জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আল মামুন তালুকদার । তিনি ২০২৩ সালের ৩ আগষ্ট জেলা শিক্ষা অফিসার হিসেবে যোগদান করেন কুষ্টিয়ায়। এর পর থেকেই আলোচনা সমালোচনা কেন্দ্রবিন্দুতে অবস্থান করেছেন তিনি। তার যোগদানের পর থেকেই স্বেচ্ছাচারিতা, খারাপ আচরন, নথী আটকে অর্থ গ্রহন গভীর রাত পর্যন্ত অফিসে বহিরাগতদের আনাগোনাসহ ভীন্ন ভীন্ন অভিযোগ পাওয়া গেছে। তার যোগদান কালে কুষ্টিয়া ইসলামীয়া কলেজের মার্কেট নির্মান কেন্দ্র করে ১০ লক্ষ টাকা ঘুষ গ্রহন করেন বলে একটি বিশ্বস্থ সূত্র জানা গেছে। এই ঘুষের টাকা লেনদেন করেন ইসলামীয়া কলেজের সহকারী লাইব্রেরীয়ান আতিক। যা কলেজের লেজার খাতা খুললে প্রমান মিলবে বলে দাবি করে সুত্রটি। এর পর থেকেই তার সাথে সখ্যতা গড়ে উঠে আল মামুন তালুকদারের। কলেজে সময় না দিলেও আতিক নিয়মিত শিক্ষা অফিসে অবস্থান করেন। অফিস সময় শেষে গভীর রাত পর্যন্ত শিক্ষা অফিসারের বাসভবনেই তিনি অবস্থান করেন। স¤প্রতি এক তালবাড়িয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকার বাছ থেকে উৎকোচ গ্রহনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়। এছাড়াও অন্য এক প্রধান শিক্ষকার নিকট থেকে ১৫ হাজার টাকা আতিকের মাধ্যমে শিক্ষা অফিসারের কাছে পৌছে দেয়। শিক্ষা কর্মকর্তার আতিক বাদেও আরও দুজন বিশ্বস্থ ব্যাক্তি রয়েছেন। তারা হলেন সহকারী পরিদর্শক
ফারুক আহম্মেদ ও গবেশনা কর্মকর্তা শেখ মশিউর রহমান। কোন বিদ্যালয়ে ভিজিট বা তদন্তে গেলে ফারুকের মাধ্যমে অর্থ লেনদেনে হয়। পরিচয় গোপন রাখার শর্তে শিক্ষা অফিসের এক কর্মচারী জানান, রাধানগর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক্ষের বিরুদ্ধে তদন্তে যায় শিক্ষা কর্মকর্তা ও তার সহযোগীরা। ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের নিকট থেকে ৩০ হাজার টাকা ঘুষ নেয় ফারুক। শংকরদিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে ৫০০০ টাকা, পাটিকাবাড়ি খেজুরতলা মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে ৩০০০ টাকা , গোস্বামী দূর্গাপুর থেকে ৫০০০ টাকাসহ অধিকাংশ বিদ্যালয়ের তদন্তে গেলে এই ঘুষের অর্থ গ্রহন করে থাকে। শিক্ষা সচিবকে কুষ্টিয়া জেলা থেকে টাকা দেওয়া লাগবে এই মর্মে বেশকিছু স্কুল থেকে ৫০০০০ হাজার করে টাকা দেওয়া লাগবে বলে জানায়। শীত কালীন ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় জেলা শিক্ষা অফিসে ৪৫০০০০ টাকা বাজেট আসে। তবে ঐ টাকা থেতে জেলা শিক্ষা অফিসার ২০০০০০ টাকা খরচ করে বাকী ২৫০০০০ টাকা খরচ দেখিয়ে তুলে নেন। তার দুর্নীতির কথা বলে শেষ করা যাবেনা। একটি সূত্রে জানাযায় চলতি শিক্ষাক্রম সম্পর্কে শিক্ষদের সাতদিন ব্যাপি প্রশিক্ষন অনুষ্ঠিত হয়। সেই প্রশিক্ষনে প্রতিদিন শিক্ষকদের নাস্তা বাবদ সরকার ৪০০+১৫০ মোট ৫৫০ টাকা বাজেট থাকে। প্রশিক্ষনে থাকা নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন শিক্ষক জানান আমাদের নিম্ন মানের খাবার পরিবেশন করে তার মূল্য ২০০ টাকার বেশী হবেনা। জেলা শিক্ষা ।শিক্ষা অফিসার সম্পর্কে রাজবাড়ীর একজন শিক্ষক কমলেছুর রজমান জানান, ‘এক কথায় তালুকদার বিশ্ব বাটপার। তার দুর্নীতি নিয়ে ২০ পৃষ্ঠার প্রতিবেদন করা যায়।’ এই শিক্ষা অফিসার আল মামুন তালুকদার মোবাইল সম্পর্কে সচেতন একজন মানুষ। কোন শিক্ষক দাপ্তরিক কাজ নিয়ে তাকে ফোন দিলে তিনি হোয়াটসঅ্যাপে ফোন দিতে বলতেন।হোয়াটসঅ্যাপ ছাড়া তিনি কোন শিক্ষকের সাথে অফিসিয়াল কাজের কথা বলতেন না।কুষ্টিয়া হাউজিং স্কুলের একজন শিক্ষক নাম না প্রকাশ না করার শর্তে জানান, ‘ আমি একটি কাজ নিয়ে গেলে জেলা শিক্ষা অফিসার ঘুষ দাবি করে। আমি ১০০০০ টাকা দিয়ে আসি। পরে অফিসার আরো বেশী দাবি করে বলে এই টাকায় হবে না। আপনার ১০০০০ টাকা দরকার হলে ফেরত নিয়ে জান ,আমি এই টাকায় কাজ করিনা।’ কুষ্টিয়া তালবাড়ির প্রধান শিক্ষক দিলারা জোয়াদ্দার জানান‘ আমি ৮ ডিসেম্বর ২৩ সালে উপজেলা শিক্ষা অফিসারের মাধ্যমে ২৬ মাসের বেতনের এরিয়ার আবেদন করি। এরপর জেলা শিক্ষা অফিসারের প্রতিনিধি জেলা আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদকের ভাতিজা পরিচয় দেওয়া আতিক নামের একজন বলেন বিল পাশ করতে গেলে খালি হাতে বিল পাশ হবে না। এ বিষয়ে শিক্ষা অফিসারকে জানালে তিনি বলেন আতিকের সাথে কথা বলেন সে আ বলবে সেই ভাবেই কাজ হবে। তখন আমি আজগার চাচার রেফারেন্স দিলে শিক্ষা অফিসার বলেন আমার কাছে ঐ সব নেতার কোন ভাত নেই। পরে আতিককে ১০০০০ টাকা দিয়ে আসি।’ এ বিষয়ে জানতে জেলা শিক্ষা অফিসার আল মামুন তালুকদার ও আতিক এর মুঠোফোনে একাধীকবার ফোন দিলে তারা ফোন রিসিভ করেননি। একাধীক সূত্রে জানাগেছে জেলা শিক্ষা অফিসার নিজেকে নির্দোষ প্রমান করতে বিভিন্ন মহলে ধরনা দিচ্ছে।
