রাস্তার পাশে মুদিখানার দোকানের সামনে পাটের ছলা বিছিয়ে একটি বাক্স নিয়ে বসে আছেন হৃদয়। সঙ্গে রয়েছে সুই সুতা, চিমটি, কাঠের তক্তা, চামড়া ও সুতা চামড়া কাটার যন্ত্র আর রং (কালি)। ওইসব দিয়েই ছেড়া জুতোর সেলাই আর কালি দিয়ে সুন্দরভাবে পরিপাটি করে দেন হৃদয়। রংপুর জেলার চকবাজার মসজিদ সংলগ্ন মোড়ে রাস্তার পাশে মুচির কাজ করেন ১৪ বছর বয়সী তরুণ হৃদয়।
ছেড়া জুতাকে মেরামতসহ কালি দিয়ে চলার উপযোগী করে দিলেও তার ভাগ্যের কোনো পরিবর্তন হয়নি। পরিবার-পরিজন নিয়ে খেয়ে না খেয়ে চলছে তার জীবন। বাবা নেই মা ও ছোট ভাইসহ তিন সদস্যের পরিবার তার। হৃদয়ের পড়াশোনার প্রতি প্রবল ইচ্ছা শক্তি থাকলেও তার বাবা চৈতন্য মৃত্যুবরণ করলে পরিবারের বড় ছেলে হিসাবে তাকেই সংসারের হাল ধরতে হয়। তাই বাধ্য হয়ে তৃতীয় শ্রেণিতে তার পড়াশোনার পাঠ চুকাতে হয়। হৃদয়ের স্বপ্ন ছিল পড়াশোনা করে অনেক বড় হবেন বাবা মায়ের স্বপ্ন পূরণ করবেন কিন্তু অর্থের অভাবে তা আর হয়ে ওঠেনি। কোথাও কোনো রকম সহযোগিতাও পায়নি। তাই বাধ্য হয়ে হৃদয়কে তার বাবার পেশাকে বেচে নিতে হয় ।
হৃদয় বলেন, মুচির কাজ করে এখন আর সংসার চলে না কারণ আগের মত মানুষ জুতায় কালি দেয় না। সে বলে অফিস আদালত যারা করেন তাদের মধ্যে অনেকেই নিজেই কালি আর ফ্রোমের ব্রাশ কিনে নেন। তারা নিজে নিজেই কালি করে বাইরে বের হন। ফলে মুচির কাছে যাওয়ার প্রয়োজন হয় না।
হৃদয়ে আরো বলেন, সারাদিনে যে রোজগার হয় তা দিয়ে সংসার চালানো অনেক কষ্টের তাই বাধ্য হয়ে ছোট ভাই বাবুলকে ( ৯) সেলুনের কাজ শিখতে দিয়েছি যাতে করে সেখান থেকে কিছু অর্থ পেলে সংসার ভালোভাবে চালানো যায়। এভাবেই প্রতিদিন কোনোরকম দু’মুঠো ডাল ভাত যোগানোর জন্য রাস্তায় বসে থাকেন ঘন্টার পর ঘন্টা। তার বসায় যায়গায় ছাউনি না থাকায় বৃষ্টির দিনে কাজ করতে পারে না ফলে মাঝে মধ্যে না খেয়েই রাত কাটাতে হয়।
যে সময় তার স্কুলে থাকার কথা, বন্ধুদের সাথে আড্ডা দেওয়ার কথা ও অন্য শিশুদের মতো খেলাধুলায় ব্যস্ত থাকার কথা তখন সে তার স্বপ্নকে বিসর্জন দিয়ে পরিবারের জন্য দুইবেলা আহার যোগাতে ব্যস্ত জীবন পার করছেন এই অদম্য তরুণ।
যদি কখনো পড়াশোনা করার সুযোগ আসে তাহলে সবকিছু ছেড়ে দিয়ে আবারও স্কুলে ফিরবেন বলে জানান এই সাহসী তরুণ।
প্রতিবেদক
মোঃ লাবিন হোসাইন
শিক্ষার্থী , গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ
বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় রংপুর
