মোঃ মোছাদ্দেক হাওলাদার :: উৎকোচ গ্রহনের মাধ্যমে দুই পদে নিজের পছন্দের প্রার্থীকে নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে কাঠালিয়ার এইচকে বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধানশিক্ষক মোঃ লিয়াকত আলীর বিরুদ্ধে। এ বিষয়ে নিয়োগ বঞ্চিতরা ও স্থানীয় সচেতন মহল উক্ত নিয়োগ বাণিজ্যের বিরুদ্ধে সুষ্ঠু তদন্ত পূর্বক ব্যবস্থা গ্রহন ও অবৈধ নিয়োগ বাতিলের দাবি করেছেন।
সম্প্রতি উপজেলার আমরিবুনিয়া এইচকে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে অতিগোপনে একজন পরিচ্ছন্নতাকর্মী ও একজন অফিস সহায়ক নিয়োগ দেয়া হয়। তবে এ ব্যাপারে ওই বিদ্যালয়ের অধিকাংশ শিক্ষক ও পরিচালনা কমিটির অনেকেই এ নিয়োগ সম্পর্কে কিছুই জানেন না। ঘুষ বাণিজ্য ও অযোগ্য লোকদের নিয়োগ দেয়ার জন্য প্রধানশিক্ষক অতিগোপনে তড়িঘড়ি নিয়োগ কার্য সম্পন্ন করেন।
ম্যানেজিং কমিটির একাধিক সদস্যরা জানিয়েছেন, ইতিপূর্বে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তি অনুসারে অতিগোপনে নিয়োগ কমিটির সদস্যদের ম্যানেজ করে প্রধানশিক্ষক ও নিয়োগ কমিটির কতিপয় সদস্য ‘লোক দেখানো পরীক্ষার মাধ্যমে’ ২০ লাখ টাকার বিনিময়ে ওই দুটি পদে তাদের আর্শীবাদপুষ্ট লোকদের নিয়োগ চূড়ান্ত করেছেন।
অভিযোগ রয়েছে, পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে উপজেলার আমুয়া বন্দরে বসবাসকারী পলাশ কুমারকে ১০ লাখ টাকার বিনিময়ে নিয়োগ দেয়া হয়েছে।
প্রথমে ওই প্রধানশিক্ষক (লিয়াকত আলী) পলাশ ও তার পরিবারের কাছে চাকরির জন্য আমুয়া বন্দর এলাকা থেকে চার কাঠা (১২ শতক) জমি তার নামে রেজিস্ট্রি করে দেয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করেন। জমির লেনদেনের বিষয়টি এলাকায় জানাজানি হলে প্রধানশিক্ষক জমি না নিয়ে পলাশের কাছে ১০ লাখ টাকা নিয়ে নিয়োগ প্রদান করেন। অফিস সহায়ক হিসেবে আমরিবুনিয়া গ্রামের জামাল হোসেন দশ লাখ টাকার বিনিময়ে নিয়োগ পেয়েছেন।
হেতালবুনিয়া গ্রামের বাদশা মিয়া অভিযোগ করে বলেন আমার ছেলে রাজু মিয়াকে প্রধানশিক্ষক পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে নিয়োগ দেয়ার জন্য অনেকবার যোগাযোগ ও টাকা নিয়ে দেনদরবার করেছেন। পরবর্তীতে পলাশ কুমারের কাছ থেকে ১০ লাক্ষক টাকা পেয়ে আমাদের না জানিয়ে গোপনে তাকে নিয়োগ দিয়েছেন। আমরা এ বিতর্কিত নিয়োগ বাতিল চাই।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই স্কুলের এক সহকারী শিক্ষক জানান, প্রধানশিক্ষক লিয়াকত আলী স্যার যা মনে হয় তাই করেন। তিনি স্কুল ফান্ডের টাকা নিজের মতো করে ব্যবহার করছেন। আমাদের সাথে কোন কিছু আলোচনা করার প্রয়োজন মনে করেন না। নিয়োগের ঘুষ নেওয়ার বিষয়টি আমিও শুনেছি।
আমরিবুনিয়া গ্রামের হেলাল মাস্টার অভিযোগ করে বলেন, প্রধানশিক্ষক দুর্নীতিগ্রস্ত হয়ে গেছেন। সম্প্রতি ঘুষ নিয়ে চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারী ও অফিস সহকারী নিয়োগ দিয়েছেন। নিয়োগের বিষয়ে কেউ প্রধান শিক্ষকের কাছে কোন তথ্য জানতে চাইলে তাদেরকে বিভিন্ন ভাবে অপমান অপদস্থ করা হয়। একই কথা জানিয়েছেন ওই এলাকার ইউপি সদস্য ফয়সাল আহম্মেদ।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত প্রধানশিক্ষক মোঃ লিয়াকত আলীর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমিও একজন সাংবাদিক, আর স্কুল নিয়োগে অনিয়ম হয়নি। কিছু লোক আমার ভাবমূর্তি নষ্ট করার জন্য এসব রটিয়ে বেড়াচ্ছে।
