বিটকয়েন ছুঁয়েছে নতুন উচ্চতা, নীতিগত স্বীকৃতির দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে গোটা ক্রিপ্টো বিশ্ব। যুক্তরাষ্ট্রে ‘ক্রিপ্টো উইক’ শুরু হওয়ার আগে থেকেই বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উন্মাদনা তুঙ্গে। প্রতিনিধি পরিষদে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ বিল নিয়ে আলোচনা এবং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সরাসরি সমর্থন-সব মিলিয়ে যেন ইতিহাস গড়ার অপেক্ষায় ডিজিটাল অর্থনীতি। খবর রয়টার্স
একদিকে নতুন আইন আসছে, অন্যদিকে ক্রিপ্টোকে বৈধ কাঠামোয় আনতে শুরু হয়েছে বাস্তব উদ্যোগ। এই যুগান্তকারী মুহূর্তেই বিটকয়েন আবার প্রমাণ করল এটা শুধু একটি ডিজিটাল কয়েন নয়, বরং আগামী অর্থনীতির চালিকাশক্তি।
যুক্তরাষ্ট্র কংগ্রেসের ক্রিপ্টো উইক শুরুর আগেই বিটকয়েন পৌঁছে গেছে নতুন সর্বোচ্চ দামে ১ লাখ ১৭ হাজার ৩৩৩ মার্কিন ডলারে। চলতি বছরে যা ২৬ শতাংশ এবং গত তিন মাসে ৪১ শতাংশ প্রবৃদ্ধি।
আগামী সোমবার থেকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ বিল নিয়ে আলোচনা শুরু হবে- Genius Act, Clarity Act, ও Anti-CBDC Surveillance State Act। এসব বিলের লক্ষ্য, ক্রিপ্টোকারেন্সিকে একটি স্পষ্ট ও স্থিতিশীল নীতিমালার আওতায় আনা।
ক্রিপ্টো বাজারে এমন ইতিবাচক পরিবেশে শুধু বিটকয়েন নয়, বাড়তি লাভে মেতেছে অন্যান্য টোকেনও, ইথার বেড়েছে ৫.১৩ শতাংশ, XRP ৯.৭ শতাংশ, Solana ০.৮ শতাংশ। বাজারমূল্য গিয়ে ঠেকেছে প্রায় ৩.৬৭ ট্রিলিয়ন ডলারে।
নতুন আইন অনুযায়ী, স্টেবলকয়েন ইস্যু করার ক্ষেত্রে মার্কিন ডলার ও ট্রেজারি বিল দিয়ে রিজার্ভ রাখার বাধ্যবাধকতা আসছে। প্রকাশ্যভাবে রিজার্ভের তথ্য জানাতে হবে প্রতি মাসে।
Genius Act ইতোমধ্যে সিনেটে দ্বিদলীয় সমর্থন পেয়েছে এবং হাউসে পাস হওয়ার পর প্রেসিডেন্টের স্বাক্ষরের অপেক্ষায় থাকবে।
Clarity Act আইন পাস হলে নির্ধারণ করা হবে কোন টোকেন সিকিউরিটি আর কোনটি কমোডিটি। ফলে SEC ও CFTC-এর দায়িত্ববণ্টন আরও পরিষ্কার হবে। ট্রাম্প প্রশাসন এই বিলকে বিনিয়োগবান্ধব বললেও ডেমোক্রেটরা এতে শঙ্কা দেখছেন।
তবে সব পক্ষ এতটা আশাবাদী নন। বিশ্লেষকরা বলছেন, অতিরিক্ত উত্তেজনার মাঝে বাস্তবতা ভুলে গেলে ঝুঁকি বাড়বে। সিটি ব্যাংকের প্রধান কৌশলবিদ ডার্ক উইলার বলেন, ‘বিটকয়েন এখনো সত্যিকারের ‘ডিজিটাল সোনা’ হয়ে ওঠেনি।’
ইটরো’র ক্রিপ্টো বিশ্লেষক সাইমন পিটার্স বলেন, ‘বাজার চাঙ্গা হলেও যে কোনো সময় স্বল্পমেয়াদি দরপতনের আশঙ্কা উড়িয়ে দেয়া যায় না।’
বিলগুলোকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক বিতর্কও তুঙ্গে। ডেমোক্রেট সিনেটর এলিজাবেথ ওয়্যারেন মন্তব্য করেছেন, ‘এই উদ্যোগ আসলে ক্রিপ্টো লবির পূর্ণ ইচ্ছাপত্র বাস্তবায়ন করছে।’
তবে হোয়াইট হাউস বলছে, ট্রাম্পের পরিবারের প্রকল্পগুলোতে কোনো স্বার্থসংঘাত নেই, কারণ সম্পদগুলো একটি ট্রাস্টের অধীনে পরিচালিত।
