চট্টগ্রাম প্রতিবেদক :: দফায় দফায় কেন্দ্রের হস্তক্ষেপের পরও চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির তৃণমূল পুনর্গঠনে গতি আসছে না। এ নিয়ে নেতাকর্মীদের মধ্যে বিরাজ করছে হতাশা। সম্প্রতি বিভিন্ন আন্দোলন কর্মসূচিতে নেতকর্মীদের ব্যাপক উপস্থিতি দেখা গেলেও সম্মেলনের মাধ্যমে নতুন কমিটি গঠন থমকে আছে। কর্তৃত্ব নিয়ে নগরীর শীর্ষ নেতাদের মধ্যে বিরোধের কারণে এই অবস্থা।
সূত্র জানায়, চট্টগ্রাম মহাগররের প্রথম সারির নেতারা একই মঞ্চে বসে সভা-সমাবেশ ও আন্দোলন কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছেন। কিন্তু তৃণমূল পর্যায়ের কমিটি গঠনের বিষয় এলেই হয়ে পড়ছেন বিভক্ত। এক পক্ষ আরেক পক্ষকে মানতে চাইছেন না। দল গোছানোর কাজে ঐক্যবদ্ধ হতে পারছেন না কোনোভাবেই। কয়েক দফায় হাইকমান্ডের হুঁশিয়ারির পর ৪৩টি সাংগঠনিক ওয়ার্ডের ১২৯টি ইউনিট কমিটি গঠন শুরু হলেও এরই মধ্যে পার হয়ে গেছে নির্ধারতি এক মাস সময়সীমা।
এই সময়ে গঠিত হয়েছে মাত্র ২০টি ইউনিট কমিটি। তৃণমূল পুনর্গঠনে কেন্দ্রের করে দেওয়া ৫টি সাংগঠনিক টিমের মধ্যে দুটি টিম গত মাস থেকে সম্মেলনের মাধ্যমে ইউনিট কমিটি গঠন শুরু করেছে। বাকি তিনটি টিম এখনো পর্যন্ত কাজে হাতই দিতে পারেনি। সাংগঠনিক টিমগুলোর মধ্যে এমএ আজিজ ও এসএম সাইফুল আলমের নেতৃত্বাধীন কমিটি কাজ শুরু করেছে। নাজিমুর রহমান, কাজী বেলাল ও এরশাদ উল্লাহর টিম এখনো কোনো কমিটি গঠন করতে পারেনি। এর মধ্যে এরশাদ উল্লাহ দেশের বাইরে থাকায় তার দায়িত্ব পালন করছেন সৈয়দ আজম উদ্দিন।
নগর বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক এমএ আজিজ বলেন, ‘ইউনিট কমিটিগুলো করতে কেন্দ্র থেকে এক মাস অর্থাৎ ১০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়েছিল। আমি চকবাজার, কোতোয়ালি ও বাকলিয়া এই তিন থানার ৩৯টি ইউনিটে সম্মেলনের মাধ্যমে কমিটি গঠনের দায়িত্বে আছি। এ পর্যন্ত ১৮টি ইউনিটে সম্মেলন করেছি। গত ২২ আগস্ট থেকে টানা প্রায় ১০ দিন দলীয় বিভিন্ন কর্মসূচি থাকায় মাঝে এই তৎপরতা কিছুটা ব্যাহত হয়েছে। এখন আবার শুরু করেছি।’
নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তৃণমূল গোছানোর প্রক্রিয়ায় নগর বিএনপির আহ্বায়ক ডা. শাহাদাত হোসেন ও সদস্য সচিব আবুল হাশেম বক্করের সঙ্গে তিনটি টিমের প্রধানদের দূরত্ব তৈরি হয়েছে। এ কারণে পুনর্গঠন কাজে বিলম্ব হচ্ছে। ইউনিট কমিটি গঠনে থানা ও ওয়ার্ড কমিটির নেতারা প্রভাব বিস্তার করতে পারেন-এমন আশঙ্কা থেকে পুরনো কমিটিগুলো ভেঙে দেওয়ার দাবি উঠেছিল।
কিন্তু শাহাদাত ও বক্কর কমিটিগুলো ভাঙতে রাজি হননি। এ নিয়ে সাংগঠনিক টিমের দায়িত্বপ্রাপ্তদের মধ্যে এখনো অসন্তোষ রয়েছে। সাংগঠনিক টিমগুলো নিজেরাই ইউনিট পুনর্গঠন কাজ করতে চেয়েছিল। কিন্তু শাহাদাত-বক্করকেও পুনর্গঠন প্রক্রিয়ায় অন্তর্ভুক্ত করে দলীয় হাইকমান্ড। এতে সাংগঠনিক টিমের দায়িত্বপ্রাপ্তরা হতাশ হয়ে পড়েন।
বায়েজিদ, পাঁচলাইশ ও চান্দগাঁও থানার সাংগঠনিক টিমের প্রধান নগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক নাজিমুর রহমান বলেন, ‘উপযুক্ত পরিবেশ সৃষ্টি না হওয়ায় বেঁধে দেওয়া সময়সীমার মধ্যে আমরা ইউনিট কমিটি গঠনের কাজ শুরু করতে পারিনি। পরিবেশ বলতে বোঝাতে চাইছি-যারা দীর্ঘদিন ধরে পকেট কমিটি করে নেতৃত্ব আঁকড়ে ধরে আছেন, তারা কৌশলে আমাদের কাজে কিছু প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছেন।
আমরা থানা ও ওয়ার্ড পর্যায়ের পুরোনো কমিটিগুলো ভেঙে দিতে বলেছিলাম। যাতে প্রভাবমুক্ত পরিবেশে তৃণমূল পুনর্গঠন করা যায়। কিন্তু আমাদের মতামত উপেক্ষা করা হয়েছে। এরপরও চেষ্টা করছি ইউনিট কমিটি গঠন শুরু করতে। যদি শেষ পর্যন্ত নাই পারি, তাহলে কেন পারিনি, তা দলের সংশ্লিষ্ট পর্যায়ে অবহিত করব।’
নগর বিএনপির সদস্য সচিব আবুল হাশেম বক্কর বলেন, ‘দলীয় কর্মসূচির কারণে মাঝে তৃণমূল পুনর্গঠনের কাজে কিছুটা ছন্দপতন হয়েছে। এখন আবার শুরু হচ্ছে। যারা এখনো ইউনিট কমিটি গঠন শুরু করতে পারেনি, আশা করছি তারা শিগগিরই তা করতে সক্ষম হবে।’
ডা. শাহাদাত হোসেনকে আহ্বায়ক ও আবুল হাশেম বক্করকে সদস্য সচিব করে নগর বিএনপির ৩৯ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়েছিল ২০২০ সালের ২৩ ডিসেম্বর। এ কমিটিকে তিন মাসের মধ্যে সম্মেলনের মাধ্যমে নতুন কমিটি করতে নির্দেশনা দিয়েছিল কেন্দ্র। তারা এ কাজে ব্যর্থ হলে চলতি বছরের মার্চে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তৃণমূল পুনর্গঠনে ৫টি সাংগঠনিক টিম গঠন করে দেন। এসব টিমও তিন মাসের মধ্যে ইউনিট কমিটি গঠন করতে ব্যর্থ হলে কেন্দ্র থেকে এ নিয়ে কঠোর অবস্থানের কথা জানানো হয়। সম্প্রতি এসকে খোদা তোতনের নেতৃত্বে একটি টিম বাড়ানো হয়েছে।
