নিজস্ব প্রতিবেদক :: কেন্দ্রীয় পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের চার দিন পর নানা অভিযোগে ৩২ জনের পদ স্থগিত করেছে ছাত্রদল।
বৃহস্পতিবার রাতে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিবাহিতসহ তথ্য গোপনের অভিযোগ ওঠায় তাদের পদ স্থগিত করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
জানতে চাইলে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি কাজী রওনাকুল ইসলাম শ্রাবণ যুগান্তরকে বলেন, সংগঠনের কমিটি পূর্ণাঙ্গ করার আগে তারা অভিযোগ বাক্স খুলেছেন। কারো কোনো অভিযোগ থাকলে তা জমা দিতে বলেছেন। যাদের বিরুদ্ধে তখন অভিযোগ পাইনি তাদের দিয়েই কমিটি গঠন করা হয়েছে। কিন্তু এখন আবার যেহেতু অভিযোগ দেওয়া হয়েছে সেহেতু স্বচ্ছতার জন্য আবার তদন্ত করা হবে।
ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক সাইফ মাহমুদ জুয়েল যুগান্তরকে বলেন, কিছু অভিযোগ উত্থাপিত হওয়ায় তাদের পদ সংগঠন স্থগিত করেছে। অভিযোগ প্রমানিত না হলে তাদের পদ সম্মানের সঙ্গে ফিরিয়ে দেওয়া হবে। সার্বিক দিক বিবেচনা করেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
যাদের পদ স্থগিত রাখা হয়েছে তারা হলেন- সহ সভাপতি কাজী মোহাম্মদ ইলিয়াছ, যুগ্ম সম্পাদক জহিরুল ইসলাম, ইউনুচ আলী রাহুল, মো. সালাহউদ্দিন, আকন মামুন, খায়রুল আলম সবুজ, মারজুক আহমেদ, জুয়েল মৃধা, সালেহ মো. আদনান, আবুল কালাম আজাদ, সোহরাব হোসেন সুজন। সহ সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মাসুদ, মাইনুল ইসলাম সোহান, কাজী মোহাম্মদ রেজাউল করিম রাজু, এস এম ফয়সাল, কামরুজ্জামান কামরুল, মীর ইমরান হোসেন মিথুন, বাছিরুল ইসলাম রানা, আজিজুল হক জিয়ন, আরিফুর রহমান আমিন, মিজানুর রহমান মিজান, ফেরদৌস হোসেন ফয়সাল, আল মামুন, আরিবা নিশীথ। সহ সাংগঠনিক সম্পাদক আল আমিন, এম এ রহিম শেখ, শহীদুল ইসলাম নয়ন, মামুন মজুমদার, নজরুল ইসলাম রাঢ়ী। সহ আইন সম্পাদক ওয়ালিউল্লাহ, সহ পাঠাগার সম্পাদক আনিসুর রহমান আনিচ ও সহ অর্থ সম্পাদক রিয়াদ হোসেন।
গত রোববার ছাত্রদলের ৩০২ সদস্য বিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয়।
সুত্র মতে, কমিটিতে পদ বঞ্চিত নেতাকর্মীরা বুধবার কেন্দ্রীয় কমিটির কাছে লিখিত অভিযোগ করে জানান, ঘোষিত কমিটিতে সংগঠনের বেঁধে দেওয়া সময়ের আগে এসএসসি পাস করাসহ বিবাহিত ও অছাত্ররাও রয়েছেন। এসব অভিযোগের প্রেক্ষিতে ৩২ জনের পদ স্থগিত করেছে সংগঠনটির শীর্ষ নেতারা।
অভিযোগের বিষয়ে সহ সভাপতি কাজী মোহাম্মদ ইলিয়াছ বলেন, তার বিরুদ্ধে পদ বঞ্চিতরা লিখিত অভিযোগও দেননি। মূলত, ছাত্রদলের বিরুদ্ধেই ষড়যন্ত্র করার জন্য কেউ এটা করছে। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়েছে- তার শিক্ষাগত সার্টিফিকেট অনলাইনে পাওয়া যায়নি। কিন্তু ২০০৩ সালের সার্টিফিকেট তো অনলাইনে কারোরটাই পাওয়া যাবে না। তার সব সার্টিফিকেটের মূল কপি কেন্দ্রীয় নেতাদের কাছে সমর্পণ করবেন বলেও জানান তিনি।
যুগ্ম সম্পাদক সালেহ মো. আদনানের বিরুদ্ধে কেউ অভিযোগ না তুললেও তার পদও স্থগিত রাখা হয়েছে। রাগে, দুঃখে আর অভিমানে তিনি তার মোবাইল ফোন বন্ধ করে রেখেছেন বলে জানিয়েছেন একজন ছাত্রদল নেতা।
তিনি বলেন, আদনানের মতো পরিশ্রমী, ত্যাগী আর যোগ্য নেতার বিরুদ্ধে অহেতুক ষড়যন্ত্র চলছে। এটা শুধু তার জন্য নয়, পুরো সংগঠনের জন্য খুব বিব্রতকর অবস্থা।
সহ-সাধারণ সম্পাদক আজিজুল হক জিয়ন বলেন, তার বিরুদ্ধে বিবাহের অভিযোগ করা হয়েছে। কিন্তু কেউ যদি এরকম প্রমাণ দিতে পারেন তাহলে রাজনীতিই ছেড়ে দিবেন এবং যে কোনো শাস্তি মেনে নিবেন।
