“পূর্ব-পশ্চিম আল্লাহর-ই, সুতরাং যেদিকেই তোমরা মুখ ফেরাও সেদিকেই আল্লাহর মুখ রয়েছেন। (সূরা বাকারা -১১৫)
যদি এই আয়াতের শানে নুযুল জানা না থাকে তাহলে মনে হবে, নামাজের মধ্যে কেবলা মুখী হওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই। পূর্ব-পশ্চিম সবদিকেই যখন আল্লাহ আছেন, তখন কেবলা মুখি হওয়ার দরকার কি? অথচ ধারণাটা সম্পূর্ণ ভুল। অন্য এক আয়াতে কেবলা মুখি হতে নির্দেশ দিয়েছে। এ জটিলতা নিরসনে শানে নুযুল এর শরণাপন্ন হওয়া ছাড়া আমাদের কোন গতি নাই।
হযরত ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু থেকে বর্ণিত মুসলিম জাতির কিবলা যখন বাইতুল মুকাদ্দাস থেকে পরিবর্তিত হয়ে বাইতুল্লাহ বা ‘কাবা শরীফ’ নির্ধারিত হলো, তখন ইহুদিরা প্রশ্ন করল যে এই পরিবর্তনের হেতু কি? তাদের এ প্রশ্নের জবাবে আলোচ্য আয়াত নাযিল হয়। আয়াতের মর্ম হচ্ছে প্রতিটি দিকের স্রষ্টা আল্লাহ। তিনি সর্বত্র বিরাজমান। সুতরাং যে দিকে তিনি মুখ করতে বলেন সে দিকেই মুখ করা ফরজ। অনেক সময় শানে নুযুল ছাড়া আয়াতের সঠিক মর্মোদ্ধার সম্ভব হয় না। যদি শানে নুযুল জানা না থাকে তাহলে ঐ আয়াত সম্পর্কে মানুষের ভুল মর্ম লাভের সম্ভাবনা থাকে অধিক। এখানে যুক্তির ঘোড়া দৌড়ানোর কোনো অবকাশ নেই।
