ঢাকা শনিবার , ১৬ আগস্ট ২০২৫
আজকের সর্বশেষ সবখবর

ইরানের পক্ষ নিয়ে কেন তীব্র সমালোচনার মুখে দক্ষিণ আফ্রিকার সেনাপ্রধান?

আইএম নিউজ ডেস্ক
আগস্ট ১৬, ২০২৫ ৪:৩৯ অপরাহ্ণ
Link Copied!

ইরানে সরকারি সফরে গিয়ে পক্ষ নিয়ে কথা বলায় নিজ দেশে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছেন দক্ষিণ আফ্রিকার সেনাপ্রধান জেনারেল রুদজানি মাফওয়ানিয়া। বিশ্লেষকরা বলেছেন, তার এমন মন্তব্যের কারণে দোদুল্যমান অবস্থায় থাকা যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ আফ্রিকার সম্পর্ক আরও খারাপ পরিস্থিতির দিকে নিয়ে যেতে পারে। খবর আল জাজিরা

ইরান সফরে গিয়ে সেনাপ্রধান বলেন, তেহরান ও দক্ষিণ আফ্রিকার সামরিক লক্ষ্য একই। তার এই মন্তব্যের বিষয়টি এমন এক সময় সামনে এসেছে যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আরোপিত শুল্ক নিয়ে সমঝোতার চেষ্টা চালাচ্ছে দক্ষিণ আফ্রিকা।

গত সপ্তাহে দক্ষিণ আফ্রিকার পণ্যের ওপর ৩০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেন ট্রাম্প। যা ব্যবসায়ীদের দুর্ভোগকে আরও বাড়িয়েছে দিয়েছে। যদিও ট্রাম্পকে সন্তুষ্ট করার জন্য গত মে মাসে হোয়াইট হাউসে সফর করেছিলেন দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসা।

দক্ষিণ আফ্রিকার সেনাপ্রধান আসলে কী বলেছিলেন এবং কেনই বা তাকে নিয়ে এতো সমালোচনা-

বৃহস্পতিবার তেহরানে ইরানের সেনাবাহিনীর প্রধান মেজর জেনারেল সায়েদ আব্দুলরহিম মুসাভির সঙ্গে বৈঠক করেন দক্ষিণ আফ্রিকার সেনাপ্রধান রুদজানি মাফওয়ানিয়া। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম, প্রেস টিভি এবং তেহরান টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই বৈঠকে মাফওয়ানিয়া ইরানের সঙ্গে গভীর সম্পর্ক রয়েছে মন্তব্য করেন।

দক্ষিণ আফ্রিকার বর্নবাদবিরোধী লড়াইয়ে ইরানের ঐতিহাসিক সহযোগিতার কথা তুলে ধরে কমান্ডার মাফওয়ানিয়া বলেন, এই সম্পর্ক দুটি দেশের মধ্যে একটি স্থায়ী বন্ধন তৈরি করেছে।

তেহরান টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘এই সেনাপ্রধান গণপ্রজাতন্ত্রী দক্ষিণ আফ্রিকা ও ইসলামিক প্রজাতন্ত্র ইরানের লক্ষ্য এক ও অভিন্ন বলে জানিয়েছেন। আমরা সব সময় বিশ্বের নিপীড়িত ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছি।’

ওই প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, দক্ষিণ আফ্রিকার সেনাপ্রধান গাজায় বেসামরিক নাগরিকদের ওপর বোমা হামলা চালানোরও নিন্দা জানিয়েছেন।

অন্যদিকে জেনারেল মুসাভি আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে ‘ইহুদিবাদী শাসনব্যবস্থার’ বিরুদ্ধে দক্ষিণ আফ্রিকার গণহত্যার মামলার প্রশংসা করেছেন এবং বলেছেন যে এই প্রচেষ্টা ইরানের নীতির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। একই সঙ্গে তিনি ইরানের ওপর অর্থনৈতিক ও সামারিক আগ্রাসন চালানোর জন্য যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলের নিন্দা করে বলেছেন, এর মাধ্যমে তারা আন্তর্জাতিক আইন ও নীতি লঙ্ঘন করেছে।

দক্ষিণ আফ্রিকা সরকারের প্রতিক্রিয়া কী?

বৃহস্পতিবার দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসার অফিস জানিয়েছে, জেনারেল মাফওয়ানিয়ার ইরান সফরের বিষয়ে প্রেসিডেন্ট অবগত ছিলেন না। ইরান সফরের জন্য প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে তাকে অনুমতি দেয়া হয়েছে। প্রেসিডেন্ট অফিস থেকে কোনো অনুমতি দেয়া হয়নি।

প্রেসিডেন্ট রামাফোসা ২০২১ সালে মাফওয়ানিয়াকে সেনাপ্রধান হিসেবে নিযুক্ত করেন। এই জেনারেল দক্ষিণ আফ্রিকায় বর্ণবাদ যুগে আফ্রিকান ন্যাশনাল কংগ্রেসের (এএনসি) সশস্ত্র শাখায় দায়িত্ব পালন করেন। এই সংগঠনটি শুরুতে মুক্তির আন্দোলন হিসেবে যাত্রা শুরু করে এবং ২০২৪ সাল পর্যন্ত সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রেখেছিল।

প্রেসিডেন্টের মুখপাত্র ভিনসেন্ট মাগুয়েন্যা এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, সেনাপ্রধানের ইরান সফরের সিদ্ধান্ত অত্যন্ত অযৌক্তিক সময়ে নেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, “মধ্যপ্রাচ্যে ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা ও সংঘাতের এই সময়ে এ সফরকে ভুল সিদ্ধান্তই বলা যায়, এর থেকে বড় কথা হলো- তার কথা বলার সময় আরও বেশি সংযত থাকা উচিত ছিল।

সেনাপ্রধান মাফওয়ানিয়া কী বলছেন?

প্রেসিডেন্সির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মাফওয়ানিয়া ইতিমধ্যে দেশে ফিরে এসেছেন, তবে তিনি এ বিতর্ক নিয়ে কোনো প্রকাশ্য বিবৃতি দেননি। সরকার কীভাবে তাকে শাস্তি দিতে পারে, তা স্পষ্ট নয়।
প্রেসিডেন্সির এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, প্রেসিডেন্ট রামাফোসা আসন্ন কয়েক সপ্তাহের মধ্যে সেনাপ্রধানের সঙ্গে ব্রিফিংয়ের জন্য বৈঠক করবেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন....