১৫ আগস্ট ১৯৭৫। স্বাধীনতার উত্তর বাংলাদেশের ইতিহাসে বর্বর হত্যাকাণ্ড। রাজধানীর ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের বাসায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যা করে একদল সেনা সদস্য। প্রাণ হারান, বেগম ফজিলাতুন্নসো মুজিব, ছেলে শেখ কামাল, শেখ জামাল, শেখ রাসেলসহ ১৬ জন। দেশের বাইরে থাকায় বেঁচে যান শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা
অর্ধশত বছর পর ঐতিহাসিক ১৫ আগস্ট এখন নানা চ্যালেঞ্জ আর বিতর্কের বৃত্তে। ধানমন্ডি ৩২ নাম্বারের সেই বাড়িটি এখন ভিন্ন চেহারায়। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর বাতিল হয়েছে জাতীয় শোক দিবস ও সাধারণ ছুটি।
রাষ্ট্রবিজ্ঞানির মতে, শেখ হাসিনা তার বাবাকে অতিমাত্রায় রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করে, বঙ্গবন্ধুকে সর্বজনীন থেকে দলীয় নেতায় পরিণত করেছেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্র বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক সাব্বীর আহমেদ, বঙ্গবন্ধুর যে সার্বজনীন ক্যারেক্টার কিন্তু আওয়ামী লীগ এবং তার অঙ্গসংগঠন তাকে দলীয় সম্পদে পরিণত করেছে। এটাই হচ্ছে সবচেয়ে বড় ট্র্যাজেডি।
তিনি বলছেন, অতি স্তুতি আর স্মৃতি সংরক্ষণের বাড়াবাড়ি করে, বাংলাদেশের ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রকে হালকা করে তুলেছিল আওয়ামী লীগ সরকার। যার মাশুল দিতে হয়েছে তাদেরকে।
সাব্বীর আহমেদ আরও বলেন, শেখ মুজিবকে যেভাবে জাতির মননের মধ্যে ঢুকানোর চেষ্টা করা হয়েছে এখানে আমার মনে হয় অনেক বাড়াবাড়ি হয়ে গেছে। বঙ্গবন্ধুর মূর্তি দিয়ে সারাদেশ ভড়ে ফেলার যে অপচেষ্টা সেটা কি সত্যিকারের তার ভালোবাসা থেকেই হয়েছে। সেটা কিন্তু আমার কাছে মনে হয়নি। অতিরিক্ত কোনো কিছুই মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য হয়না।
বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার নায়কদের ভবিষ্যতে কেউ রাজনৈতিক পণ্যে পরিণত করতে চাইলে, তাদেরও একই পরিণতির মুখোমুখি হতে হবে বলে মনে করেন অধ্যাপক সাব্বির আহমদে।
