ঢাকা বৃহস্পতিবার , ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৩
আজকের সর্বশেষ সবখবর

জরাজীর্ণ ভবনে চলছে কার্যক্রম, ঝুঁকিতে হাজারো মানুষ

শেখ সোহেল,বাগেরহাট প্রতিবেদক
সেপ্টেম্বর ৭, ২০২৩ ১২:০৫ অপরাহ্ণ
Link Copied!

বাগেরহাটে জরাজীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ  বিভিন্ন ভবনে চলছে  ২৭টি ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) দাপ্তরিক কার্যক্রম। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে প্রতিদিনই সেবা দিয়ে যাচ্ছেন পরিষদের চেয়ারম্যান, সচিব ও সদস্যরা। ঝুঁকি মাথায় নিয়ে সেখানে সেবা নিতে আসছেন শত শত মানুষ। যেকোনো সময় ভবন ধসে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন সেবাদাতা ও গ্রহীতারা।
সরেজমিনে দেখা গেছে বিভিন্ন ইউপি ভবনের ছাদ থেকে পলেস্তারা খসে পড়ছে, বৃষ্টির পানিতে ভিজে নষ্ট হয়ে গেছে দরজা-জানালা। জানালার গ্রিলে ধরেছে মরিচা। ভবনের দেয়ালে জন্মেছে আগাছা। শেকড় ছড়িয়েছে ভবনের চারদিকে।
কচুয়া উপজেলা বাঁধন ইউনিয়ন পরিষদের নাগরিক সেবা নিতে আসা মানুষদের ভিড় লেগেই থাকে। বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় জরাজীর্ণ ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কার্যক্রম চালাচ্ছেন বলে জানান ইউনিয়ন পরিষদের সংশ্লিষ্টরা।
এছাড়া তেলিগাতি, বাধাল, রায়েন্দা, ষাটগম্বুজ, কাড়াপাড়া, বলইবুনিয়া,গাংনী,কলাতলা, রামচন্দ্রপুর,বড়বাড়িয়াসহ জেলার বিভিন্ন উপজেলার ২৭টি পরিষদ ঝুকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। এরমধ্যে অধিক ঝুকিপূর্ণ রয়েছে অন্তত ৯টি পরিষদ।জেলায় ৭৫ টি ইউনিয়ন পরিষদের মধ্যে ২৭টি ঝুকিপূর্ণ ইউনিয়ন পরিষদে বিভিন্ন সময়ে সেবা নিতে আসেন প্রায় ৫ লাখ মানুষ।
সেবা নিতে আসা মমতা রানী দাস বলেন, বয়স্ক ভাতা নিতে এসেছি। বয়স হয়েছে বেশিক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকতে পারিনা, মানুষের ভিড়ের মধ্যে কোথায় বসবো। পরিত্যক্ত ভাঙ্গাচুর ভবনে কোন জায়গা নাই, তাই গাছের নিচে বসে আছি। প্রচন্ড গরম, আমার মত অনেক মানুষ সেবা নিতে এসে বিড়ম্ভনায় পড়ছে।
পরিষদে সেবা নিতে আসা তেলিগাতি গ্রামের মাহফুজ শেখ বলেন, ‘পরিষদে কোন সেবা নিতে আসলে ভয়ে ভয়ে থাকতে হয়। তাই সেবা নেওয়া সময় পর্যন্ত পরিষদের বাহিরে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। বর্তমান সরকারের সবকিছুতে আধুনিকতা ও ডিজিটাল উন্নয়ন আর স্মার্টের ছোঁয়া  লাগলেও এমন জনগুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে এখন পর্যন্ত উন্নয়নের কোন ছোঁয়াই স্পর্শ করেনি। এটি এই ইউনিয়নবাসীদের জন্য অত্যন্ত দুঃখজনক। দেশের প্রত্যন্ত গ্রামে ও শহরের সুবিধা পৌঁছে দেওয়ার আগে এই ইউনিয়ন পরিষদকে আধুনিকায়ন করা অত্যন্ত জরুরি এবং সময়ের দাবী।
আরেকজন সেবা গ্রহীতা তানিয়া বেগম বলেন, পরিষদের পুরাতন ভবন ভেঙে পড়ছে। তাই টিসিবির কার্ড নিয়ে এসে রাস্তায় দাড়িয়ে আসি। আমরা কয়েকবার এখানে এসে নানা সমস্যায় পড়ছি।
এসব ঝুঁকি ও বিরম্বনা অভিযোগের কথা স্বীকার করে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোর্শেদ আকতার বলেন, পরিত্যাক্ত ও জরাজীর্ণ ইউনিয়ন পরিষদ ভবনে সেবা দিয়েই গত বছর খুলনা বিভাগের মধ্যে জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধন কার্যক্রমে বিভাগীয় পর্য়ায়ে শ্রেষ্ঠ পুরস্কার পেয়েছি। জরজীর্ণ ভবনের সেবা দিতে গিয়ে বিভিন্ন ধরনের সমস্যা সম্মুখীন হচ্ছি। সেবার মান উন্নয়নে দ্রুত নতুন ভবন নির্মানে সরকারের কাছে দাবি জানাই।
জেলা প্রশাসক মোহাঃ খালিদ হোসেন বলেন, জনদুর্ভোগ কমাতে এবং সেবার মান উন্নয়নে নতুন ভবন নির্মাণে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করে যত দ্রুত সম্ভব ভবন গুলো নির্মানের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
বাগেরহাট এলজিইডি নির্বাহী প্রকৌশলী  মোঃ শরিফুজ্জামান বলেন,জেলায় ৭৫ টি ইউনিয়ন পরিষদের মধ্যে প্রথম ও দ্বিতীয় পর্য়ায়ে ৪৮ টি ইউনিয়ন পরিষদ নতুন ভবন নির্মান করা হয়েছে। এখনও ২৭টি ঝুকিপূর্ণ ইউনিয়ন পরিষদ।এরমধ্যে মোল্লাহাট উপজেলার উদয়পুর ও গাংনী পরিষদের নিজস্ব জায়গা নেই। এছাড়া মোরেলগঞ্জ উপজেলার ঝিউধারা ইউনিয়ন পরিষদ বরাদ্ভের অভাবে নির্মান কাজ বন্ধ রয়েছে। এসব ভবনের তালিকা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। প্রকল্প অনুমোদন হলে তৃতীয় পর্যায়ে নতুন পরিষদ ভবন নির্মান করা হবে বলে  জানান এই কর্মকর্তা।
সংবাদটি শেয়ার করুন....