ঢাকা রবিবার , ২৬ মার্চ ২০২৩
আজকের সর্বশেষ সবখবর
দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি

ক্ষুধার্ত পাকস্থলী বনাম শূন্য হৃদয়

রজব আলী, বেরোবি
মার্চ ২৬, ২০২৩ ৮:৩৪ অপরাহ্ণ
Link Copied!

 ‘কি আর কমো দুঃখের কথা,হামরা দিন আনি দিন খাই। জিনিসপত্রের যে দাম, কি খাই আর কি পড়ি। ছৈল’র ঘরোক ভালো-মন্দ খাবার দিবার পাই না। তারজন্যে বাড়িত ছোটোখাটো অশান্তি নাগি আছে। তার উপর রমজান মাস আবার সামনোত ঈদ,বড়ই চিন্তাত আছি’। এইভাবে করুণস্বরে ভাষা ব্যাক্ত করেছিলেন রংপুর সদর উপজেলার চন্দনপাট ইউনিয়নের সহিদার আলী।

প্রসঙ্গটা দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি। এটি কেবল বাংলাদেশে নয় সারাবিশ্বে একটি সাধারণ সমস্যা হয়ে দাড়িয়েছে। এখানে ক্ষুধার্ত পাকস্থলী বলতে সাধারণ ভোক্তা এবং শূন্য হৃদয় বলতে সিন্ডিকেট তথা মুনাফালোভী ব্যবসায়ীরা।প্রতি বছর রমজান মাস বা এর আগে থেকেই বাংলাদেশ বেড়ে যায় নিত্যপণ্যের দাম। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি যেকোনো দেশের মধ্যবিত্ত, নিম্নবিত্ত দের জন্য বাড়তি বিরম্বনার। এমনিতেই নিত্যপণ্যের দাম বেড়ে চলেছে তার উপর রমজান মাস আসলে মুনাফালোভী সিন্ডিকেট গুলো বেপরোয়া হয়ে ওঠে।এতে সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ যারা কোনোমতে অভাবে দিনাতিপাত করেন, তারা নিত্যপণ্যের মূল্য বৃদ্ধির জন্য আলাদা একটা মানসিক চাপের মধ্যে থাকেন। যার জন্য পরিবারে লেগে থাকে অশান্তি। কারন দারিদ্র্য গুণনাশিনী। বলা যায় মরার উপর খাঁড়ার ঘাঁ।

যদিও সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয় যে রমজান মাসে দ্রব্যমূল্যের দাম সহনশীল মাত্রায় থাকবে। কিন্তু মুনাফালোভী সিন্ডিকেট গুলোর কারনেই বাজারের জিনিসপত্রের দাম উর্ধ্বগতি।

বিশ্ববাজারে যখন চালের দাম কমতির দিকে তখন বাংলাদেশে বাড়তির দিকে। অন্যদিকে মাছ ও পোল্ট্রির বাজারেও রমজানের প্রভাব পড়েছে কিছুদিন আগ থেকে। সবজির দামও চড়া। এদিকে রমজান কেন্দ্রিক পণ্য ছোলা, বেসন,খেঁসারি ডাল ইত্যাদির দাম ১ মাসের ব্যবধানে বেড়েছে ২০-২৫ টাকা। এবং খেজুরের মূল্য কেজিতে ২০০-৪০০ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। অন্যান্য নিত্যপণ্য সামগ্রীর দাম আকাশ ছোঁয়া।

কয়েকটি স্হানীয় বাজার পরিদর্শন করে জানা যায় জিনিসপত্রের দাম বেড়ে যাওয়ায় আগের তুলনায় বিক্রি কমে গেছে। গ্রাহকরা পূর্বে যেখানে এক কেজি মাছ অথবা মাংস নিতো,মূল্য বৃদ্ধির ফলে এখন পরিমাণে কমিয়ে নিচ্ছেন। পরিদর্শন কালে কয়েকজন গ্রাহকের সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়।সাক্ষাৎকারে এক করুন চিত্র উঠে আসে। তার মধ্যে একজন সইদার আলী যার করুণ বক্তব্য শুরুতে বর্নিত হয়েছে। তার মতো এমন আরো হাজারো মানুষ আছে যাদের নীরব আর্তনাদ নীরবেই রয়ে যায়। শূন্য হৃদয় তথা সিন্ডিকেটধারীদের হৃদয়ে সহনশীলতার স্ফুরণ ঘটায় না। তারা নিজেদের আখের গোছাতে মরিয়া।

অথচ রমজান মাস আসলে ভিন্ন চিত্র দেখা যায় আরব দেশগুলোতে। রোজার আগে সেখানে শুরু হয় পণ্যের দাম কমানোর প্রতিযোগিতা। সংযুক্ত আরব-আমিরাতে রমজানে ইতোমধ্যে দ্রব্যমূল্যের ৭৫ শতাংশ পর্যন্ত মূল্য ছাড়ের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশের এই চিত্রের অবস্থা সরকারের নীতিনির্ধারক কিংবা সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর অবিদিত নয়। তাই বাজার মনিটরিং বাড়াতে হবে। দেশের মানুষের স্বস্তির জন্য প্রয়োজন সহনশীল মাত্রায় নিত্যপণ্যের দাম কমানো এবং সিন্ডিকেটধারী ব্যবসায়ীদের লাগাম টানা এখন সময়ের দাবি।

প্রতিবেদক,
রজব আলী 
শিক্ষার্থী: বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়,রংপুর। 
সংবাদটি শেয়ার করুন....