সংযুক্ত আরব আমিরাত ও সৌদি আরবের চকোলেট প্রেমীরা লক্ষ্য করছেন, প্রিয় চকোলেটগুলো এখন ছোট হচ্ছে, দাম বাড়ছে, আর কখনও কখনও স্বাদেও কম যেন চকোলেট থাকে। এর পেছনে রয়েছে বিশ্বব্যাপী কোকো সংকট। খবর খালিজ টাইমস
আফ্রিকার আইভরি কোস্ট ও ঘানা থেকে বিশ্ব কোকোর ৭০ শতাংশ আসে। কিন্তু চরম আবহাওয়া, রোগ ও অবৈধ খনির কারণে এই দুই দেশের কোকোর উৎপাদন কমে গেছে ১০ শতাংশের বেশি। রয়টার্সের তথ্য মতে, ঘানার কোকোর উৎপাদন কমে এসেছে মাত্র ৫ লাখ মেট্রিক টনে, যা আগের তুলনায় অর্ধেকেরও কম।
কোকোর সরবরাহ কমে যাওয়ায় দাম আকাশছোঁয়া হয়ে গেছে। জানুয়ারিতে প্রতি টন কোকোর দাম পৌঁছেছিল ১০ হাজার ৭৫০ ডলার, যা দুই বছর আগের তুলনায় দ্বিগুণের বেশি। শুধু কোকো বিন নয়, কোকো বাটার ও কোকো পাউডারের দামও রেকর্ড দামে।
দাম বাড়ায় চকোলেট প্রস্তুতকারকরা সঙ্কুচিত হচ্ছেন। ইউরোপ, এশিয়া ও আমেরিকার প্রসেসিং কমে গেছে। এর ফলে বাজারে চকোলেটের পরিমাণ কমছে, যা পাওয়া যাচ্ছে তার আকার ও স্বাদেও পরিবর্তন আসছে।
বিশ্বখ্যাত ব্র্যান্ডগুলো এখন ছোট আকারের চকোলেট বার বিক্রি করছে, দাম বাড়াচ্ছে, আর কিছু ক্ষেত্রে সস্তা উপাদান যুক্ত করছে। যেমন, হার্শে, মার্স ও মনডেলেজের চকোলেটগুলোতে দেখা যাচ্ছে এই পরিবর্তন। যুক্তরাজ্যে Twix ইস্টার এগের ওজন কমে গেছে ৩১৬ গ্রাম থেকে ২৫৮ গ্রামে, আর দাম বেড়েছে ৪৭ শতাংশ।
বিশ্লেষকরা বলছেন, কোকোর এই সংকট দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে এবং ২০২৬ সাল পর্যন্ত দাম বাড়তেই থাকবে। নতুন কোকো গাছ বড় হতে বছর সময় লাগে, তাই স্বাভাবিক অবস্থায় ফেরার কোন ত্বরান্বিত উপায় নেই।
