ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন আমদানি শুল্কে মূল্যবৃদ্ধির আশঙ্কা আবারও মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। তবে এই শুল্ক কি ‘অস্থায়ী’ প্রভাব ফেলবে, নাকি দীর্ঘমেয়াদে মুদ্রাস্ফীতি বাড়াবে এই প্রশ্নে দ্বিধাবিভক্ত মার্কিন অর্থনীতিবিদ ও ফেড কর্মকর্তারা। খবর রয়টার্স
ট্রেজারি সেক্রেটারির উপদেষ্টা জোসেফ লাভর্গনা বলেন, শুল্ক মোটেও মুদ্রাস্ফীতির কারণ নয়। তার দাবি, যেসব অর্থনীতিবিদ শুল্ককে মূল্যবৃদ্ধির জন্য দায়ী করছেন, তারা রাজনৈতিক পক্ষপাতদুষ্ট বিশ্লেষণ করছেন। প্রায় সব অর্থনীতিবিদই ভুল করেছেন।
তিনি বলেন, একবার দাম বেড়ে গেলে তা মুদ্রাস্ফীতি নয়। বরং মুদ্রাস্ফীতি বলতে বোঝায় ধারাবাহিক মূল্যবৃদ্ধি। তার মতে, শুল্কের কোনো নেতিবাচক প্রভাব থাকলেও তা হবে এককালীন।
করোনার পর মুদ্রাস্ফীতি নিয়ে ফেড যে ‘অস্থায়ী’ ভাবনা করেছিল, তা ভুল প্রমাণিত হয়। এবার ট্রাম্পের নতুন শুল্ক নিয়ে ফের সেই বিতর্ক ফিরে এসেছে।
প্রশাসনের একপক্ষ বলছে, শুল্কের প্রভাব থাকবে সাময়িক। কিন্তু অন্যপক্ষ বলছে, এই শুল্ক অর্থনীতিতে দীর্ঘস্থায়ী চাপ তৈরি করতে পারে।
হার্ভার্ডের অধ্যাপক আলবার্তো কাভালো বলেন, কোম্পানিগুলো একবারে দাম না বাড়িয়ে ধাপে ধাপে বাড়াবে, আর এটাই দীর্ঘ সময় ধরে মুদ্রাস্ফীতি বাড়তে সাহায্য করবে। তিনি বলেন, ধীরে ধীরে দাম বাড়লে তা দীর্ঘমেয়াদি মুদ্রাস্ফীতি সৃষ্টি করে।
রয়টার্স, হার্ভার্ড ও ফেডারেল রিজার্ভের গবেষণায় দেখা যাচ্ছে, চীনা পণ্যে শুল্ক আরোপের প্রভাব ইতিমধ্যে কিছু ক্ষেত্রে দেখা গেছে। কিন্তু হোয়াইট হাউসের নিজস্ব গবেষণা বলছে, এই বছর আমদানি পণ্যের দাম বরং কমেছে। তবে কেউই এখনো পরিষ্কার করে বলতে পারছে না, শেষ পর্যন্ত শুল্ক অর্থনীতিতে কী প্রভাব ফেলবে।
এই বিতর্ক কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ’র ভেতরেও বিভাজন তৈরি করেছে। একজন গভর্নর সুদের হার কমানোর পক্ষে, অন্যজন বলছেন, এখনই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া ঠিক হবে ন
ফেড গভর্নর ক্রিস ওয়ালার হার কমাতে চান, কারণ তিনি মনে করেন শুল্কের প্রভাব সীমিত, আর অর্থনীতি ধীর হচ্ছে। কিন্তু নিউ ইয়র্ক ফেডের প্রেসিডেন্ট জন উইলিয়ামস বলছেন, পরিস্থিতি এখনো পর্যালোচনার পর্যায়ে।
বিশ্লেষক থিয়েরি উইজম্যান সতর্ক করে বলেছেন, এই বিতর্ক যদি রাজনৈতিক বিভাজনে রূপ নেয়, তাহলে তা ফেডের স্বাধীনতার প্রশ্ন তুলবে এবং মার্কিন বন্ড মার্কেটে অস্থিরতা সৃষ্টি করতে পারে।
