২০২৩ সালে বিশ্বের ৯৬ শতাংশ মহাসাগরে রেকর্ড পরিমাণ গরম পড়েছে, এমন নজিরবিহীন তথ্য উঠে এসেছে নতুন এক বৈজ্ঞানিক গবেষণায়। সামুদ্রিক তাপপ্রবাহ নামে পরিচিত এই দীর্ঘস্থায়ী উষ্ণতা অনেক ক্ষেত্রে অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে দিয়েছে। বিজ্ঞানীরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের গতি ও প্রকৃতি এতটাই পরিবর্তিত হচ্ছে যে, এটি হয়তো একটি টিপিং পয়েন্টের ইঙ্গিত দিচ্ছে। খবর লাইভ সায়েন্স
বৃহস্পতিবার (২৪ জুলাই) প্রকাশিত ‘সায়েন্স’ জার্নালে গবেষকরা জানিয়েছেন, ২০২৩ সালের সামুদ্রিক তাপপ্রবাহ ছিল গড়ের চেয়ে চার গুণ বেশি সময় স্থায়ী। সবচেয়ে তীব্র তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে উত্তর আটলান্টিক, উত্তর ও দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগর এবং ক্রান্তীয় অঞ্চলে।
উত্তর আটলান্টিকের একটি তাপপ্রবাহ ৫২৫ দিন ধরে চলে, যা এ যাবৎ কালের মধ্যে দীর্ঘতম। দক্ষিণ-পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরে রেকর্ড ছাড়িয়ে যায় এই তাপপ্রবাহের ব্যাপ্তি।
বিজ্ঞানীরা বলছেন, কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবেশগত পরিবর্তন এই উষ্ণতা বৃদ্ধির কারণ:
- আকাশে মেঘপত্র কমে যাওয়ায় সূর্যের তাপ সরাসরি সাগরের উপর পড়েছে।
- বাতাস দুর্বল হওয়ায় সাগরের শীতল স্রোতগুলি কার্যকর হয়নি।
- সাগরের স্রোতের গতিপথেও এসেছে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন।
এই পরিবর্তনগুলো মিলেই সৃষ্টি করেছে চরম উষ্ণতা, যা অনেক ক্ষেত্রে প্রাকৃতিক ভারসাম্য নষ্ট করে দিচ্ছে।
এতো বড় পরিসরের উষ্ণতা জলবায়ুর ‘টিপিং পয়েন্টে’ পৌঁছার আশঙ্কা তৈরি করেছে। অর্থাৎ, এমন একটি পর্যায়, যার পরে পরিবর্তন আর ফেরানো সম্ভব নয়।
তবে মার্কিন মহাসাগর ও বায়ুমণ্ডলবিষয়ক সংস্থা এনওএএ’র জ্যেষ্ঠ বিজ্ঞানী মাইকেল ম্যাকফ্যাডেন বলছেন, ‘২০২৩ সাল ছিল অবশ্যই ব্যতিক্রম, তবে আমি এখনই এটিকে টিপিং পয়েন্ট বলতে চাই না।’
তার মতে, এই বছরে শক্তিশালী এল নিনো-র প্রভাবও কাজ করেছে। পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরে অস্বাভাবিক উষ্ণতা এই এল নিনোর সময় গভীর সাগর থেকে তাপ বের হয়ে আসে এবং তা বৈশ্বিক উষ্ণতাকে বাড়িয়ে তোলে।
এই চরম তাপপ্রবাহ সামুদ্রিক বাস্তুতন্ত্র এবং সাগরনির্ভর অর্থনীতিকে বিপর্যস্ত করছে। প্রবাল প্রাচীর, কেল্প বন, সামুদ্রিক ঘাসের মতো প্রাকৃতিক সম্পদ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এসব বাস্তুতন্ত্রে নির্ভর করে বহু প্রজাতি ও উপকূলীয় জনগোষ্ঠী।
ক্যালিফোর্নিয়ার উপকূলে দেখা গেছে বিষধর সামুদ্রিক সাপ, যা সাধারণত থাকে ইকুয়েটোরিয়াল অঞ্চলে। গরম পানির প্রবাহে তারা এখন আরও উত্তরের দিকে চলে এসেছে।
গবেষকরা সতর্ক করে বলছেন, এই ঘটনা একক নয়। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে এমন উষ্ণতা বারবার দেখা দেবে।
এটা জলবায়ু পরিবর্তনেরই ফল, বলছেন ম্যাকফ্যাডেন। ‘এখন থেকে সমুদ্রে ও বায়ুমণ্ডলে আরও বেশি তাপমাত্রা চরমে উঠবে এবং এর প্রভাব বিশ্বব্যাপী পড়বে।’
