ঢাকা রবিবার , ১১ জুন ২০২৩
আজকের সর্বশেষ সবখবর
বরিশাল সিটি নির্বাচন

সব প্রস্তুতি শেষ রাত পোহালেই ভোট বরিশাল সিটিতে

বরিশাল ব্যুরো
জুন ১১, ২০২৩ ১১:৪১ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

বরিশাল সিটিতে টানা দুই সপ্তাহ জমজমাট প্রচার শেষে এখন ভোটের অপেক্ষা। আজ রোববারের রাত পোহালেই কাল সকালে শুরু হচ্ছে ভোট গ্রহণ। সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত বিরতি ছাড়াই ১২৬ টি কেন্দ্রে ভোট নেওয়া হবে। গতকাল শনিবার আনুষ্ঠানিক প্রচার শেষ হয়েছে। সোমবার ভোট গ্রহনের দিন নির্বাচনি এলাকায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের (ইসি) পক্ষ থেকে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করতে সব ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে বহিরাগতদের নির্বাচনী এলাকা ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্বাচনী এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পর্যাপ্তসংখ্যক সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। সবকটি কেন্দ্রে সিসি টিভি ক্যামেরা স্থাপন করা সম্পন্ন হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে জানিয়েছে তাদের প্রস্তুতির কথা। ইসি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বরিশাল সিটি করপোরেশন (বিসিসি) নির্বাচনে এবার ১২৬ টি কেন্দ্রের সবক’টিতে ইভিএম ব্যবহার করা হচ্ছে।
বরিশাল সিটি করপোরেশনের তপশিল ঘোষণা, মনোনয়নপত্র জমা ও বাছাই, মনোনয়নপত্র বাতিল ও প্রত্যাহার, প্রতীক বরাদ্দ শেষে ২৭ মে শুরু হয় মেয়র এবং ৩০টি ওয়ার্ডে সাধারণ কাউন্সিলর ও ১০টি সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর পদে নির্বাচনি প্রচারণা।
এ নির্বাচনে বিএনপি অংশ না নেওয়ায় মেয়র পদে কোনো প্রার্থী অংশগ্রহণ করেননি। তবে বিএনপির নির্বাচিত সাবেক মেয়র আহসান হাবিব কামালের ছেলে সাবেক ছাত্রদল নেতা কামরুল আহসান রুপন সতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মেয়র পদে অংশ নিয়েছে। ইতিমধ্যে দল তাকে স্থায়ী ভাবে বহিস্কার করছে। এছাড়াও নির্বাচনে অংশ নেয়া সাধারণ কাউন্সিলর পদে বিএনপিপন্থী ১৮ জন প্রার্থীকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। যদিও তারা শেষ পর্যন্ত বিএনপির ভোটের অপেক্ষায় মাঠ ছাড়েননি। নির্বাচনে বিএনপি অংশ না নেওয়ায় পুরো নির্বাচনে কিছুটা ভাটার টান দেখা গেলেও আওয়ামী লীগের সাথে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ও জাতীয় পার্টি জাপা’র অংশগ্রহন নগরীতে নির্বাচনি আমেজ, উৎসাহ-উদ্দীপনা কম ছিল না। নির্বাচনি প্রচার-প্রচারণায় নৌকার দুই পক্ষের চেয়ার ছোড়াছুড়ি, প্রতিদ্বন্দ্বী কাউন্সিলর প্রার্থীকে পিস্তল উচিয়ে হুমকি, উঠান বৈঠকে হট্টগোল, কর্মীদের মারধর, নির্বাচনী কাজে বাধাসহ চার-পাঁচটি বিচ্ছিন্ন ঘটনার অভিযোগ ছাড়া নির্বাচনি প্রচারণায় তেমন কোনো সহিংস ঘটনা ঘটেনি।
এরআগে প্রধান নির্বাচন কমিশনার, নির্বাচন কমিশনার, নির্বাচন কমিশনের সচিব ও অন্যান্য কর্মকর্তা নির্বাচন উপলক্ষ্যে বরিশালে এসে সুষ্ঠু, অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠানের ব্যাপারে আশ্বাস দিয়েছেন। বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ, র‌্যাব-৮ বরিশাল,জেলা প্রশাসন ও রিটার্নিং কর্মকর্তাও সুষ্ঠু নির্বাচনের ব্যাপারে আশ্বাস দিয়েছেন। যদিও নির্বাচন নিয়ে শেষ পর্যন্ত শঙ্কার কথা জানিয়েছে ইসলামী আন্দোলন প্রার্থী ফয়জুল করীম, জাতীয় পার্টি (জাপা) প্রার্থী ইকবাল হোসেন তাপস, স্বতন্ত্র প্রার্থী কামরুল আহসান রুপন।
তবে আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা প্রতীকের প্রার্থী আবুল খায়ের আব্দুল্লাহ খোকন সেরনিয়াবাত সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনে সহযোগিতার আশ্বাস প্রদান করেন। সব মিলিয়ে বরিশাল সিটিতে ২ লাখ ৭৬ হাজার ২৯৮ জন ভোটার প্রত্যাশা করছেন একটি সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন। যাতে সিটির কর্ণধার মেয়রসহ ৩০ জন সাধারণ কাউন্সিলর ও ১০ জন মহিলা কাউন্সিলর নির্বাচিত হবেন যাদের মাধ্যমে সিটির প্রত্যাশিত উন্নয়ন ও নাগরিক সেবা নিশ্চিত হবে।
বদলে গেছে ভোটের হিসেব : বরিশাল নগরীর ওয়ার্ডগুলোতে কাউন্সিলর প্রার্থীদের সমীকরণ যে ধরনেরই হোক না কেন, নগরজুড়ে মেয়রপ্রার্থীদের হিসাবটা ভিন্ন ধরনের। যদিও বিগত দিনে ভোটের হিসাবের পরিসংখ্যান বলছে বরিশাল নগরে বিএনপি ও আওয়ামী লীগের দুটি বৃহৎ ভোট ব্যাংক রয়েছে। এর ধারে কাছেও নেই এবারে সিটি নির্বাচনে অংশ নেওয়া অন্য দলগুলো। আর স্বতন্ত্র প্রার্থীদের হিসাবটা এখানে শুরু থেকেই গোমড়ামুখী।
বিএনপি এই সিটি নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করায় তাদের কর্মী-সমর্থকরা ভোটে বেশ অনাগ্রহী। আর যদি সেই হিসাবে কষে এগোতে হয়, তাহলে নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী অন্য কোনো দলের নাগালে নেই ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। যদিও বিএনপির সমর্থকরা ভোট দেন, তাহলে তাদের মধ্যে আওয়ামী লীগের ভাগ বসানোটাকেই সমীচীন বলে মনে করছেন অনেকে।
হিসাব বলছে, গত চারটি সিটি নির্বাচনের মধ্য ২০১৮ সালের ফলাফলের হিসাবটা স্থানীয় ভোটের মাঠের সমীকরণের হিসাবের বাইরে ছিল। ওই নির্বাচনে স্থানীয় রাজনীতিতে বিএনপির প্রভাবশালী ও হেভিওয়েট প্রার্থীকে বিপুল ভোটে হারিয়ে আওয়ামী লীগের প্রার্থী বিজয়ী হন।
২০১৮ সালের নির্বাচন বাদ দিয়ে, শুরুর দিকে অর্থাৎ ২০০৩ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী অ্যাডভোকেট এনায়েত পীরকে ১০ হাজার ভোটের ব্যবধানে হারিয়ে জয়ী হয়েছিলেন মজিবুর রহমান সরোয়ার। এ নির্বাচনে বিএনপির আরও দুই প্রার্থী অংশ নেওয়ায় তাদের সম্মিলিত ভোটের হিসাবে আওয়ামী লীগ পেয়েছিল অর্ধেকেরও কম ভোট। এরপর ২০০৮ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের শওকত হোসেন হিরণ ৫৮৪ ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হন। যেখানে বিএনপি নেতা সরফুদ্দিন আহমেদ সান্টু ছিলেন তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী। এ নির্বাচনেও বিএনপির আরও দুই প্রার্থী মিলিয়ে পরাজিত প্রার্থীর সমান সংখ্যক ভোট পেয়েছিলেন, আর তিন প্রার্থী মিলে হিরণের দ্বিগুণ ভোট পেয়েছিলেন। যদিও ২০১৩ সালের নির্বাচনে প্রায় ১৭ হাজার ভোটের ব্যবধানে বিএনপির একক প্রার্থীর কাছে পরাজিত হন আওয়ামী লীগের হিরণ। এ চার সিটি নির্বাচনে বিএনপি ও আওয়ামী লীগের ঘরের বাইরে থাকা কোনো প্রার্থী ভোটের হিসাবে তেমন আলোচনায় আসেনি।
গত চারটি সিটি নির্বাচনই পর্যবেক্ষণ করা বরিশালের সিনিয়র সাংবাদিক আনিছুর রহমান খান স্বপন বলেন, পরিসংখ্যান অনুযায়ী বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচনে গত চারবারে দুইবার বিএনপি এবং দুইবার আওয়ামী লীগের প্রার্থী মেয়র হন। শওকত হোসেন হিরণের পর এবার আওয়ামী লীগ একজন কালিমাবিহীন ব্যক্তিকে মনোনয়ন দিয়েছেন। এটাই নৌকার জন্য প্রথম প্লাস পয়েন্ট। আবার আওয়ামী লীগ সিটি নির্বাচনে অংশ নিলেও বিএনপি মাঠে নেই। আর বিএনপি ঘোষণা অনুযায়ী নেতাকর্মী ও অনুসারীরা যদি ভোটের মাঠে না আসে তাহলে নিজস্ব ভোট ব্যাংকেই সবার থেকে এগিয়ে থাকবে আওয়ামী লীগ।
তিনি বলেন, যদি বিএনপির সমর্থকরা ভোটের হিসাবের মাঝে এসেই পড়েন, তাহলে সেখানে বিএনপি পরিবারের সদস্য, যিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে রয়েছেন তার ভাগ্যের কিছুটা পরিবর্তন ঘটবে। সে দল থেকে বহিষ্কার হওয়ায় এবং স্থানীয় বিএনপির অভ্যন্তরীণ বিভক্তিতে পুরো সমর্থনটা পাবে না। সেক্ষেত্রে বিএনপি পরিবারের সন্তান স্বতন্ত্র প্রার্থী কামরুল হাসান রুপনের পাশাপাশি বিএনপির সমর্থকদের ভোটে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নৌকার প্রার্থী, লাঙল, হাতপাখা প্রতিকের প্রার্থী ভাগ বসাবে। এ হিসাবেও আওয়ামী লীগের প্রার্থী এগিয়ে থাকবেন। এরপরে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার মাঠে কাছাকাছি থাকতে পারে ক্ষমতাসীনদের বি টিম হিসেবে পরিচিত লাঙ্গলের তাপস কিংবা হাতপাখার প্রার্থী ফয়জুল। মূল শহরে লাঙ্গলের অবস্থান ভালো হওয়ায় তার অবস্থান আওয়ামী লীগের পরেই থাকতে পারে।
শেষ প্রচার-প্রচারণা : সিটি করপোরেশন নির্বাচনে এবার ৭ জন প্রার্থী মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। শনিবার প্রচারণার শেষ দিনে মেঘলা আবাহাওয়া উপেক্ষা করে মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীরা প্রচার-প্রচারণায় ব্যস্ত সময় পার করেন। বিশেষ করে আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা প্রতীকের প্রার্থী খোকন সেরনিয়াবাত তার প্রধান নির্বাচনীয় কার্যালয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় শেষে দলীয় কার্যালয়সহ বিভিন্ন স্থানে গণসংযোগ ও পথসভায় বক্তব্য রাখেন। এছাড়া নগরীর বিভিন্ন ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা নৌকার পক্ষে বিশাল বিশাল মিছিল বের করেন। এতে দলের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ যোগ দেন।
এছাড়াও শেষ সময়ে প্রচারণায় ব্যস্ত সময় পার করতে দেখা গেছে ইসলামী আন্দোলন প্রর্থী মুফতি ফয়জুল করিম, জাপা প্রার্থী ইকবাল হোসেন তাপস, সতন্ত্র প্রার্থী কামরুল আহসান রুপনকে।
যান চলাচল ও অস্ত্র বহনে নিষেধাজ্ঞা : সিটি নির্বাচন উপলক্ষে শনিবার (১০ জুন) থেকে পাঁচদিন বরিশাল নগরীতে অস্ত্র বহন, অস্ত্র প্রদর্শন এবং অস্ত্রসহ চলাচলে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে পুলিশ। এক গণ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ আদেশ জারি করা হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে ১১ জুন রাত ১২টা হতে ১২ জুন রাত ১২টা পর্যন্ত ট্রাক, বাস, মিনিবাস, মাইক্রোবাস, জিপ, পিকআপ, কার, ইজিবাইক, লঞ্চ, ইঞ্জিনচালিত সব ধরনের নৌযান, স্পিডবোট চলাচল নিষিদ্ধ করা হয়েছে। একইসঙ্গে ১০ জুন রাত ১২টা থেকে ১৩ জুন রাত ১২টা পর্যন্ত মোটর সাইকেল চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।
তবে রিটার্নিং কর্মকর্তার অনুমতি নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ও তাদের নির্বাচনী এজেন্ট, দেশি-বিদেশি পর্যবেক্ষকদের ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা শিথিল থাকবে। এছাড়াও নির্বাচনের সংবাদ সংগ্রহের কাজে নিয়োজিত দেশি-বিদেশি সাংবাদিক, নির্বাচনের কাজে নিয়োজিত কর্মকর্তা-কর্মচারী, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য, বৈধ পরিদর্শক এবং জরুরি কাজে নিয়োজিত যেমন অ্যাম্বুলেন্স, ফায়ার সার্ভিস, বিদ্যুৎ, গ্যাস, ডাক ও টেলিযোগাযোগ ইত্যাদি কাজে নিয়োজিত যানবাহন চলাচলের ক্ষেত্রে এই নিষেধাজ্ঞা প্রযোজ্য হবে না।
জাতীয় মহাসড়ক, বন্দর, জরুরি পণ্য সরবরাহ ও অন্যান্য জরুরি প্রয়োজনে যানবাহন চলাচলে নিষেধাজ্ঞা শিথিল থাকবে। ইঞ্জিনচালিত ক্ষুদ্র নৌযান এবং ভোটারদের ছোট নৌযান চলাচল করতে পারবে। এই আদেশ অমান্য করলে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
উপ-পুলিশ কমিশনার (বিশেষ শাখা) মোহাম্মদ জাকির হোসেন মজুমদার জানান, নির্বাচনে আইন শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ কমিশনারের নির্দেশে নোটিশের মাধ্যমে এই নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।

১০৬টি ভোটকেন্দ্রে ঝুঁকিপূর্ণ : বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মো. সাইফুল ইসলাম নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে জানান, ‘নগরীর ১২৬টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ১০৬টি ঝুঁকিপূর্ণ রয়েছে। আমরা সেই অনুযায়ী নিরাপত্তা ব্যবস্থার পরিকল্পনা করেছি।’
নিয়মিত ভোটকেন্দ্রে ১৮ সদস্যের পুলিশ টিম এবং গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে ১৯ সদস্যের পুলিশ টিম মোতায়েন থাকবে বলে জানান বিএমপি প্রধান। তিনি বলেন, ‘নির্বাচনের দিন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) মোট ১০টি প্লাটুন মোতায়েন থাকবে। আমরা কোনো আতঙ্ক সৃষ্টি করতে চাই না, নির্বাচনের জন্য উৎসবমুখর পরিবেশ চাই।’

 

 

সংবাদটি শেয়ার করুন....