ঢাকা শনিবার , ২ আগস্ট ২০২৫
আজকের সর্বশেষ সবখবর

বিশ্ববাজারে হঠাৎ দাম কমলো কফি-চিনি ও কোকোর

আইএম নিউজ ডেস্ক
আগস্ট ২, ২০২৫ ৬:৩৩ অপরাহ্ণ
Link Copied!

যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য শুল্কছাড়ের আশায় আন্তর্জাতিক বাজারে কফি ও কোকোর দাম শুক্রবার (০১ আগস্ট) হঠাৎ করেই নেমে গেছে। বিনিয়োগকারীরা আশা করছেন, যুক্তরাষ্ট্র যেসব দেশ থেকে এই গ্রীষ্মমণ্ডলীয় পণ্য আমদানি করে, তাদের জন্য শুল্কে ছাড় দিতে পারে।

উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় পুরো অঞ্চলেই কফি ও কোকোর মতো ফসল উৎপাদনের জন্য অনুপযোগী। ফলে এসব পণ্যে শুল্ক আরোপ নিয়ে ব্যাপক আলোচনা চলছে।

শুক্রবার লন্ডনের বাজারে কোকোর দর ০.৩ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে মেট্রিক টনপ্রতি ৫ হাজার ৫০০ পাউন্ডে। যদিও এর আগের দিন এই দর ৩.৫ শতাংশ বেড়েছিল।

 

মালয়েশিয়া জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র কোকো, রাবার ও পাম তেলে শুল্ক আরোপ নাও করতে পারে। তবে এখনো চূড়ান্ত কোনো চুক্তি হয়নি। মার্কিন বাণিজ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, যেসব পণ্য যুক্তরাষ্ট্রে উৎপাদিত হয় না, সেগুলোতে শুল্কছাড় দেয়া হতে পারে। যদি উৎপাদক দেশের সঙ্গে চুক্তি হয়।

কমার্জব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চুক্তির অনুপস্থিতিতে আইভরি কোস্ট ও ঘানার ওপর ১৫ শতাংশ শুল্ক কার্যকর হবে। অথচ এই দুটি দেশ বিশ্বে কোকো সরবরাহের প্রায় ৬০ শতাংশ যোগান দেয়।

তবে খারাপ আবহাওয়া এবং মার্কিন চকোলেট প্রস্তুতকারক হার্শির ভালো মুনাফার খবর কোকোর দরপতন কিছুটা থামিয়ে দিয়েছে। নিউইয়র্কে কোকোর দর ০.৫ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ৮ হাজার ৪৫৮ ডলার প্রতি টনে।

বিশ্বের বৃহত্তম কফি উৎপাদক দেশ ব্রাজিলের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করায় কফির বাজারে বড় ধস দেখা গেছে। শুক্রবার নিউইয়র্কে অ্যারাবিকা কফির দাম ২.৫ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে প্রতি পাউন্ড ২.৮৮৫০ ডলারে। এর আগের দিন দাম ০.৮ শতাংশ বেড়েছিল।

এই শুল্ক ৬ আগস্ট থেকে কার্যকর হবে। তবে ব্রাজিলীয় রপ্তানিকারক ও মার্কিন ব্যবসায়ী সংগঠনগুলো এই সিদ্ধান্ত থেকে ছাড় পাওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র তার মোট কফির এক-তৃতীয়াংশ ব্রাজিল থেকে আমদানি করে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, এই শুল্ক কার্যকর হলে স্বল্পমেয়াদে কফির দাম বেড়ে যেতে পারে। এতে বাজারে সরবরাহ সংকট ও বৈশ্বিক সরবরাহচক্রে বড় ধরনের পরিবর্তন দেখা দিতে পারে।

রোবাস্টা কফির ক্ষেত্রেও একই ধারা দেখা গেছে। শুক্রবার রোবাস্টা কফির দাম ২.২ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ২৬০ ডলার প্রতি টনে। এদিকে ইন্দোনেশিয়ার সুমাত্রা থেকে রোবাস্টা রপ্তানি গত জুন মাসে ৫৩ হাজার ৮৭০.২ টনে পৌঁছেছে, যা আগের বছরের তুলনায় ৩৯০ শতাংশ বেশি।

বাজারে চিনি দরের ওপরও প্রভাব পড়েছে। ‘র’ মিল চিনি ০.৭ শতাংশ কমে প্রতি পাউন্ড ১৬.২৪ সেন্টে দাঁড়িয়েছে। অপরদিকে, পরিশোধিত (হোয়াইট) চিনি ০.৫ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ৪৬৫.৫০ ডলার প্রতি টনে।

ব্রাজিলের শিল্পসংগঠন ইউএনআইসিএ জানিয়েছে, দেশটির কেন্দ্র-দক্ষিণ অঞ্চলে জুলাইয়ের প্রথমার্ধে চিনি উৎপাদন ১৫ শতাংশের বেশি বেড়েছে, যা বাজারে সরবরাহ বাড়াতে সাহায্য করছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন....