নির্বাচন কমিশনের তফসিল অনুযায়ী আগামী ২৯ মে ভোট গ্রহন হবে ঝালকাঠির কাঠালিয়া উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে। এরআগে ১৩ মে প্রতীক বরাদ্দ পেয়ে নির্বাচনী প্রচারণায় নামেবেন প্রার্থীরা। তবে এর মধ্যেই শুরু হয়ে গেছে নির্বাচনী নানা হিসেব-নিকেশ। বিশখালী নদীর তীর ঘেঁষা এই উপজেলায় এবার চেয়ারম্যান পদে এখন পর্যন্ত ৮ জন প্রার্থীর নাম শোনা যাচ্ছে। তাদের মধ্যে বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান এমাদুল হক মনির, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান গোলাম কিবরিয়া সিকদার, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারন সম্পাদক তরুন সিকদার, ঝালকাঠি জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি এ্যাড. এম এ জলিল, উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ন-সাধারন সম্পাদক কাওসার আহম্মেদ জেনিভ, এছাড়াও ব্যাবসায়ী শহিদুল ইসলাম, ফরিদ তালুকদার সহ জাতীয় পার্টি থেকে মোদাচ্ছের হোসেন খান মিঠুর প্রাথী হবার কথা রয়েছে।
ইতিমধ্যে উপজেলা নির্বাচনকে ঘিরে সম্ভব্যপ্রার্থীরা সাধারণ ভোটারদের সাথে যোগাযোগ ও মনযোগাতে বিভিন্ন ধরনের প্রচার প্রচারনা চালিয়ে যাচ্ছেন রাত-দিন সমানতালে। সময় যতো ঘনিয়ে আসছে বাড়ছে যোগ্য প্রার্থী বাছাই নিয়ে নানা আলোচনা সমালোচনা। কে হবে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান এটাই এখন আলোাচনার প্রধান বিষয়। ভোটারদের ধারনা এবার উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে আসতে পারে নতুন চমক।
সরেজমিনে জানাগেছে, এ উপজেলায় প্রার্থীদের মধ্যে এবার সবচেয়ে বেশি বিতর্কে রয়েছে বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান এমাদুল হক মনির। তাই তাকে হঠাতে উঠে পরে লাগছে ভোটার ও সমর্থকরা। সমালোচিত এই উপজেলা চেয়ারম্যান ক্ষমতা গ্রহনের আগে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে আমুয়া এলাকার এক তরুনীকে ধর্ষন করেন। চেয়ারম্যানের চেয়ারে বসতেই ঐ তরুনীকে হামলা ও মামলার হুমকি দিয়ে এলাকা ছাড়া করে দেন। পরে তরুনীর স্ত্রীর মর্যাদা চেয়ে বরিশাল নারী ও শিশু আদালতে এমাদুল হক মনিরকে প্রধান আসামী করে মামলা দায়ের করে। মামলাটি বর্তমানে চলমান রয়েছে। এ ঘটনার পর থেকেই ঐ তরুনী এলাকা ছাড়া রয়েছে।
সূত্রমতে, আলোচিত ধর্ষন ছাড়াও, সরকারী ব্যাবহারিত গাড়ির চাপা দিয়ে নলছিটির যুবকে হত্যা, স্কুল মাদ্রাসায় কমিটি ও নিয়োগ বাণিজ্য, আওয়ামী লীগের কমিটি দিয়ে অর্থ আদায়সহ নব্যদের দিয়ে পকেট কমিটি গঠন, একক আধিপত্য বিস্তার, নিজস্ব লোকদের বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা দেওয়াসহ নানা কারণে তার বিরুদ্ধে এবার একাট্টা হয়েছে তৃণমূল আওয়ামী লীগের কর্মী সমর্থক ও সাধারণ ভোটাররাও।
এছাড়াও অভিযোগ রয়েছে, উপজেলা চেয়ারম্যানের গদিতে বসে সকল দন্ডমন্ডের কর্তা হয়ে বসেন মনির। নিজস্ব সন্ত্রাসী বাহিনীর মাধ্যমে চাঁদাবাজী, জমি দখল, টেন্ডারবাজী, টিআর, কাবিখা, জিআর, এডিবি, এলজিএসপি প্রকল্প, কর্মসৃজন প্রকল্প, ইজারার নামে ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা আদায়, সরকারি প্রকল্পে অনিয়ম সহ অসংখ্য অভিযোগে সব মিলিয়ে উপজেলা নির্বাচনে দারুণ বেকায়দায় পড়েছেন সমালোচিত এই চেয়ারম্যান। ফলে এবারের নির্বাচনে ভোটারদের মন জয় করতে নাকানিচুবানি খেতে হবে এই প্রার্থীকে।
তবে মনিরের সমর্থকরা বলছেন, কোনো বাঁধাই আটকে রাখতে পারবে না আমদের বিজয়। সাধারাণ ভোটার আমাদের প্রার্থীকে বিপুল ভোটে বিজয়ী করবে।
অপরদিকে বাকিসব প্রার্থীরা ভোটের জন্য ভোটারদের মনজয় করতে দিন-রাত সমান তালে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছে। নিজেদের কর্ম গুণের পরিচয় দিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন তারা।
ভোটাররা বলছেন, যতোই নির্বাচন ঘনিয়ে আসছে ততোই প্রার্থী এবং তাদের সমর্থকদের আনাগোনা বেড়ে যায়। শুধু নির্বাচন এলেই ভোটারদের কদর বাড়ে। যতোদিন নির্বাচন থাকে ততোদনি তাদের পদচারণায় মুখরিত হয়ে উঠে গোটা এলাকা। নির্বাচন চলে গেলে এসব নেতারা আর আমাদের খোজঁখবর রাখেনা। তবে এবারের নির্বাচন হবে প্রার্থীদের জনপ্রিয়তা যাচাইয়ের নির্বাচন। কারন দলীয় মনোনয়ন না হলে যোগ্য প্রার্থীকে নির্বাচিত করার ব্যাপারে ভোটাররা তাদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিয়ে পারবেন। য্যেগ্যতার বিচারেই এবার ভোট দেওয়া হবে প্রার্থীকে বলে জানান সাধারন ভোটাররা।
