ঢাকা বুধবার , ৩১ মে ২০২৩
আজকের সর্বশেষ সবখবর

বরিশালে জমে উঠেছে তাল শাঁসের বেচাকেনা

বরিশাল ব্যুরো
মে ৩১, ২০২৩ ৩:৩৩ অপরাহ্ণ
Link Copied!

বরিশালের আকাশে বৃষ্টির দেখা যেন মিলছেই না। রোদের তাপে অতিষ্ট হয়ে পড়ছে জনজীবন। তীব্র গরমের মধ্যে একটু স্বস্তি পেতে শৌখিন ক্রেতা থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের কাছে মধু মাসের ফল তাল শাঁসের কদর বেড়েছে।
যদিও সহজলভ্য ও মুখরোচক হওয়ায় এ সময় বিভিন্ন বয়সী মানুষের পছন্দের তালিকায় থাকে তাল শাঁস। তালের নরম কচি শাঁস খেতে সুস্বাদু হওয়ায় বর্তমানে এর চাহিদাও বেড়েছে।
বরিশাল নগরীর বাজার থেকে শুরু করে প্রধান সড়কের মোড়ে মোড়ে বিক্রেতারা এখন বিক্রি করছেন তাল শাঁস। কোনো কোনো বিক্রেতারা ভ্যানযোগে পাড়া ও মহল্লায় ঘুরে ঘুরে তাল শাঁস বিক্রি করছেন।
নগরীর চৌমাথা এলাকার তাল শাঁস বিক্রেতা আরিফুল ইসলাম জানান, প্রতি বছর মধু মাসে শহরের প¦ার্শবর্তী বিভিন্ন গ্রামে ঘুরে তাল কেনেন। পরে ঘুরে ঘুরে বিভিন্ন স্থানে তা বিক্রি করেন। প্রতি বছরই এ সময় তালের শাঁস বিক্রি করে সংসার চালান। বৈশাখ মাস থেকে জ্যৈষ্ঠের অর্ধেক সময় পর্যন্ত চলবে তালের শাঁস বিক্রি। তবে এবারে ফলন কম হওয়ায় দাম কিছুটা বাড়তি বলেও জানান তিনি।
বিএম কলেজ গেটের সামনে বিক্রেতা মাহাবুব হাওলাদার জানান, এক একটি তাল গাছ ৫০০ টাকা থেকে ১ হাজার টাকায় সিজন হিসেবে কেনেন। পরে সেই তাল গাছ থেকে তাল সংগ্রহ করে ভ্যানযোগে বিভিন্ন স্থানে ঘুরে বিক্রি করেন। ভালো ফলন হলে সেই গাছের তাল বিক্রি করে দুই থেকে চার হাজার টাকা আয় করা যায়। এছাড়া প্রচÐ গরম থাকায় তাল শাঁসের চাহিদা রয়েছে বেশি। প্রতিটি তালের শাঁসের পিস বিক্রি হচ্ছে ১০-১৫ টাকায়। প্রতিদিন প্রায় ২০০ থেকে ৩০০ তাল শাঁস বিক্রি হয়।
নগীরর বিভিন্ন স্থানে দেখা গেছে, অনেক ক্রেতা পরিবারের সদস্যদের জন্য পীর (এক ছড়া) হিসেবে তাল শাঁস কিনে নিয়ে যাচ্ছেন।
চাহিদা থাকলেও ফলন কম হওয়ায় এবার বিক্রিতে তেমন সময় লাগছে না জানিয়ে তাল শাঁস বিক্রেতা আরিফুল ইসলাম জানান, প্রতিটি তাল শাঁস ১০ টাকা দরে বিক্রি করছেন। এতে তার প্রতিদিন ৩০০-৪০০ টাকা আয় হচ্ছে। সৌখিন ক্রেতা থেকে শুরু করে স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী, পথচারীরা প্রচÐ গরমে একটু স্বস্তি পেতে ভিড় করছেন তাল শাঁস বিক্রেতাদের কাছে।
ক্রেতারা বলছেন, দাম বেশি হলেও এটা মৌসুমি ফল হওয়ার পাশাপাশি পুষ্টিকর ও ভেজালমুক্ত ফল। এ কারণে নিজেরা খাওয়ার পাশাপাশি পরিবারের সবার জন্যেও নিয়ে যাচ্ছেন তারা।
এদিকে গাছের মালিকরা বলছেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে গাছে ফলের সংখ্যা কমে গেছে। তাই তালের সরবরাহ কমে যাচ্ছে। তবে নতুন গাছগুলো বড় হলে এবং ফলন ধরলে এ মৌসুমি ফলের উৎপাদন বাড়বে বলে আশা করা যাচ্ছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন....