বগুড়া শহরের ধরমপুর বাজার এলাকায় একটি আবাসিক হোটেলের মালিকের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে পতিতাবৃত্তির অভিযোগ উঠেছে। সদর থানা পুলিশ বুধবার রাতে সেখানে অভিযান চালিয়ে অসামাজিক কাজে লিপ্ত থাকায় বিভিন্ন বয়সি ৯ ব্যক্তি ও যৌনকর্মীকে গ্রেফতার করেছে।
এ বিষয়ে উপশহর পুলিশ ফাঁড়ির এসআই হায়দার আলী বৃহস্পতিবার মালিক ও ম্যানেজারসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে মানবপাচার আইনে মামলা করেছেন। দুপুরে গ্রেফতার ব্যক্তিদের আদালতের মাধ্যমে বগুড়া জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, ইমাম রাসেল (৪০) নামে এক ব্যক্তি বগুড়া শহরের ধরমপুর বাজার এলাকায় একটি ভবনে ড্রিম প্যালেস নামে আবাসিক হোটেল চালু করেন। হোটেল ব্যবসার আড়ালে তিনি ব্যবস্থাপক এমদাদুল হক মিলন (৩৮) ও কেয়ারটেকার মহিদুল ইসলামের (৩৫) সহযোগিতায় দীর্ঘদিন ধরে পতিতাবৃত্তি করে আসছেন। সদর থানা পুলিশ ‘৯৯৯’ নাম্বারে ফোন পেয়ে বুধবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে সেখানে অভিযান চালায়। এ সময় মালিক ও ম্যানেজার পালিয়ে গেলেও পুলিশ কেয়ারটেকার মহিদুল ইসলাম, খদ্দের উজ্জ্বল মিয়া (২৪), রিপন মিয়া (২৫), ফারুক শেখ (২৭) ও পাঁচ যৌনকর্মীকে গ্রেফতার করে।
বৃহস্পতিবার সকালে উপশহর পুলিশ ফাঁড়ির এসআই হায়দার আলী বাদী হয়ে হোটেল মালিক, ম্যানেজার, কেয়ারটেকারসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। গ্রেফতার নয় আসামিকে দুপুরে আদালতের মাধ্যমে বগুড়া জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।
সদর থানার ওসি নুরে আলম সিদ্দিকী জানান, আগে আবাসিক হোটেল থেকে গ্রেফতার যৌনকর্মী ও খদ্দেরদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ২৯০ ধারায় মামলা দেওয়া হতো। ফলে তারা খুব সহজে সামান্য জরিমানা দিয়ে ছাড়া পেত। এখন আবাসিক হোটেল ব্যবসার আড়ালে পতিতাবৃত্তি ও পতিতাবৃত্তিতে আহ্বান জানানোর কারণে জড়িতদের বিরুদ্ধে মানবপাচার প্রতিরোধ ও দমন আইনের ১২ ও ১৩ ধারায় মামলা দেওয়া হচ্ছে।
