রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ বলেন, ইউক্রেন ইস্যুতে দুই দেশের জাতীয় নেতাদের মধ্যে যেকোনো বৈঠক অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে প্রস্তুত করতে হবে। রাষ্ট্রীয় টিভি চ্যানেল রসিয়া-২৪-এ মঙ্গলবার (১৯ আগস্ট) দেয়া সাক্ষাৎকারে ল্যাভরভ বলেন, ইউক্রেন সংকট সমাধানে রাশিয়া অঙ্গীকারবদ্ধ, তা দ্বিপক্ষীয় হোক কিংবা ত্রিপক্ষীয় কোনো আলোচনার মাধ্যমেই হোক না কেন।
এর আগে, হোয়াইট হাউসে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি ও ইউরোপীয় নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সোমবার (১৮ আগস্ট) এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ট্রাম্প এ বৈঠককে কার্যকর বলে মন্তব্য করেছেন। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রসহ ইউরোপের নেতারা ইউক্রেনের নিরাপত্তা রক্ষায় সক্রিয় থাকবেন বলে জানানো হয়েছে।
সেই সঙ্গে ট্রাম্প জানিয়েছেন, রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে যুদ্ধ বন্ধে পুতিন ও জেলেনস্কির সঙ্গে বৈঠকের ব্যবস্থা করবেন।
এ বৈঠকে ইউরোপীয় নেতাদের মধ্যে- ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লিয়েন, ন্যাটো প্রধান মার্ক রুটে, যুক্তরাজ্যের প্রেসিডেন্ট কিয়ার স্টারমার, জার্মান চ্যান্সেলন ফ্রিডরিখ মার্জ, ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাঁক্রো ও ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি উপস্থিত ছিলেন।
ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকের পর ন্যাটো প্রধান মার্ক রুটে বলেন, রাশিয়া–ইউক্রেন যুদ্ধে যেভাবে মানুষ হত্যা হচ্ছে, তা বন্ধ করতে হবে। এছাড়া ইউক্রেনের অবকাঠামো ধ্বংসও আমাদের বন্ধ করতে হবে। এটি একটি ভয়াবহ যুদ্ধ। তিনি ট্রাম্পকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, ট্রাম্প ‘অচলাবস্থা ভেঙেছেন’।
উরসুলা ভন ডার লিয়েন বলেন, ‘আমরা এখানে এসেছি ইউক্রেনের জন্য একটি ন্যায্য ও স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা, হত্যাযজ্ঞ বন্ধ করার লক্ষ্যে একসঙ্গে কাজ করতে।’ তিনি আরও বলেন, প্রতিটি শিশুর পরিবারের কাছে ফিরে যাওয়া নিশ্চিত করতে হবে।
ফ্রিডরিখ মার্জ বলেন, ‘আমি কল্পনাও করতে পারছি না যে, পরবর্তী বৈঠক যুদ্ধবিরতি ছাড়া হবে। তাই, আসুন আমরা এটি নিয়ে কাজ করি এবং রাশিয়ার ওপর চাপ সৃষ্টি করার চেষ্টা করি।’ ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি বলেন, ‘আমরা অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে কথা বলব। এর প্রথমটি হলো, নিরাপত্তার নিশ্চয়তা। এটা কীভাবে নিশ্চিত করা যায় যে, এটি (যুদ্ধ) আবার ঘটবে না। এটাই সব ধরনের শান্তির পূর্বশর্ত।’
