্রয় নিয়েছে। যারা উখিয়ার বালুখালী, পালংখালী, টেকনাফের হোয়াইক্যং এলাকায় আত্মীয়দের বাড়ি চলে গেছে। পাশাপাশি সীমান্তে আরও অনেকেই নিরাপত্তার কারণে অন্যত্র চলে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। আর বাকি যারা রয়েছে, তারা অনেকটা ঘরবন্দি বলা যায়।

এদিকে ঘুমধুম ইউনিয়নের চেয়ারম্যান একেএম জাহাঙ্গীর আজিজ বলেন, গেল এক মাসে চলা গোলাগুলিতে সীমান্তে বসবাসকারীদের মধ্যে তেমন ভয় কাজ করেনি। কিন্তু শুক্রবারের ঘটনায় এখন বেশ আতঙ্কিত সীমান্তের লোকজন। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে কেউ বের হচ্ছে না। সবাই সতর্কাবস্থায় রয়েছে। এ ছাড়া বিজিবির টহল জোরদার করেছে এবং তারা সতর্ক অবস্থানে দেখা যাচ্ছে।

শূন্যরেখায় বসবাসকারি রোহিঙ্গা কমিউনিটির নেতা দিল মোহাম্মদ জানান, মিয়ানমার বারবারই শূন্যরেখার রোহিঙ্গাদের ওখান থেকে তাড়ানোর চেষ্টা করে আসছে। শুক্রবার মর্টারশেল ইচ্ছে করে নিক্ষেপ করেছে বলে মনে করছেন তিনি।

এদিকে মিয়ানমার থেকে ছোড়া মর্টারশেল বিস্ফোরণে ১ রোহিঙ্গা যুবক নিহত ও কয়েকজন আহতের ঘটনায় প্রতিবাদ জানিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।

বিজিবির পরিচালক (অপারেশন) লেফটেন্যান্ট কর্নেল ফয়জুর রহমান জানান, মিয়ানমার থেকে ছোড়া মর্টারশেল বাংলাদেশে এসে পড়েছে। এতে হতাহতের ঘটনায় বিজিবি প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে কূটনৈতিকভাবে প্রতিবাদ জানানো হবে।

তিনি জানান, মিয়ানমারের পরিস্থিতি বিজিবি সতর্কাবস্থানে রয়েছে। মিয়ানমারের কোনো নাগরিক যেন বাংলাদেশে প্রবেশ করতে না পারে, সে বিষয়েও সর্বোচ্চ সতর্ক রয়েছে বিজিবির টহল দল।

সংবাদটি শেয়ার করুন....