*জেলাগুলোতে আন্দোলন সবর নয়
*ববিতে হল ত্যাগের নির্দেশ উপেক্ষা করে আন্দোলনে শিক্ষার্থীরা
* সড়কে দীর্ঘ যানজট
সারাদেশে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর ন্যক্কারজনক হামলার প্রতিবাদে ও কোটা সংস্কারের দাবিতে এখন উত্তাল হয়ে উঠছে দখিণের জনপদ বরিশাল। কর্মসূচির অংশ হিসেবে দিন-রাত সমান তালে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছে শিক্ষার্থীরা। প্রতিদিন আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের সর্বাত্মক প্রতিরোধের মুখে অচল হয়ে আছে বরিশাল-ঢাকা ও কুয়াকাটা-বরিশাল মহাসড়ক। শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে দখিণাঞ্চলের জনগুরুত্বপূর্ন সড়ক গুলোতে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেন বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় সহ বরিশালের সিংহ ভাগ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা।
বরিশালে কোটা নিয়ে প্রথম আন্দোলনে নামেন বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। তারা বরিশাল-কুয়াকাটা মহাসড়ক অবরোধ করে অধ্যাবদি আন্দোলন চালিয়ে আসছেন। এতে প্রতিদিন শহরে দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয়। এরপর অবরোধ কর্মসূচিতে একাত্মতা প্রকাশ করে বরিশাল কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল এলাকায় ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কসহ নগরীর প্রধান প্রধান সড়ক অবরোধ করে আন্দোলনে যোগদেয় সরকারি ব্রজমোহন (বিএম) কলেজ, শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ, সরকারি সৈয়দ হাতেম আলী কলেজ, বেসরকারি অমৃত লাল দে মহাবিদ্যালয়, সরকারি মহিলা কলেজ, সরকারি পলিটেকনিক কলেজ, ইনফ্রা পলিটেকনিকসহ অধিকাংশ সরকারি- বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা। এদিকে বরিশালের বাইরে বিভাগের বাকি জেলাগুলোতে বিচ্ছিন্ন কয়েকটি আন্দোলনের খবর পাওয়া গেছে। তবে লাগাতার কর্মসূচি পালন করতে দেখাযায়নি জেলাপর্যায়ের শিক্ষার্থীদের।
বরিশালে গতকাল বুধবার (১৭ জুলাই) শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধের দিনেও রাজপথে আন্দোলনে সবর ছিলেন শিক্ষার্থীরা। সরেজমিনে দেখাগেছে, বেলা সকাল ১১ টায় সাধারণ শিক্ষার্থী ব্যানারে বরিশাল নগরের নতুল্লাবাদ কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল এলাকায় অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু হয়। এছাড়াও রুপাতলি বাস টার্মিনাল এলাকা ও বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে সড়কে বিক্ষোভ করছে শিক্ষার্থীরা। এছাড়াও জেলার বাইরে উজিরপুর উপজেলায় ঢাকা-বরিশাল মহাসড়ক অবরোধ করে রাখেন সাধারন শিক্ষার্থীরা। সড়ক অবরোধ করে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ করলে সড়কের দুইপাশে যানবাহনের দীর্ঘ লাইন পড়ে। ভোগান্তিতে পরেন যাত্রী সহ সাধারণ মানুষ। অনেকে পায়ে হেঁটে গন্তব্যে রওনা হন। শিক্ষার্থীদের আন্দোলনকে কেন্দ্র করে জনসাধারণের জান মালের নিরাপত্তায় কাজ করছেন পুলিশ সদস্যরা ।
এদিকে বুধবার বরিশাাল বিশ্ববিদ্যালয় (ববি) অনির্দিষ্টকালের জন্য শিক্ষা কার্যক্রম ও আবাসিক হল সমূহ বন্ধ ঘোষণা করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। সেইসাথে বেলা ৩টার মধ্যে শিক্ষার্থীদের হল ত্যাগ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিষ্ট্রার মো. মনিরুল ইসলাম সাক্ষরিত এক নোটিশের মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।
তবে এসব নির্দেশ উপেক্ষা করে আন্দোলনে সবর রয়েছে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। তারা বুধবার সকাল থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে বরিশাল-কুয়াকাটা মহাসড়ক অবরোধ করে আন্দোলন করে শিক্ষার্থীরা। হল বন্ধ থাকায় দুপুরে শুকনো খাবার খেয়ে আন্দোলনে সবর আছেন তারা।
এরআগে গত মঙ্গলবার রাতে কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনকারী ববি শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার শঙ্কার খবর ছড়িয়ে পরে। যে কারনে উপাচার্য, প্রক্টর, প্রভোস্টসহ বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মকর্তারা শিক্ষার্থীদের সাথে হলগুলোতে রাত কাটিয়েছেন।
অপরদিকে এর আগে গত মঙ্গলবার সরকারি ব্রজমোহন (বিএম) কলেজ ক্যাম্পাসে কোটা সংস্কারের দাবি আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা চালিয়েছে ছাত্রলীগ। আন্দোলনকারীরাও তাদের ধাওয়া দিয়ে ক্যাম্পাস দখলে নিয়েছে। এতে দুই পক্ষের সংঘর্ষে আহত হয়েছেন অন্তত ১০ জন।
