সৌদি আরবে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের হার সম্প্রতি আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে গেছে। গত তিন দিনে দেশটিতে ১৭ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে, যা ২০২২ সালের মার্চের পর সর্বোচ্চ হার। সোমবার (৪ আগস্ট) সন্ত্রাসবিরোধী মামলায় দোষী সাব্যস্ত আরও দু’জনের শাস্তি কার্যকর করা হয়। এর আগে শনিবার ও রোববার ১৫ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়, যাদের বেশিরভাগই বিদেশি এবং মাদক মামলার দণ্ডপ্রাপ্ত
সৌদি প্রেস এজেন্সির বরাতে সিবিএসের প্রতিবেদনে বলা হয়, শনিবার ও রোববার মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে ১৩ জন হাশিশ এবং একজন কোকেন পাচারের দায়ে দণ্ডিত ছিলেন। চলতি বছরের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত দেশটিতে অন্তত ২৩৯ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছে, যার মধ্যে ১৬১ জন মাদক মামলার আসামি এবং ১৩৬ জনই বিদেশি নাগরিক।
মানবাধিকার সংস্থা রিপ্রাইভের মতে, বিশ্বের অন্যান্য দেশে যেখানে হাশিশ ব্যবহারে শাস্তিতে শিথিলতা বাড়ছে, সেখানে সৌদির এমন কঠোর অবস্থান উদ্বেগজনক। তারা বলছে, ২০২৩ সালে শুরু হওয়া ‘মাদকবিরোধী যুদ্ধ’-এর ফলেই এই মৃত্যুদণ্ড কার্যকরে বড় ধরনের গতি দেখা যাচ্ছে।
২০১৯ সালের পর প্রায় তিন বছর মাদক মামলায় মৃত্যুদণ্ড স্থগিত থাকার পর, ২০২২ সালের শেষ দিকে আবারও সর্বোচ্চ শাস্তি কার্যকর শুরু করে সৌদি সরকার। মানবাধিকার কর্মীরা বলছেন, এটি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সংস্কারমূলক ‘ভিশন ২০৩০’-এর সঙ্গে সাংঘর্ষিক। যদিও সৌদি কর্তৃপক্ষের দাবি, মৃত্যুদণ্ড জননিরাপত্তা নিশ্চিতের জন্য এবং সব ধরনের আইনি প্রক্রিয়া শেষে তা কার্যকর করা হয়।
